বিশ্বের দরবারে বাঙালির দুর্গাপুজোকে ‘শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যের’ সম্মান জানাল ইউনেস্কো

Home কলকাতা বিশ্বের দরবারে বাঙালির দুর্গাপুজোকে ‘শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যের’ সম্মান জানাল ইউনেস্কো
বিশ্বের দরবারে বাঙালির দুর্গাপুজোকে ‘শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্যের’ সম্মান জানাল ইউনেস্কো

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির এক অনন্য আবেগ। তাই তো ধর্মীয় গণ্ডীর সীমানা ছাড়িয়ে, দুর্গাপুজো আজ মানুষের উৎসবে পরিণত। এর বাংলার  সেই শ্রেষ্ঠ  উৎসবই এবার পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি৷ নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় দুর্গাপুজোকে স্থান দিল ইউনেসকো৷

আবহমানকাল ধরে চলে আসা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলির মধ্যে অন্যতম দুর্গাপুজো। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে বিরল সম্মানে ভূষিত করল  ইউনেস্কো। ধর্ম, উৎসব এবং শিল্পকলার অভাবনীয় এক মেলবন্ধনের মূর্ত প্রতীক হল শারদোৎসব। ইউনেস্কোর একটি বিশেষ কমিটির চলতি অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাংলার জন্য নিঃসন্দেহে এ এক বিরল সম্মান। এদিন নিজেদের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে এই খবরটি প্রকাশ করে ইউনেসকো’র ভারতীয় শাখার তরফে লেখা হয়, ‘দুর্গাপুজোকে ইউনেসকোর মানবজীবনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে ৷’

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনেস্কোর এই বিশেষ কমিটির অধিবেশন। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রাপ্তি হল   হেরিটেজ তকমা। দুর্গাপুজোকে এই বিরল সম্মানে ভূষিত করে নিজেদের ওয়েবসাইটে ইউনেস্কোর ঘোষণা, ‘ধর্ম এবং শিল্পকলার মেলবন্ধনের একটি প্রকৃত উদাহরণ বাংলার দুর্গোৎসব। অজস্র শিল্পী, শ্রমিকের প্রতিভার প্রতিফলনে সমৃদ্ধ এই উৎসব। উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর ও শহরতলি এলাকায় বৃহৎ আর্ট ইনস্টলেশন এবং প্যাভেলিয়ন তৈরি হয়। সঙ্গে থাকে ঐতিহ্যবাহী ঢাকের বাদ্যি। ভক্তিভরে আরাধনা হয় দেবী দুর্গার। জাত-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সকলেই উৎসবের দিনগুলিতে সামিল হন। পুজোর মণ্ডপগুলিতে সমস্ত রকমের মানুষের ভিড় দেখা যায়। দুর্গাপুজোর মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের ছোঁয়া।’ আর ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি যেন সেই বিষয়টিকেই বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করল।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১০ সালেও বাংলার ঝুলিতে এসেছিল ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি। সে সময় পুরুলিয়ায় ছৌ উৎসবকে ঐতিহ্যের তকমা দেওয়া হয়।। বাংলা ছাড়াও ইউনেস্কোর এই হেরিটেজ তকমা পেয়েছে দেশের আরও অনেক রাজ্যের প্রতীক হয়ে ওঠা উৎসব বা সাংস্কৃতিক ধারা। যেমন ২০১৩ সালে এই তকমা পেয়েছিল মণিপুরের সংকীর্তণ, ২০১৪ সালে পঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী পিতল ও তামার হস্থশিল্প, ২০১৬ সালে ভারতীয় যোগ আর  ২০১৭ সালে কুম্ভ মেলাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন প্রতিবছর এই স্বীকৃতি তুলে দেয় পৃথিবীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে। এবারের নামটি হচ্ছে কলকাতা তথা বাংলার দুর্গাপুজো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.