চর্মরোগের বিজ্ঞাপনে অস্কারজয়ী মর্গান ফ্রিম্যানের ছবি! ক্ষমা চাইল কেরলের হাসপাতাল

Home জলসাঘর চর্মরোগের বিজ্ঞাপনে অস্কারজয়ী মর্গান ফ্রিম্যানের ছবি! ক্ষমা চাইল কেরলের হাসপাতাল
চর্মরোগের বিজ্ঞাপনে অস্কারজয়ী মর্গান ফ্রিম্যানের ছবি! ক্ষমা চাইল কেরলের হাসপাতাল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একটি অ্যাকাডেমি ,একটি স্ক্রিন অ্যাক্টর্স গিল্ড এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড। মিলিয়ন ডলার বেবি-র মতো ছবি যার কেরিয়ারের অন্যতম মাইলস্টোন, ৮৫ বছরের সেই আমেরিকান অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যানকে চেনেন না এমন সিনেমোদি মানুষ মেলা ভার। শুধু অভিনেতাই নন, পরিচালক এবং কণ্ঠস্বরের জাদুতে ভাষ্যকার হিসেবেও অসীম দক্ষতার অধিকারী ফ্রিম্যান। পাঁচ দশক ধরে সেলুলয়েড দুনিয়া কাঁপানো এ হেন আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেতার ছবিই ব্যবহার করা হল এ দেশে চর্মরোগ সারানোর বিজ্ঞাপনে। হ্যাঁ! মারাত্মক এই ভুল করে এখন রীতিমতো বিপাকে কেরলের এক হাসপাতাল।

কেরলের কোজিকোড়ের ভড়াকারা কোঅপারেটিভ হাসপাতাল। এই হাসপাতালের তরফেই মর্গান ফ্রিম্যানের ছবি দিয়ে বড় করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালের বাইরে বড় ব্যানার টাঙিয়ে, এই বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয় যাবতীয় চর্মরোগ সারিয়ে তুলতে হাসপাতালের চিকিৎসা অব্যর্থ।

ফ্রিম্যানের ছবির তলায় লেখা ছিল, স্কিন ট্যাগ, আঁচিল, জড়ুল থেকে সবধরনের ছোঁয়াচে চর্মরোগের চিকিৎসার একমাত্র গন্তব্য এই হাসপাতাল। যেখানে সহজ পদ্ধতির চিকিৎসায় একবার আসলেই হাতেনাতে ফল মেলে।

হাসপাতালের বাইরে টাঙানো থাকায় অনেকেরই সেই বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে যায়। আর তারপরই একজন অভিনেতার ছবির অবমাননাকর ব্যবহার নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই ট্যুইটারে ক্ষমা চেয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার টি সুনীল দোষ স্বীকার করে সাফাই দেন, নেহাতই অজ্ঞতাবশত এই ভুল হয়েছে। বর্ণ বৈষম্যের কোনও ইস্যু এখানে নেই।

এরপর সংবাদমাধ্যমকেও তিনি জানান, ‘এই ছবি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি ব্যানারটি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু মারাত্মক ভুলটি চোখে পড়ার পর শনিবারের মধ্যেই তা সরিয়ে ফেলা হয়। হাসপাতালের ফেসবুক পেজেও ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে। মহান অভিনেতাকে অসম্মান করার কোনও অভিপ্রায় আমাদের ছিল না।’

হাসপাতালের তরফে ক্ষমা চাওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। জল গড়িয়েছে অনেক দূর। ট্যুইটারের বেশ কয়েকজন ইউজার আবার ছবি সহ গোটা ঘটনার বিবরণ স্বয়ং ফ্রিম্যানকে ট্যাগ করে দেন। একাধিক চিত্র সমালোচক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অজ্ঞতার তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে একজন অস্কার জয়ী অভিনেতার কৃতিত্বের কথা কীভাবে কেউ খেয়ালই করলেন না, শুধুমাত্র কৃষ্ণকায় অভিনেতার চামড়ার রংই তাদের কাছে একমাত্র বিবেচ্য হয়ে উঠল!

লেখক শ্রী পার্বতী তাঁর ফেসবুক পেজে এই ঘটনায় রীতিমতো ধিক্কার দিয়ে লেখেন, ‘রাজ্যের অতি প্রসংশিত সমবায় ক্ষেত্রের জন্য হাসপাতালের এই কীর্তি, একটা কালো দাগ হয়ে রয়ে গেল। যাঁরা ইন্টারনেট থেকে মর্গানের ছবি নামিয়েছেন, তাঁরা অস্কার জয়ী অভিনেতাকে যে চেনেন না তা স্পষ্ট। শুধুমাত্র চামড়ার রং, তাঁর মুখাবয়বের কয়েকটি ফুসকুড়ি এবং আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণেই তাঁর ছবি বেছে নেওয়া হল!’

Leave a Reply

Your email address will not be published.