ঈশানের (Eeshaan) গানই প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম: সায়ন মিত্র

ঈশানের (Eeshaan) গানই প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম: সায়ন মিত্র

২২ এপ্রিল সাম প্লেস এলস্-এ পারফর্ম করতে চলেছে বাংলা ব্যান্ড ‘ঈশান’ (Eeshaan)। তাঁদের এই শো নিয়েই বঙ্গভূমি লাইভের সঙ্গে কথা বললেন গায়ক সায়ন মিত্র (Sayan Mitra)। শুনলেন শুভম সেনগুপ্ত

বরাবরই সাম প্লেস এলস্ রক মিউজিক হোক বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক, একটা ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

সায়ন: আমরা যারা গান বাজনা করি তারা জানি, সাম প্লেস এলস্ (Some Place Else) হেরিটেজ জায়গা। ওরা রক বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কালচারটা এখনও ধরে রেখেছে। আমি বহুবার এখানে গেছি ঠিকই কিন্তু কখনও পারফর্ম করিনি। এই প্রথম ‘ঈশান’ (Eeshaan) সেখানে পারফর্ম করছে। ভীষণ এক্সাইটেড। জায়গাটা খুবই ছোট হওয়ায় একটা অসুবিধে থাকে, তবু আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।

করোনা পরিস্তিতিতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিকে বেশ একটা ধাক্কা এসেছে। যদিও সেই পরিস্থিতি এখন তেমন নেই। কোভিড পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়টা আপনি কীভাবে দেখেন?

সায়ন: যে পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠেছি, এমনটা যে হতে পারে তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। চোখের সামনে মৃত্যুমিছিল। অক্সিজেন নেই, ডাক্তার মারা যাচ্ছে। কোটি কোটি মানুষ মারা যাচ্ছে। তার মধ্যে অনেকের চাকরি চলে গেছিল। বাড়ি থেকে বেরতে পারছি না। এই গোটা পরিস্থিতিটা বুঝতে বেশ সময় লেগেছিল। মানুষ সব পরিস্থিতিই মানিয়ে নিতে পারে। চাকা তো একটা সময় ঘুরবেই। আমরা সবাই সেটা জানতাম। কিন্তু এখানে বলে রাখা ভাল ঈশান (Eeshaan) কিন্তু তাদের কাজ করে গেছে। কোনও অসুবিধা হয়নি আমাদের। এর একটা বড় কারণ হল, ব্যান্ডের এই ২২ বছরের জার্নিতে আমরা যত গান আজ অবধি করেছি, সবই আমরা বাড়ি বসে রেকর্ড করেছি। ২০০২ সালের কথা বলছি, তখন এই বাড়ি বসে রেকর্ডের কথা কিন্তু কেউ ভাবতে পারত না। তখন সবাই স্টুডিওতে যেত বা ভাড়া করত। ঈশান (Eeshan) ব্যান্ডের সদস্যদের সবার মোটামুটি নিজস্ব একটা সেটআপ আছে। তাই করোনা পরিস্থিতিতেও সবাই যখন নিজেদের বাড়িতে আটকে রয়েছি আমাদের ব্যান্ডের (Band) কোনও সমস্যা হয়নি। এভাবেই সেই সময়ও ঈশান ‘ঝড়ের আগে’ নামে একটা নতুন গান তৈরি করে।

EESHAAN | Jhhorer Aagey | ঝড়ের আগে | Official Music Video | Bangla Rock |  2021 - YouTube

এখন তো মানুষ সঙ্গে মিউজিক ভিডিও-ও চায়, সেই পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনোও সম্ভব নয়। কীভাবে সামলালেন?

সায়ন: একদমই তাই। এখন মিউজিক ভিডিও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তখন ভিডিও শুট করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। আমি পাহাড়ে ঘুরতে গেলেই অনেক ছবি তুলি, ভিডিও করি। সেই ঘুরতে যাওয়ার ভিডিওগুলোই আমাদের এই গানে ব্যবহার করি। আর ফলস্বরূপ প্রায় এক লক্ষ ভিউজ আমরা পাই।

লকডাউনে যখন স্কুল, কলেজ সমস্ত বন্ধ, একটি নামী পাবে আমরা এই গান প্রথম পারফর্ম করি। সেখানেই সাউন্ড চেক থেকে শুরু করে গোটা পারফর্মেন্সের একটা ব্যান্ডশুট আমরা এই গানে ব্যবহার করি।

তখন আমরা অনেককেই ডিজিটাল কনসার্টও করতে দেখেছি…

সায়ন: হ্যাঁ, একদমই। আমি সেখানেই আসছিলাম। সবাই করছে দেখে পুজোর আগে আগে আমরাও শুরু করলাম। টিকিট বিক্রি করে বেশ ভাল সাড়াও পেলাম।

এই প্রসঙ্গেই আমি যেটা জানতে চাইব, অতিমারির সময় ভোট হোক বা অন্য কিছু এমন অনেক কর্মসূচি হয়েছে। কেবলমাত্র অফলাইন শো বা কনসার্টের বেলায় নৈব নৈব চ। কীভাবে দেখেন?

সায়ন: এক কথায় বললে এই বিষয়টাকে আমি একজন ভুক্তভোগি হিসেবেই দেখি। শুধু আমরা কেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁরা সবাই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। যাঁদের মূল আয় এই মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত তাঁরা তো আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। লাখ লাখ লোকের কাজ চলে গেছে। শুধু এটুকুই বলব, সরকার একটু ভেবে দেখতে পারত। আমরা ভেবেছি নিজেদের কথা, তাই ডিজিটাল কনসার্ট করে যেভাবেই হোক কাজ করেছি।

এখন একটা জিনিস বেশ দেখা যাচ্ছে, তা হল বাস্কিং কালচার। কলকাতা হোক বা জেলায় জেলায় জেলায় বাস্কিং করছে অনেকেই। কতটা ইতিবাচক মনে হয়?

সায়ন: হ্যাঁ একদমই তাই। আমার ব্যাক্তিগত ভাবে দারুণ লেগেছে। আসলে কলেজ জীবন থেকেই আমরাও তো এভাবেই লোকের নজরে এসেছি। আমরাও প্রচুর গান গেয়েছি গিটার হাতে। সে বইমেলা হোক বা রাস্তায় যেখানে সেখানে হোক। কুড়ি পঁচিশ জন একসঙ্গে বসে গানবাজনা, আড্ডা, খাওয়া দাওয়া সবই আমরা করেছি। এখন রাস্তায় বা যেখানেই হোক যখন বাস্কিং করতে দেখি কাউকে, আমার ময়দানের বইমেলার কথা মনে পড়ে। এখনের বইমেলা কর্পোরেট বইমেলা হয়ে গেছে।  বসে আড্ডা দেওয়া, গান গাওয়ার ট্রেন্ডটা অনেকটা কমে গেলেও, নতুন প্রজন্ম যে কালচারটাকে এখনও বহন করে চলেছে, সেটা আশার আলো দেখায়।

কদম শেষে যেটা জানতে চাইব… এখন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাতে শিল্পীমহলের প্রতি সাধারণ মানুষের মনে একটা ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে যে, তাঁরা কেন চুপ করে আছে? আপনি একজন শিল্পী হিসেবে এ বিষয়টা কীভাবে দেখেন?

সায়ন: আমাদের ব্যান্ডের গান যদি মানুষ শোনে, তাহলে বুঝতে পারবে সব উত্তর আমরা সেখানে দিয়ে রেখেছি। আমরা অর্থাৎ ঈশান (Eeshaan) বরাবর সমাজিক বার্তা দিই আমাদের গানে। গানই আমাদের কাছে প্রতিবাদের প্রধান মাধ্যম।       

Leave a Reply

Your email address will not be published.