এমসিকিউ ফর্ম্যাটে নম্বর কমেছে পড়ুয়াদের! আইসিএসই (ICSE) পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেল এমনই ঘটনা

এমসিকিউ ফর্ম্যাটে নম্বর কমেছে পড়ুয়াদের! আইসিএসই (ICSE) পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেল এমনই ঘটনা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: অতিমারি পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে ২০২০ সালের পর থেকেই নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে আইসিএসই বোর্ড (ICSE)। বর্ণনামূলক প্রশ্নের বদলে জোর দেওয়া হয়েছে অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলীতে বা এমসিকিউ (MCQ) ফর্ম্যাটে। কিন্তু আইসিএসই পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এল এক নতুন তথ্য। দেখা গিয়েছে, এমসিকিউ ফর্ম্যাটের পরীক্ষায় কমে গিয়েছে পড়ুয়াদের প্রাপ্ত গড় নম্বর!

২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা অতিমারি পরিস্থিতির জেরে আইসিএসই (ICSE) স্কুলগুলির পঠনপাঠন বন্ধ হয়েছিল। তারপর দীর্ঘদিন অনলাইনেই চলেছে পঠনপাঠন। পরীক্ষাও হয়েছে অনলাইনে। দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে খোলে আইসিএসই বোর্ডের স্কুল। এ বছর দশম শ্রেণির (10th Standard) পরীক্ষাও হয় অফলাইনে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হতে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় শিক্ষার্থীদের গড় প্রাপ্ত নম্বর হ্রাস পেয়েছে।

কিন্তু কেন ঘটলো এমন ঘটনা? জানা গিয়েছে, পরীক্ষার (Examination) প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিএসই বোর্ড (ICSE) পরিচালিত একটি স্কুলের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রায় কুড়ি মাসেরও বেশি সময় পর ছাত্রছাত্রীরা অফলাইনে পরীক্ষা দিয়েছে। মানুষ অভ্যাসের দাস। এতদিন তারা ঘরে বসে অনলাইনে পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকায় পরীক্ষা হলে বসে খাতা-কলম নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা অনভ্যাস তৈরি হয়েছে তাদের। সেই কারণেই হয়তো এই ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী বা এমসিকিউ ফর্ম্যাটের সঙ্গে পরিচিতও ছিল না তারা। এই ফর্ম্যাটটি তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। প্রশ্নপত্রের নতুন পদ্ধতিতে এমসিকিউ গুলিকে এড়িয়ে বিকল্প প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ ছিল না পড়ুয়াদের।

প্রসঙ্গত, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে কোভিডের প্রকোপ ও অতিমারি পরিস্থিতির কারণে দশম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল আইসিএসই (ICSE) বোর্ড। পরের বছর সিলেবাসের প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ডের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, পরীক্ষা হবে এমসিকিউ ফর্ম্যাটে। পরীক্ষার মোট সময়সীমা ধার্য করা হয়েছিল ৯০ মিনিট।

এ বছর কেন পরিবর্তন করা হল আইসিএসই (ICSE) পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে? আইসিএসই বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেই এমসিকিউ ফর্ম্যাটে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। দশম শ্রেণি থেকে ছাত্রছাত্রীরা এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া অভ্যাস করলে পরবর্তীকালে চাকরির পরীক্ষায় তাদের খানিক সুবিধা হতে পারে বলে মনে করছেন আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ড কর্তারা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে রাখা হয়নি অধিক প্রশ্নও। ফলে সবকটি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গড়ে ৭-৮ শতাংশ করে নম্বর কমেছে পড়ুয়াদের। অনেকের মতে, বিশ্লেষণাত্মক উত্তর লেখার পর যদি তার মধ্যে খানিক ভুলও থাকে, খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় না। নম্বরের বিশেষ হেরফের ঘটে না। কিন্তু এমসিকিউ বা অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলীর ক্ষেত্রে দু’টি-তিনটি প্রশ্নের উত্তর ভুল হলেই প্রতিযোগিতায় অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হয় এবং নম্বরও অনেকটা কমে যায়। তাই হয়তো পড়ুয়াদের প্রাপ্ত গড় নম্বরও কমেছে।

আইসিএসই বোর্ড (ICSE) এবারও প্রাথমিকভাবে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। পরে তারা অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও শিক্ষকদের একাংশের মত, ‘যারা পড়াশুনা করেছে তারা ভালো ফল করেছে। পড়ুয়ারা এমসিকিউ ফর্ম্যাটের প্রশ্নগুলি যতটা সহজ আসবে বলে ভেবেছিল, ততটা সহজ আসেনি। তাছাড়া নতুন ধাঁচে প্রশ্ন আসায় অনেকটাই বিভ্রান্ত হয়েছিল পড়ুয়ারা।’

অপর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের মতে, নতুন এমসিকিউ প্রশ্নের পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ার কারণে বহু পড়ুয়া আশানুরূপ ফল করতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে জানা প্রশ্ন ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যও পড়ুয়ারা সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। কারণ প্রশ্নগুলি দেখে পড়ুয়ারা বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিল।’ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জানিয়েছেন, ‘নতুন পদ্ধতির পরীক্ষার ব্যবস্থাকে দায়ী করে লাভ নেই। পড়ুয়ারা পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে বসলে অবশ্যই ভালো ফল হত। যে ধরনের প্রশ্ন এসেছে তা সিলেবাসেরই অন্তর্ভুক্ত। এমসিকিউ-এর সবটাই সিলেবাস থেকেই এসেছে। যারা সিরিয়াস পড়ুয়া তাদের ফল ভালোই হয়েছে।’

আইসিএসই বোর্ডের অধীন কয়েকটি স্কুলের প্রধানরা জানিয়েছেন, দশম শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টারের ফলাফলে যেসব ছাত্রছাত্রীরা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল, নতুন এমসিকিউ ফর্ম্যাটে তারা কিছুটা হলেও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এরই মধ্যে আবার কিছু পড়ুয়া ভালো ফল করেছে। দেখা গিয়েছে, যারা ভালো ফল করেছে, তাদের অনেকে পুরানো ফর্ম্যাটেও ভালো ফল করেছিল। আইসিএসই বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের চূড়ান্ত রেজাল্ট দুটি সেমিস্টারের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ে যোগ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.