‘আমি দুই সন্তানের পিতা! ইউক্রেনের মাটিতে গণ বিধ্বংসীকারী অস্ত্র(Chemical Weapon) তৈরির রুশ অভিযোগ নস্যাৎ জেলেনস্কির  

Home বিদেশ-বিভূঁই ‘আমি দুই সন্তানের পিতা! ইউক্রেনের মাটিতে গণ বিধ্বংসীকারী অস্ত্র(Chemical Weapon) তৈরির রুশ অভিযোগ নস্যাৎ জেলেনস্কির  
‘আমি দুই সন্তানের পিতা! ইউক্রেনের মাটিতে গণ বিধ্বংসীকারী অস্ত্র(Chemical Weapon) তৈরির রুশ অভিযোগ নস্যাৎ জেলেনস্কির  

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ‘ধ্বংসলীলার খেলায় মাতেনি ইউক্রেন (Ukraine)। ফলে নিজেদের দেশে রাসায়নিক(Chemical Weapon)  বা অন্য কোনও গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রসম্ভার গড়ে তুলছে না ইউক্রেন। তবে রাশিয়া যদি তাঁদের বিরুদ্ধে জৈব অস্ত্র প্রয়োগ করে, তবে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যেন আরও কঠোর নিযেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে তৈরি থাকে।’ ঠিক এই ভাষাতেই রাশিয়াকে সতর্ক করলেন আক্রান্ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি (President Volodymyr Zelensky)।         

সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জৈব অস্ত্রসম্ভার(biological weapon)গড়ে তুলতে গবেষণার অভিযোগ  আনে। গত বুধবারই রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, ‘ইউক্রেন সেনারা প্রায় ৮০ টন অ্যামোনিয়া খারকিভ শহর থকে জোলোচিভে স্থানান্তর করেছে।’ অন্যদিকে গত ৬ মার্চ রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রক ট্যুইট করে জানায়, ‘আমেরিকার অর্থসাহায্যে চলা রাসায়নিক(Chemical Weapon)  এবং জৈব অস্ত্র তৈরির সংক্রান্ত গবেষণার সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছিল কিভ।  রাশিয়ার সেনারা তার প্রমাণ পেয়েছে।’

তারই জবাব দিতে গিয়ে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট(President Volodymyr Zelensky) বলেন, ‘আমি একটি দেশ, একটি রাষ্ট্রের প্রসিডেন্ট। সর্বোপরি আমি দুটি সন্তানের পিতা। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলছি রাসায়নিক(Chemical Weapon)  বা অন্য কোনও গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা আমার দেশের মাটিতে হচ্ছে না।’ শুক্রবার সকালেই নিজের বক্তব্য রেখে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনিয়(Ukraine) প্রেসিডেন্টের আরও সংযোজন, ‘গোটা বিশ্ব তা জানে। আপনারাও সে কথা জনেন। এবং রাশিয়া যদি সেরকম কিছু (Chemical Weapon) আমাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে, তার জবাব হিসেবে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে। ’

এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই, ইউক্রেনে রাসায়নিক (Chemical Weapon) ও জৈব অস্ত্রের ব্যবহারের সন্দেহ নিয়ে, আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে তুমুল ব্লেমগেম চলছে। আমেরিকার দাবি, রাশিয়া ইউক্রেনে (Ukraine) রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্রের(biological weapon) হামলা চালাতে পারে। অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনে জৈব অস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তুলতে মদত দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ওই অস্ত্রের উন্নয়ন সংক্রান্ত সব গবেষণায় টাকা ঢালছে আমেরিকা। বৃহস্পতিবারই মস্কোর তরফে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।

এক টেলিভিশন সম্প্রচারে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ দাবি করেছেন, ‘ ইউক্রেনে পেন্টাগনের আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত গবেষণার লক্ষ্যই ছিল মারাত্মক রোগজীবাণু ছড়াতে একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’ কোনাশেনকভের আরও দাবি করেন, ‘ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক-জৈব কার্যকলাপের নথি পেয়েছেন তাঁরা। এসব নথির মধ্যে ইউক্রেনের জৈব অস্ত্র উৎপাদনকারী উপাদান বিদেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।’

কোনাশেনকভের আরও মারাত্মক অভিযোগ, ‘ওয়াশিংটন এই গবেষণা(biological weapon),রোগ সংক্রামক পাখি, বাদুড়  এবং সরীসৃপের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার এবং মারণ অ্যানথ্যাক্সের জীবাণুকেও এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে রুশ বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, রাসায়নিক(Chemical Weapon)  ও জৈব অস্ত্র গবেষণার অভিযোগকে হাতিয়ার করে, ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এরপরই সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আবারও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে অভিযোগ তোলেন, ‘আমেরিকার টাকায় ইউক্রেনে গড়ে উঠছে জৈব অস্ত্র সম্ভার।’

লাভরভের আরও দাবি, ‘ইউক্রেনের মাটিতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আমেরিকা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক যেমনভাবে অতীতে রাশিয়ার সীমান্তে থাকা পূর্বতন সোভিয়েত প্রদেশগুলিতে সামরিক-জৈবাস্ত্র গবেষণাগার গড়ে তোলার কাজ করছিল।’

অন্যদিকে ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি, ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর থেকে, জৈব অস্ত্র তৈরি নিয়ে ওয়াশিংটন এবং কিভের মধ্যে টানাপোড়েন তুঙ্গে। উভয় তরফই জৈব অস্ত্র গবেষণাগারের অস্তিত্ব অস্বীকার করে আসছে।

রাশিয়া, আমেরিকার বিরুদ্ধে জর্জিয়ায় গণবিধ্বংসী জৈব অস্ত্র তৈরির অভিযোগে অনড়। জর্জিয়াও ইউক্রেনের মতোই ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্তিতে আগ্রহী। রাশিয়া ২০১৮ সালে জর্জিয়ার একটি ল্যাবে গোপনে জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল।

তবে রাশিয়ার অভিযোগ নস্যাৎ করে আমেরিকার বলেছে, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে মস্কোর অভিযোগের এটাই ইঙ্গিত যে, রাশিয়া সম্ভবত ইউক্রেনে রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রের হামলার পরিকল্পনা করছে।

মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ক্রেমলিন ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা প্রচার করছে। রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের ভয়ংকর আগ্রসনের পক্ষে মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছে।’ নেড প্রাইস অবশ্য বলেন, ‘রাশিয়ার ছড়ানো জীবাণু অস্ত্রের অভিযোগটি  ভিত্তিহীন। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে পশ্চিমি দুনিয়াকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা ক্রেমলিনের পুরনো অভ্যাস।’

বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন,হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিও। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জৈব অস্ত্র গবেষণাগার এবং ইউক্রেনে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে রাশিয়ার দাবি অযৌক্তিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া এখন এসব মিথ্যা দাবি করছে এবং মস্কোর এইসব অপপ্রচারে প্রশ্রয় দিচ্ছে চীন।রাশিয়া এসব মিথ্যা দাবি করে ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র বা রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে। তাই রাশিয়ার সম্ভাব্য এই হামলা নিয়ে আমাদের সকলের সতর্ক ও সাবধান থাকা উচিত।’

কিভের বিরুদ্ধে মস্কোর মারণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। গত রবিবার  একটি সূত্র উদ্ধৃত করে, রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘ডার্টি বম্ব’ বা পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ আনে। বলা হয়, ইউক্রেন ওই বোমা তৈরির একবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.