গোয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি, সৈকত রাজ্যে সহযোগীদের দৌলতে খাতা খুলল তৃণমূলও

Home দেশের মাটি গোয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি, সৈকত রাজ্যে সহযোগীদের দৌলতে খাতা খুলল তৃণমূলও
গোয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি, সৈকত রাজ্যে সহযোগীদের দৌলতে  খাতা খুলল তৃণমূলও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  ত্রিশঙ্কু বিধানসভার পূর্বাভাসকে নস্যাৎ করে, গোয়ায়(Goa Election 2022) এবার অনায়াসেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে এল বিজেপি(BJP)। তবে গেরুয়া শিবিরের আসন সংখ্য়া ম্যাজিক ফিগারের থেকে এখনও দুটি কম। গোয়া বিধানসভায়(Assembly) আসনসংখ্যা ৪০। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন মাত্র ২১টি আসন। এ পর্যন্ত গোয়ার ট্রেন্ড বলছে বিজেপি ১৯, কংগ্রেস+ ১২, তৃণমূল+৩, আপ+ ৩(AAP) এবং অন্যান্যরা ৩ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে গোয়ায় এইবার বাংলার মানুষের নজর রয়েছে। কারণ গোয়ায় নির্বাচনের আগে নতুন করে ঘুঁটি সাজিয়েছিল তৃণমূল।

এদিকে জয়ী তিন নির্দল প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে, গোয়ায় সরকার গঠনের দাবি জানাতে চলেছে বিজেপিও(Bharatiya Janata Party। গেরুয়া শিবিরের প্রতিনিধিরা আজই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে রাজভবনে বার্তা পাঠিয়েছেন।  অন্যদিকে গোয়ায় (Goa Election 2022) বিজেপি ক্ষমতা দখলের পথে এগোলেও, সরকার গঠনের ব্যাপারে কংগ্রেস এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে, ভোট গণনার আগেই রাজ্যপাল পিএস শ্রীধরনের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। বেলা তিনটে নাগাদ রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে সোনিয়া গান্ধির দল ৷ যদিও এ ব্যাপারে রাজভবনের কোনও সম্মতি মিলেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস নিশ্চিত যে গোয়ায়(Goa Election 2022) তারাই ক্ষমতায় আসছে ৷ ২০১৭ সালের নির্বাচনের থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা আগাম রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে বলে সূত্রের খবর। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের তুলনায় কম সংখ্যক আসন জিতেও ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিতে সক্ষম হয় বিজেপি(BJP) ৷ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তারা জোট বাঁধে মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি ও নির্দল বিধায়কদের সঙ্গে ৷ উল্টোদিকে সর্বাধিক আসন পেয়েও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস(Congress)।

 সোমবারের এক্সিট পোলে অবশ্য আজকের ফলাফলের প্রতিচ্ছবি কিছুটা ধরা পড়ে। প্রায় সব বুথ ফেরত সমীক্ষায় গোয়া সহ চার রাজ্যে এগিয়ে রাখা হয় গেরুয়া শিবিরকে ৷ ছোট রাজ্য হলেও গোয়াতে রয়েছে বিশেষ নজর ৷ এই প্রথম গোয়া থেকে নির্বাচনে(Goa Election 2022) লড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ এবার গোয়ায় কী ‘কিং মেকার’ হয়ে উঠবে তৃণমূল কংগ্রেস ? কারণ ইতিমধ্যেই সরকার গড়তে সম্ভাব্য কোনও জোটের ইঙ্গিত দিয়ে তৃণমূলের দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে কংগ্রেস। উল্লেখ করা যেতে পারে, গত বছর থেকেই গোয়ার দিকে চোখ পড়ে তৃণমূলের। অন্য দলের নেতা নেত্রী ভাঙিয়ে নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল বাংলার শাসকদলের বিরুদ্ধে। এইবার সেই তৃণমূল কংগ্রেস গোয়ায় নিজের জায়গা কতটা জায়গা করে নিতে পারল তার দিকে নজর ছিল সকলের।

গোয়ায় বিধানসভাকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০। বুথ ফেরৎ সমীক্ষা বলছে এবারে গোয়াতে(Goa Election 2022) হাডডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে কংগ্রেস(Congress) ও বিজেপির(BJP) মধ্যে। সেক্ষেত্রে গোয়ায়(Assembly) ৪০টি আসনের মধ্যে ১৫ থেকে থেকে ২০টি পেতে পারে কংগ্রেস। বিজেপি পেতে পারে ১৪ থেকে ১৮টি আসন। ২ থেকে ৫টি আসন পেতে পারে মহারাষ্ট্র গোমন্তক পার্টি বা এমজিপি ও তার সহযোগী দলগুলি। প্রসঙ্গত এই এমজিপি-র সঙ্গেই এবার জোট বেঁধে নির্বাচনী লড়াইতে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ০ থেকে ৪টি আসন পেতে পারে অন্যান্যরা। 

গোয়ায় ত্রিশঙ্কু সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। ত্রিশঙ্কু বিধানসভায় এগিয়ে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পারে কংগ্রেস। ফলে সামান্য ব্যতিক্রমেই একক বৃহত্তম দল হয়ে ওঠার লড়াই এবারও বিজেপি বনাম কংগ্রেসের মধ্যে। সম্ভাব্য ভোটের হারেও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি। বুথ ফেরত সমীক্ষায় আলাদা করে তৃণমূলের ভোট শতাংশ পাওয়া যায়নি। তবে এই অন্যান্যদের ভোটের মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের অংশও। তবে সেটা কত শতাংশ তা স্পষ্ট হয়নি। সেটা নিয়ে কাঁটা-ছেঁড়া চলছে। তবে নির্বাচনে খুব খারাপ ফলাফল করবে না তৃণমূল, এমন সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

ভোট বিশ্লেষকরা আগেই বলে রেখেছেন, কয়েকটি আসন পেলেই গোয়ায় তৃণমূল এবার ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হতে চলেছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী তৃণমূল পেতে পারে ৫ থেকে ৯টি আসন। গোয়া ত্রিশঙ্কু হলে তারাই হয়ে উঠবে কিংমেকার। মাত্র তিন মাস আগে গোয়ায় পথ চলা শুরু করেছিল তৃণমূল। তিনমাসেই মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে জোট করে তৃতীয় স্থানে উঠে আসছে তৃণমূল। হয়ে উঠছে গোয়ার ডিসাইডিং পার্টি। এর আগে ২০১২ সালে গোয়ায় ভোট যুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিল তৃণমূল। তারপর ফের এবার ভোটের লড়াইতে অন্যতম মুখ তৃণমূল। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি, গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি কতটা সাফল্যে পাবে তা নিয়েও চর্চা তুঙ্গে।

তবে এবারের গোয়া বিধানসভা ভোট((Goa Election 2022) বিজেপির জন্য লিটমাস টেস্ট। চারবারের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের মৃত্যুর পর গোয়াতে এটাই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম নির্বাচন। বিজেপি ভোটারদের মন জয় করার জন্য উন্নয়ন এবং পারিকরের উত্তরাধিকারের ভোটের উপর নির্ভর করছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি এক দফায় ভোট হয়েছে গোয়ায়। এবার মোট ৩০১ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং ১১ লাখেরও বেশি ভোটার উপকূলীয় রাজ্যে পরবর্তী সরকার নির্বাচন করতে তাদের ভোট দিয়েছেন। আম আদমি পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলি এবার গোয়ায় মাটি পেতে প্রার্থী দিয়েছে ও প্রচার চালিয়েছে। গোয়াতে ছোট আঞ্চলিক দলগুলিরও বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, এমজিপি, গোয়া ফরোয়ার্ড পার্টি (জিএফপি)-র মতো দলগুলিও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

গোয়ায় ২০১৭ সালে কংগ্রেস ১৭টি ও বিজেপি ১৩টি আসন পায়। তবে সরকার গড়ে বিজেপিই। সেবার বিজেপির ভোট ছিল ৩২.৪৮ শতাংশ। এমজিপি-র প্রাপ্ত ভোট ছিল  ১১.২৭শতাংশ। ৬.২৭শতাংশ এবং ২.২৮ শতাংশ ভোট পায় যথাক্রমে আপ এবং এনসিপি। মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি ও গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি তিনটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। আর নির্দল ও অন্যান্যরা পেয়েছিল ৪টি আসন। বিজেপি ভোটে হেরেও ক্ষমতা ধরে রেখেছিল সৈকত-রাজ্য গোয়ায়।

কংগ্রেস জিএফপি-এর সঙ্গে প্রাক-নির্বাচন জোট তৈরি করে নির্বাচন লড়েছে। আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, এমজিপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করেছে। শিবসেনা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি জোট বেঁধে গোয়াতে লড়াই করেছে৷ অন্যদিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ এবং বিজেপি এবারের গোয়া বিধানসভায় একক শক্তিতে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়৷ গোয়ার নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান তিনটি প্রধান বিষয় ছিল দুর্নীতি, খনি ও উন্নয়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.