পোস্টারে ‘অখণ্ড রাশিয়া’র পক্ষে সওয়াল! ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন হিন্দু সেনার(Hindu Sena )          

Home বিদেশ-বিভূঁই পোস্টারে ‘অখণ্ড রাশিয়া’র পক্ষে সওয়াল! ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন হিন্দু সেনার(Hindu Sena )          
পোস্টারে ‘অখণ্ড রাশিয়া’র পক্ষে সওয়াল! ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন হিন্দু সেনার(Hindu Sena )          

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War)বন্ধে আলোচনার পথে মীমাংসার কথা বললেও, এখনও কূটনৈতিক স্তরে নিরপেক্ষ ভূমিকা বজায় রেখেছে দিল্লি। কিন্তু সেই ভারতের মাটি থেকেই এবার ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পক্ষে খুল্লম খুল্লা সমর্থন কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের। অখণ্ড রাশিয়ার(Akhand Russia) পক্ষে সওয়াল করে এবার পোস্টার দিল হিন্দু সেনা(Hindu Sena)

বিনা প্ররোচনায় ইউক্রেনের ওপর হামলা চালাচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনী(Russia-Ukraine War)। যার প্রেক্ষিতে পশ্চিমী দুনিয়ায় এখন এক প্রকার কোণঠাসা মস্কো। ভারতও আগ্রাসনে সায় না দিয়ে, আলোচনার পথে মীমাংসার কথা বলে চলেছে। অথচ বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গিয়ে, রাশিয়ার দাবি মতো ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠন’ করার চেষ্টাকে স্বাগত জানাল ভারতেরই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সেনার(Hindu Sena)। আর এই পোস্টার পরল খোদ দেশের রাজধানী দিল্লিতে। দিল্লির মান্ডি হাউজের সামনে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত রুশ কবি ও উপন্যাসিক আলেকজান্ডার পুশকিনের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি। সেই মূর্তির স্তম্ভেই সাঁটিয়ে দেওয়া হয় রুশ অভিযানের পক্ষে সমর্থনকারী হিন্দু সেনার(Hindu Sena) দুটি পোস্টার। এই মুহূর্তে পোস্টার দুটি ভাইরাল হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। ভাইরাল হওয়া ছবি আর ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পোস্টার দুটিতে লেখা আছে, ‘ভারতের হিন্দুরা রাশিয়ার পক্ষেই। তারা সমর্থন জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin)। একইসঙ্গে হিন্দু সেনা(Hindu Sena)তরফে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়ার তরফে ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠনের চেষ্টাকে।’ পাশাপাশি আরও একটি পোস্টারে স্পষ্ট লেখা ‘জয় হো  অখন্ড রাশিয়া(Akhand Russia), জয় ভারত।’ জাতীয় ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্দু সেনার (Hindu Sena) সর্বভারতীয় সভাপতি বিষ্ণু গুপ্ত বলেছেন অ-সহযোগী রাষ্ট্রগুলির থেকে নিজের  সীমান্ত রক্ষা করতে রাশিয়া যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাঁদের সংগঠন তাতে কোনও অন্যায় দেখছে না এবং পুতিনের(Vladimir Putin ) সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করছে। এই পোস্টারের প্রেক্ষিতে নতুন দিল্লি পুর নিগমের ভাইস চেয়ারপার্সন সতীশ উপাধ্যায়ের বক্তব্য, পুশকিনের যে মূর্তিতে বিতর্কিত পোস্টার দু’টি সাঁটানো হয়েছে, তা সরকারি সম্পত্তি এবং সেটিকে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নিজস্ব মতামত প্রতিফলনের জন্য ব্যবহার করা যায় না। একইসঙ্গে উপাধ্যায় জানিয়েছেন বিষয়টি এখনই তাঁর গোচরে এসেছে। তবে হিন্দু সেনার((Hindu Sena) নামোল্লেখ না করে বলেছেন,পুর আধিকারিকরা এই আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। এ ধরনে ঘটনা তাঁরা বরদাস্ত করবেন না।

উল্লেখ করা যেতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের(Russia-Ukraine War) প্রেক্ষিতে খুব কম করে হলেও, গত সাত দিনে দশ লক্ষ মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ইউক্রেনের বধ্যভূমি থেকে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের স্থানান্তর, ‘এই শতকের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট’ তৈরি  করতে চলেছে। প্রসঙ্গত রাষ্ট্রসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের তরফে সদ্য প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-র শেয পর্যন্ত ইউক্রেনের নাগরিক সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার কোটি। তার মধ্যে দু’ শতাংশেরও বেশি বেশি মানুষ গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধের আভাস পেয়ে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য রাষ্ট্রের শরণ নিয়েছেন। আর রাশিয়ার যুদ্ধ ঘোষণার পর এই ছবিটা আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যা আশঙ্কা করা হয়েছিল তার তুলনায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাথমিক ধারণা ছিল ৪০ লক্ষের মতো মানুষ হয়তো যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন(Russia-Ukraine War) ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেবেন। তবে সেই ধারণাও এখন অমূলক প্রমাণিত। মানুষের বহিঃপ্রবাহের সেই গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।

প্রসঙ্গত ইউক্রেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের সংখ্যা, বিশেষ করে সেখানে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়াদের সংখ্যা দিল্লিকে শঙ্কায় রেখেছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া যখন তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সামরিক অভিযান শুরু করল, তখন থেকেই বিপন্ন ভারতীয় পড়ুয়ারা। রুশ মিসাইল ও বোমা হামলার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বহু ছাত্রছাত্রীর এখন একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল, হয় বাঙ্কার বা বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টের বেসমেন্ট। সেখান থেকেই কোনওরকমে নিজেদের অবস্থার ছবি তুলে ধরছেন পড়ুয়ারা। আলো আঁধারি ঘুপচি এক চিলতে জায়গায় অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। নেই তেষ্টা মেটানোর সামান্য জলও। খাবার আনতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো নবীন শেখরাপ্পার মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের আরও আতঙ্কিত করেছে।এই মুহূর্তে দিল্লির কাছে তাদের একটাই আর্জি যেভাবে হোক নিজের দেশে ফিরতে চান তারা,সরকার ব্যবস্থা নিক। অনেক ছাত্র-ছাত্রী আবার জানিয়েছেন তাদের চরম হেনস্থা ও নির্যাতনের কথা। নির্যাতনের সেই ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরছেন। এরকম একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বাঙ্কার, রেলস্টেশন, সীমান্ত চৌকিতে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। অনেকে জানিয়েছেন সীমান্তে পৌঁছানোর জন্য ট্রেনে চড়তে দেওয়া হচ্ছে না, ধাক্কা মেরে ট্রেনের বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে । এই প্রেক্ষিতে দিল্লি জানিয়েছে, এই ক’দিনে কমপক্ষে ৯০০০ ভারতীয় নাগরিককে বিশেষ বিমানে ইউক্রেন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সম্প্রতি রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দখলে থাকা ইউক্রেনের ডোনবাস অঞ্চলের ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয় রাশিয়া। ফলে ক্রিমিয়ার পর আবারও বিভক্ত হয় ইউক্রেন। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ।

অর্থাৎ কার্যত ইউক্রেন দখলের পথেই হাঁটে মস্কো। রাশিয়ার প্রেসি়ডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের(Russian President Vladimir Putin) যুক্তি, রাশিয়া চাইছে ইউক্রেনের মধ্যে অস্ত্রবিরতি ঘটাতে। পাশাপাশি, ইউক্রেনে নাৎসিদের প্রভাব দেখা দিয়েছে। সেই নাৎসিকরণ রুখতেই এই অভিযান। পুতিনের সবুজ সঙ্কেতের পরই ইউক্রেনের উপরে আক্রমণ শুরু করে রুশ সেনা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.