হিজাব আমাদের অধিকার, কর্নাটকে কলেজে বিক্ষোভ চরমে ওঠায় টুইটারে সরব ছাত্রীরা

Home দেশের মাটি হিজাব আমাদের অধিকার, কর্নাটকে কলেজে বিক্ষোভ চরমে ওঠায় টুইটারে সরব ছাত্রীরা
হিজাব আমাদের অধিকার, কর্নাটকে কলেজে বিক্ষোভ চরমে ওঠায় টুইটারে সরব ছাত্রীরা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ফের হিজাব পরে কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি শাসিত কর্নাটকের উদুপিতে। উদুপি জেলার কুন্দাপুরে সরকারি কলেজে মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে পৌঁছলে এদিন তাঁদের কলেজের গেটে থামিয়ে দেন অধ্যক্ষ। এর আগেই অবশ্য কলেজের আদেশনামার বিরোধিতা করে কর্নাটক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন এক পড়ুয়া। এই অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব পড়ুয়ারা। হিজাব আমাদের অধিকার। টুইটারে এইভাবেই আওয়াজ তুলেছেন মুসলিম ছাত্রীরা। টুইটারে আলোড়ন তোলে এই পোস্ট, যেখানে বলা হয়, সারা বিশ্ব দেখছে। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিজাব পরায় মুসলিম মেয়েদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনার সূত্রপাত গতবছর ডিসেম্বর থেকে। কর্নাটকে বিভিন্ন কলেজে হিজাব পরায় মুসলিম পড়ুয়াদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। আফগানিস্তানে তালিবানরা মেয়েদের শিক্ষার বিরোধী। এই নিয়েও টুইটারে গলা চড়ান মেয়েরা।
কর্নাটকের একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া মেয়েদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হচ্ছে, সেই নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই বিশেষ হ্যাশট্যাগের অধীনে তারা সরব হয়। এখানে এক ভিডিও পোস্ট করে তাতে বলা হয়, হিজাব হিংসার প্রতীক নয়। হিজাব আমাদের গর্ব। হিজাব স্বাধীনতার প্রতীক, দমন পীড়নের নয়। হিজাব মানে আধুনিকতা।

ছাত্রীরা কলেজে গেলে অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন ক্লাসে হিজাব পরার অনুমতি নেই। হিজাব খুলে কলেজে প্রবেশ করতে হবে বলেও জানান তিনি। যদিও ছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তর্ক হয় অধ্যক্ষের। ছাত্রীরা বলে সরকারি আদেশে তাঁদের কলেজের নাম উল্লেখ নেই। পাল্টা অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি আদেশ রাজ্যের সব কলেজেই লাগু। বুধবার হিজাব পরা নিয়ে কর্নাটকের কলেজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রায় ১০০ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রী ক্লাসে গেরুয়া শাল জড়িয়ে আসে। হিজাব পরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। এদিন অবশ্য় এই ধরনের কোনও প্রতিবাদ দেখা যায়নি। কুন্দাপুরের বিধায়ক শ্রীনিবাস শেট্টি মুসলিম ছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেছিলেন বুধবার। যদিও সেখানে ঐক্যমত্য হয়নি। অভিভাবকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন ছাত্রীদের হিজাব পরার অধিকার রয়েছে। আপাতত নির্দেশিকা বহাল থাকবে রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী তথা উদুপি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এস আঙ্গারা জানিয়েছেন, ক্লাসরুমের ভিতরে হিজাব না পরার রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা আপাতত বহাল থাকবে। সরকার এব্যাপারে নিযুক্ত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, সবাইকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোড বজায় রেখেই চলতে হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের ড্রেস কোড থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

হিজাব পরা নিয়ে এই বিতর্ক নতুন কিছু নয় কর্নাটকে। সরকারি নির্দেশিকার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন এক ছাত্রী। গতমাস থেকেই হিজাব পরা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে কর্নাটকের উদুপিতে। আদালতে যাওয়া ছাত্রীর দাবি, হিজার পরা তাঁর মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কেননা সংবিধানের ১৪ ও ২৫ নম্বর ধারায় ইচ্ছা মতো পোশাক পরার এবং ইচ্ছা মতো ধর্মাচরণের কথা বলা রয়েছে। এর আগেও উদুপির সরকারি কলেজে হিজাব পরা ছাত্রীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ওইসব ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কলেজের পোশাকের বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনে এও বলা হয়েছে এই ধরনের বিতর্ক এইসব ছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করছে।

প্রশ্ন উঠছে, মেয়েরা যদি হিজাব পরে কলেজে ঢুকতে না পারে তাহলে গেরুয়া চাদর জড়িয়ে ছেলেদেরও কলেজে ঢুকতে দেওয়া উচিৎ নয়৷ কর্নাটকের পুলিসমন্ত্রী আরাগা জনেনন্দ্র এতে সহমত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ধর্ম প্রদর্শনের জায়গা নয়৷ ধর্ম প্রদর্শনের জন্য চার্চ, মন্দির ও মসজিদ রয়েছে৷ স্কুলে ঢোকার পর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই সংস্কার গড়ে ওঠা উচিৎ যে আমরা সবাই ভারত মাতার সন্তান৷ তাঁর নিদান, রাজ্যের কোনও স্কুলেই হিজাব বা গেরুয়া চাদর পরে ঢোকা যাবে না৷ একই বক্তব্য রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বি সি নাগেশের৷ তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হোক আমরা তা চাই না৷ এটা একটা পবিত্র জায়গা এবং প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী এখানে সমান৷ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় চিহ্নবহনকারী কিছু পরা চলবে না৷

১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব হিজাব দিবস হিসাবে পালন করা হয়। প্রতিবাদী ছাত্রীদের একজন, আলিয়া আসাদি, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বলেছেন, মেয়েরা হিজাব পরে কলেজে আসবে৷ এটা তাঁদের ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার। বিজেপি বিধায়ক রঘুপতি ভাট বলেছেন, পুলিসকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে৷ বাইরের কোনও ব্যক্তিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই প্রতিবাদ তাদের পড়াশোনার ক্ষতি করছে৷ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি হিজাব ছাড়া ক্লাসে আসার সিদ্ধান্ত নিলে তবেই কলেজে আসা যাবে। কলেজ প্রাঙ্গণে এসে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার মানে হয় না৷ আর ২ মাস পর পরীক্ষা৷ অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আসছে, বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও হিন্দু সংগঠন পরিদর্শন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.