বিপিন রাওয়াতের চপার দুর্ঘটনায় অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব খারিজ করল সেনা

Home দেশের মাটি বিপিন রাওয়াতের চপার দুর্ঘটনায় অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব খারিজ করল সেনা
বিপিন রাওয়াতের চপার দুর্ঘটনায় অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব খারিজ করল সেনা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক সিডিএস বিপিন রাওয়াতের চপার দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও অন্তর্ঘাত নেই।   ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এড়িয়ে পেশ হল তদন্ত রিপোর্ট। তিন বাহিনীর উদ্যোগে তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা পড়ল এদিন। কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা অন্তর্ঘাত নয়, আচমকা আবহাওয়া পরিবর্তনে কপ্টারের মধ্যে মেঘ ঢুকে যাওয়াতেই বিপত্তি। হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে দেশের অন্যতম সেরা হেলিকপ্টার পাইলট এয়ার মার্শাল মানবেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে সেনাবাহিনীর তিন শাখা ৷

৮ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর কুন্নুরের কাছে কপ্টার ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় সিডিএস বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত সহ অভিশপ্ত চপারে ১৩ জন যাত্রীর।সুলুর এয়ারবেস থেকে ডিফেন্স সার্ভিস স্টাফ কলেজ, ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সস্ত্রীয় সিডিএস রাওয়াত।

দুর্ঘটনার আসল কারণ অন্তর্ঘাত না কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, প্রতিকূল আবহাওয়া, পাইলটের উদাসীনতা, সব সম্ভাবনাই বার বার উঠে আসে আলোচনায়। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে এই দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট করে দেওয়া হল। এক বিবৃতিতে বায়ুসেনা জানিয়েছে,‘অপ্রত্যাশিতভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তনে মেঘের মধ্যে কপ্টার ঢুকে যেতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ বিবৃতিতে বায়ুসেনা জানিয়েছে, পাইলটের বিভ্রান্ত অবস্থা অর্থাৎ ‘স্প্যাসিয়াল ডিসওরিয়েন্টেশন’ এর জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। কন্ট্রোলড ফ্লাইট ইনটু টেরেইন-কেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোনার পরিভাষায় ‘কন্ট্রোলড’ শব্দের অর্থ- আকাশযানের উপর পাইলটের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে, তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দেশের প্রথম সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াতের কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, জেনারেল রাওয়াতের কপ্টার দুর্ঘটনায় ‘কোর্ট অফ ইনকোয়্যারি’ যাবতীয় অন্তর্ঘাত ও উদাসীনতার তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বায়ুসেনার তরফে যে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সিডিএস বিপিন রাওয়াতের কপ্টার দুর্ঘটনার নেপথ্যে, পাইলটের ক্ষণিক দিশাহারা অবস্থাকেই দায়ী করা হয়েছে। দুই পাইলটের এই অবস্থার জন্যই কপ্টার ধাক্কা খায় পাহাড়ে। মনে করা হয়, সেদিন সিডিএস-এর উড়ান যে পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে পড়েছিল, তাতে পরিস্থিতির কথা খুব আগে থেকে আঁচ করা পাইলটের পক্ষে সম্ভব হয় না। যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, তখনই তা বোধগম্য হয়। মূলত, রিপোর্ট বলছে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমান মেঘের মধ্যে প্রবেশ করতেই সমস্যা তৈরি হয়। নিজের বিবৃতিতে বায়ুসেনা জানিয়েছে, তদন্তকারী দল কপ্টারের ডেটা রেকর্ডার আর ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করেই মূলত এই সিদ্ধান্তে এসেছে। এছাড়াও নীলগিরি পাহাড়ের কোলে কুন্নুরের জঙ্গলের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার পরে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.