সাপ ধরার জাদুকরকে কাল কেউটের দংশন! সঙ্কটজনক ভাভা সুরেশের আরোগ্য প্রার্থনায় গোটা দেশ

Home দেশের মাটি সাপ ধরার জাদুকরকে কাল কেউটের দংশন! সঙ্কটজনক ভাভা সুরেশের আরোগ্য প্রার্থনায় গোটা দেশ
সাপ ধরার জাদুকরকে কাল কেউটের দংশন! সঙ্কটজনক ভাভা সুরেশের আরোগ্য প্রার্থনায় গোটা দেশ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ২০১৩ সালে ভারত সফরে এসে ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে ‘জীবন্ত বিস্ময়’ বলে অভিহিত করেন। চার্লস সেই মানুষটিকে অবাক বিস্ময়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘একটি কাল কেউটের ছোবল খেলে বিশালাকার হাতিরও আধঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত। সেখানে তুমি খালি হাতে কীভাবে এই বিষধর সাপগুলিকে ধরে ফেলো? তুমি সত্যিই একজন জীবন্ত বিস্ময়!’ যাঁর উদ্দেশে প্রিন্স চার্লস সেদিন এই কথাগুলো বলেছিলেন, তিনি কেরলের কোট্টায়ামের বাসিন্দা ভাভা সুরেশ। আজ যাঁর আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছে গোটা কেরল। কারণ যে সাপ ধরতে সিদ্ধহস্ত ভাভা, সেই কাল কেউটের ছোবলেই এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। সুরেশকে এই মুহূর্তে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে বলে খবর।

পদে পদে বিপদ জেনেও, সাপের সঙ্গে যেন একঘরেই বাস ছিল ভাভা সুরেশের। সাপ ধরা ছিল তাঁর বাঁ হাতের খেল। কেরলে সাপ ধরার রাজা বলেই পরিচিত ভাভা সুরেশ। সেই ভাভা সুরেশের জীবনেই কাল হয়ে দাঁড়াল এক বিষধর শঙ্খচূড়।

ঘটনা সোমবার কোট্টায়ামের। সেখানের কুরিচে এলাকায় একটি বিষধর সাপকে বশ মানিয়ে ব্যাগে ভরতে যাচ্ছিলেন সুরেশ। এরপরই ঘটে গেল বিপত্তি। সেই সময়ই সাপটি ভাভা সুরেশের ডান পায়ের হাঁটুর ঠিক উপরে ছোবল মারে। ভাভা সুরেশকে সাপের ছোবল মারার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই গোটা কেরল তাঁর আরোগ্য কামনা করছে। কোট্টায়ামের গান্ধিনগরের এক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ভাভা সুরেশ। তবে সংবাদসংস্থা এএনআই জানাচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর আপাতত ধীরে ধীরে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ভাভা সুরেশ। কেরলের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিই আপাতত সুরেশের আরোগ্য কামনায় বার্তা দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সাপের দংশন সুরেশের কাছে নতুন ঘটনা নয় বলেই জানাচ্ছেন তাঁর বন্ধুরা। এর আগে ২০২০ সালে তিরুঅনন্তপুরমে সাপের কামড়ে ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভাভা সুরেশ। সেইবার রাসেলস ভাইপারের দংশনে মারাত্মক বিষ ভাভার শরীরে ঠুকে যায়। তবে এবার ১০ ফুটের কোবরার দংশন নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগে রয়েছেন চিকিৎসকরা।

যে কোনও গৃহস্থের বাড়ি বা বাগানে সাপের দেখা মিললেই ডাক পড়ত ভাভা সুরেশের। এভাবেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাঁর খ্যাতি। এ পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার সাপ ও প্রাণী ধরেছেন ভাভা।  এরমধ্যে প্রায় ১৭৫ টি কিং কোবরাকে বশে নিয়ে এসে উদ্ধার করেছেন ভাভা সুরেশ। ২০০৫ সালে কোবরার কামড়ের ফলেই সুরেশকে তাঁর হাতের একটি আঙুলও খোয়াতে হয়। সুরেশ নিজেই জানান প্রায় ৩০০ বার সাপের কামড় খেযেছেন তিনি। বহু সময়ে বিষের প্রভাব কাটাতে একাধিক ওষুধ নিতে হয়েছে সুরেশকে। তাঁর শরীরের বহু জায়গায় ত্বক ফেটে গেছে ভয়াবহভাবে। তাঁর লিভারে সমস্যা তৈরি হয়েছে ওই ওষুধের জেরে। তবুও হাল ছাড়েননি সুরেশ। নিজের নেশা ও পেশার প্রতি সৎ ও অবিচল থেকেছেন। কথায় বলে সাপকে বিশ্বাস করতে নেই! আজ নিজের জীবন-মরণ লড়াই দিয়ে সেই কথাকেই সত্যি প্রমাণ করছেন ভাভা সুরেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.