স্বস্তি! এক লক্ষের নীচে নামল ভারতের দৈনিক কোভিড গ্রাফ

Home দেশের মাটি স্বস্তি! এক লক্ষের নীচে নামল ভারতের দৈনিক কোভিড গ্রাফ
স্বস্তি! এক লক্ষের নীচে নামল ভারতের দৈনিক কোভিড গ্রাফ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: দেশে করোনায় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা নামল একলক্ষের নীচে। তবে বাড়ল একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জনের। গতকাল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮৬৫। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৭৬ জন। গতকাল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭ হাজার ৪৭৪। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ কোটি ২২ লক্ষ ৭২ হাজার ১৪ জন।
এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ২ হাজার ৮৭৪ জনের। দৈনিক পজিটিভিটি রেট কমে হল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। রবিবারে নিম্নমুখী দৈনিক পজিটিভিটি রেটও। আর রাজ্যে স্বস্তি দিয়ে অনেকটাই কমেছে করোনা সংক্রমণ। রবিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৮৩৫ জন। এ নিয়ে রাজ্যে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে হল ২০,০৫,৮৭২ জন। রাজ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি করোনার অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ১৭,৯৯৪, যা গতকালের তুলনায় ১,২৮২ জন কম।

অন্যদিকে, পাঁচ বছর ও তার কমবয়সী শিশুদের ভ্যাকসিনের জন্য অনুমোদন চাইতে চলেছে ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ফাইজার ও তার সহযোগী সংস্থা বায়োএনটেক। অর্থাৎ একেবারে ছোটরা যাদের করোনা উপসর্গ থাকলেও অভিভাবকদের চোখ এড়িয়ে যায় তাদের জন্য এবার শীঘ্রই বাজারে চলে আসতে পারে করোনা টিকা। ফাইজার ও বায়েএনটেকের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এফডিএ তাদের ৫ বছরের কম বয়সীদের টিকার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলেছিল। যদি এফডিএ-র অনুমোদন মেলে তাহলে ৬ মাস থেকে ৪ বছরের শিশুদের জন্য এটাই হবে প্রথম ভ্যাকসিন। ফাইজারের তরফে দাবি করা হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। সেকথা মাথায় রেখেই দ্রুত এই ভ্য়াকসিন বাজারে আনতে চায় তারা।করোনার তৃতীয় ঢেউ স্তিমিত। দেশে ধীরে ধীরে কমছে সংক্রমন। সোমবার আরও স্বস্তি দিয়ে এক লক্ষের নীচে নামল ভারতের দৈনিক কোভিড গ্রাফ। কিন্তু দুশ্চিন্তায় রাখছে দৈনিক কোভিডে মৃত্যু।দেশের সক্রিয় রোগীর সংখ্যা আরও কমে এখন ১১ হাজারের সামান্য বেশি। দৈনিক সংক্রমণ হার কমে হয়েছে ৭.২৫ শতাংশ। তবে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত কয়েকদিন ধরেই হাজারের উপরে থাকছিল কোভিডে মৃত্যু। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমে মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জনের। কিন্তু তা-ও অনেকটাই বেশি এই পরিসংখ্যান।

গতকালই দেশের মোট কোভিডে মৃত্যু পাঁচ লক্ষ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। প্রথমে রয়েছে আমেরিকা, তার পর ব্রাজিল, তিনে ভারত। তুলনামূলক ভাবে ভারতে কোভিড টিকাকরণ বেড়েছে। তার মধ্যেই আশার খবর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য রাশিয়ার স্পুটনিক লাইট সিঙ্গল ডোজ টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে।আরও স্বস্তির খবর কেরলে। অনেক দিন পর কমতির দিকে দক্ষিণের এই রাজ্যের দৈনিক করোনা-গ্রাফ। একদিনে ২৬ হাজার ৭২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এই রাজ্যে। ৩০ হাজারের নীচে নেমেছ কোভিড গ্রাফ। স্বস্তির খবর বাংলাতেও। ৪০ দিন পর হাজারের নীচে নেমেছে দৈনিক সংক্রমণ।রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্তর সংখ্যা ৮৩৫। আর সুস্থতার সংখ্যা ২,০৮৩। কিন্তু, মৃত্যুর সংখ্যাটা কেন যেন কিছুতেই কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় নতুন করে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর তাতে রাজ্যে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২০,৮২৩ হয়ে গেল। স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, মৃত্যুর হার ১.০৪ শতাংশ।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৬৯। গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১,০৭২ জন। করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে পাঁচ লক্ষে। ইতিমধ্যে কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ কোটি ১৭ হাজার ৮৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠছেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৭৪ জন।

ওমিক্রনের দাপটে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের করোনা গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। বিভিন্ন রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও ভাবাচ্ছিল প্রশাসনকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে নড়েচড়ে বসে সংক্রণের নিরিখে উপরের দিকে থাকা রাজ্যগুলি। আবার শুরু হয় করোনা বিধিনিষেধ। কোথাও কোথাও শুরু হয় নৈশ কার্ফু। এখনও ভাবাচ্ছে কেরল, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলির করোনা পরিস্থিতি। কেন্দ্রের তথ্য বলছে, দেশের মোট করোনায় মৃত্যুর ১১ শতাংশই ঘটেছে পিনারাই বিজয়ন সরকারের রাজ্যে। তবে এখনই পুরোপুরি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আস্তে আস্তে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, এটাই আশার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.