প্রকাশিত হল আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষার ফলাফল

প্রকাশিত হল আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষার ফলাফল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ফল ঘোষণা করা হল আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) দশম শ্রেণির প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষার (Examination)। পরীক্ষার্থীরা আইসিএসই বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.cisce.org-তে গিয়ে ফলাফল দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে আইসিএসই বোর্ডের তরফ থেকে। ওয়েবসাইটে ইউনিক আইডি এবং ইনডেক্স নম্বর দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ফলাফল দেখতে পারবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। যদি ছাত্রছাত্রীরা কোনও বিষয়ে রিভিউ করাতে চান তবে প্রতি বিষয়ের জন্য ১০০০ টাকা করে জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড।রিচেকিংয়ের জন্য আবেদনের শেষ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টার মধ্যে। রিভিউ করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে পরীক্ষার্থীদের, এমনটাই জানানো হয়েছে।

এটি আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) দশম শ্রেণির প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষার ফলাফল (Result) প্রকাশিত হল। এর পর হবে দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা। দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে প্রথম ও দ্বিতীয় সেমেস্টারের প্রাপ্ত নম্বর গড় করে ফাইনাল রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই আইসিএসই বোর্ড (ICSE) দশম শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। তাদের নির্দেশানুযায়ী, ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হবে দশম শ্রেণির দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা। বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পাস করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের অন্তত ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতেই হবে।

কয়েকদিন আগেই একটি নির্দেশিকা জারি করে নিয়ামক সংস্থা সিআইএসসিই (CISCE)। সমস্ত স্কুলেই এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়। তাদের নির্দেশিকা মতোই বোর্ডের কেরিয়ার পোর্টাল এবং ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত করা হয়েছে। স্কুলগুলি কাউন্সিলের কেরিয়ার পোর্টালে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফলাফল দেখতে পারবে। এ ছাড়াও এসএমএস-এর মাধ্যমেও এই ফলাফল জানা যাবে। এসএমএস-এর মাধ্যমে ফলাফল জানতে হলে পরীক্ষার্থীদের আইসিএসই-আইএসসি লিখে তার পাশে ইউনিক আইডি লিখতে হবে এবং ০৯২৪৮০৮২৮৮৩ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, করোনা বিধি মেনে গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) দশম শ্রেণির প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা হয়। যদিও বোর্ডের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষা অনলাইনেও হতে পারে। কিন্তু পরবর্তীকালে অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা নিজের স্কুলে বসেই পরীক্ষা দিতে পারবে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা অতিমারি পরিস্থিতির জেরে আইসিএসই ও সিবিএসই স্কুলগুলির পঠনপাঠন বন্ধ হয়েছিল। তারপর দীর্ঘদিন অনলাইনেই চলেছে পঠনপাঠন। পরীক্ষাও হয়েছিল অনলাইনে। দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে খুলেছে আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ডের স্কুল। এরপরই অফলাইনে সিবিএসই ও আইসিএসই বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা অফলাইনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা শুনেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের বক্তব্য ছিল, করোনা পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। দেশে এখনও করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। এমতাবস্থায় অফলাইনে আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ডের দশম শ্রেণির পরীক্ষা হলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের কাছে একটি আবেদনপত্র দিয়েছিল ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু তাদের সেই দাবি খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত।

কী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট? উচ্চ আদালতের বিচারপতি এ এম খান‌উইলকরের বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, অফলাইনেই হবে সিবিএস‌ই-আইসিএস‌ই বোর্ডের পরীক্ষা। এর আগে ২০২১ সালে যখন অফলাইন পরীক্ষার বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তখন ওই মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়েছিল সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বেঞ্চে। দেশজুড়ে মোট ১৫টি রাজ্যের কয়েকশো পড়ুয়া আদালতের কাছে আবেদন জমা করেছিলেন। আবেদনে স্পষ্টই বলা হয়েছিল অফলাইন পরীক্ষার পরিবর্তে একটি বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হোক আইসিএসই-সিবিএসই বোর্ডের তরফ থেকে। দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির টার্ম-১ পরীক্ষার জন্য অফলাইন-অনলি মোডের বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একদল পড়ুয়া। আবেদনে তাঁরা বলেছিলেন, শুধুমাত্র অফলাইন মোডের পরিবর্তে হাইব্রিড মোডে টার্ম-১ পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দিক আদালত। যেখানে অনলাইন এবং অফলাইন দুইয়েরই মিশ্রণ থাকবে। আবেদনে এও বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র অফলাইন মোডে পরীক্ষা নেওয়া হলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ‘তীব্র’ হতে পারে। শুধু তাই নয়, এটা স্বাস্থ্যের অধিকার লঙ্ঘন, এমনটাও অভিযোগ করেছিলেন তাঁরা। অনলাইন পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে আবেদনে বলা হয়েছে, শারীরিক দূরত্ব সহজতর করতে এবং পরিবহন সমস্যা লাঘব করতে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ারও বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক বোর্ডকে।

গত জুলাই মাসেই আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দশম শ্রেণির শিক্ষাবর্ষকে দু’টি টার্মে বা সেমেস্টারে ভাগ করার। দু’টি টার্ম বা সেমেস্টারের মাধ্যমে দশম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল আইসিএসই-সিবিএসই বোর্ড। দুই টার্ম পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মার্কশিট তৈরি করা হবে, এমনটাই জানানো হয়েছে বোর্ডের তরফ থেকে। সেই মতোই পরীক্ষার জন্য ওএমআর শিটের নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল আইসিএসই ও সিবিএসই বোর্ডের পক্ষ থেকে। এই নমুনা বা স্যাম্পল স্কুলের ছাত্রদের অভ্যাস করানোর কথা ভেবেছিল তারা। কী ভাবে পরীক্ষা দিতে হয়, সে ব্যাপারে পড়ুয়াদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তাই এই উদ্যোগ নিয়েছিল বোর্ড। দু’টি টার্ম বা সেমেস্টারের প্রতি ভাগে রাখা হয়েছে সিলেবাসের ৫০ শতাংশ৷ সিলেবাসের বোঝা কমিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বোর্ড, কারণ করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় পরপর দু’বছর দশম শ্রেণির পরীক্ষা শুরু করেও সম্পূর্ণ করা যায়নি৷ দশম শ্রেণির প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষার পর এবার দ্বিতীয় টার্ম বা সেমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার সূচিও ঘোষণা করল আইসিএসই বোর্ড (ICSE)।

আইসিএসই বোর্ডের (ICSE) দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ইংরাজি, অর্থনীতি ও জীববিদ্যার জন্য ১ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যান্য পত্রের জন্য (যেমন গণিত ও হিন্দি) রাখা হয়েছে দেড় ঘণ্টা। দ্বাদশ শ্রেণির সব পত্রের পরীক্ষার জন্যই দেড় ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.