লাড্ডু-ক্ষীরে মিষ্টিমুখ! ফুলমালায় ট্র্যাক্টর সাজিয়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ কৃষকদের

Home দেশের মাটি লাড্ডু-ক্ষীরে মিষ্টিমুখ! ফুলমালায় ট্র্যাক্টর সাজিয়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ কৃষকদের
লাড্ডু-ক্ষীরে মিষ্টিমুখ! ফুলমালায় ট্র্যাক্টর সাজিয়ে ‘ঘর ওয়াপসি’ কৃষকদের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: অবস্থান-আন্দোলন তুলে নেওয়ার ঘোষণা হয়েছিল বৃহস্পতিবারই। এবার শনিবার থেকে বিজয় মিছিল করে দিল্লির সিঙ্ঘু, টিকরি ও গাজিয়াবাদ সীমান্ত থেকে ঘরে ফেরা শুরু করলেন প্রতিবাদী কৃষকরা। শনিবারের সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বিজয় উৎসব। লাড্ডু ও ক্ষীর দিয়ে মিষ্টিমুখ করে ‘ঘর ওয়াপসি’। গাজিপুর, সিংঘু, টিকরি সীমানার তাঁবু গোটানো শুরু হয়ে গিয়েছে। একে একে রাজধানী ছাড়ছে বহু ট্র্যাক্টর।

শুক্রবার সকাল থেকেই পুরোদমে চলেছে এক বছরের সংসার গোটানোর পালা। সারি সারি ট্রাক্টর-ট্রলিতে উঠতে শুরু করেছে প্যাকিং করা বাক্স। ট্রাক্টর-ট্রলিগুলিও ফুল, মালায় সেজে উঠেছে রথের মতো। লাগানো হয়েছে ঢাউস ঢাউস সাউন্ড সিস্টেম। আনন্দের আতিশয্যে বাড়ি ফেরার পথে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে যায়, তাই দিল্লি পুলিসকে জারি করতে হয়েছে বিভিন্ন নির্দেশিকা। সরকারি ক্ষমতার সঙ্গে লড়াইয়ে বিজয়ী কৃষকরা যখন ট্র্যাক্টরে চড়ে ঘরে ফিরবেন, তখন তাঁদের যাত্রাপথ জুড়ে থাকবে স্বাগত জানানোর বিশেষ ব্যবস্থা। জায়গায় জায়গায় সংবর্ধনা দেওয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সিঙ্ঘু সীমানায় যাঁরা অবস্থান করছিলেন তাঁরা কুন্ডলি-মানেসার-পালওয়াল এক্সপ্রেসওয়ের কাছে জমায়েত হয়ে বিজয় উৎসব পালন করেন। ভাংড়া এবং স্লোগান দিতে দেখা যায় কৃষকদের। তার পর ট্র্যাক্টরে করে পঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। টিকরি সীমান্তে অবস্থানকারী কৃষকরা বাহাদুরগড়ের কিসান চকে সকাল ৯টায় জমায়েত হন। যাঁরা গাজিয়াবাদ সীমানায় আন্দোলন করছিলেন তাঁরা সকাল ৯টায় মূল মঞ্চের সামনে জমায়েত হয়ে বিজয় মিছিল বার করেন। প্রতিবাদ চলাকালীন অবস্থানস্থল ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছিল পুলিস। সেই ব্যারিকেড তুলে নেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যেই কৃষকরা এলাকা ফাঁকা করতে শুরু করেছেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের বড় অংশ রবিবার সকাল ৮টা থেকে তাঁবু গুটিয়ে নিয়ে নিজেদের ঘরের উদ্দেশে রওনা দেন। সীমান্তগুলি পুরো খালি করতে অন্তত তিন-চার দিন সময় লাগবে।’ টিকায়েতের আশা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সব এলাকাগ আবার পুরনো চেহারায় ফিরে আসবে। আর সকলে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরই ১৫ তারিখ সকালে ফিরবেন কৃষক নেতারা।

এক বছরের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে সংযু্ক্ত কিষাণ মোর্চার প্রথম সারির নেতা পি কৃষ্ণপ্রসাদের কথায়, ‘যেদিন আমরা এসেছিলাম, সেদিন রাষ্ট্র লাঠি দিয়ে বরণ করেছিল। ফেরার সময় সবাই ফুল দিয়ে বিদায় জানাবে। এটাই পার্থক্য। এই দু’টো ছবিই যা বলার বলে দিচ্ছে। মোদির অশ্বমেধের ঘোড়ায় আমরাই লাগাম লাগালাম। প্রমাণ করে দিলাম সত্যের কাছে কোনও কিছুই অটল নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.