শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতার রং চড়াচ্ছেন, রাহুল হিজাব বিতর্কে মুখ খোলায় পাল্টা বিজেপির

Home দেশের মাটি শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতার রং চড়াচ্ছেন, রাহুল হিজাব বিতর্কে মুখ খোলায় পাল্টা বিজেপির
শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতার রং চড়াচ্ছেন, রাহুল হিজাব বিতর্কে মুখ খোলায় পাল্টা বিজেপির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গত বেশ কয়েকদিন ধরেই বিজেপি শাসিত কর্ণাটকে কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই বিষয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হিজাবকে তাদের শিক্ষার পথে বাধা হতে দিয়ে আমরা ভারতের মেয়েদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছি। মা সরস্বতী সকলকে জ্ঞান দান করেন। তিনি পার্থক্য করেন না।’ কর্নাটকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নলিন কুমার কাতিল রাহুলকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর কথায়, রাহুল শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতার রং চড়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে কেন হিজাব বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না?শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। কর্নাটকে উদুপির এক সরকারি কলেজে হিজাব পরে আসা ২৫ পড়ুয়াকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেই প্রসঙ্গে শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি বলেন, মা সরস্বতী সকলকে জ্ঞান দিয়েছেন। তিনি কোনও বাছবিচার করেননি। শিক্ষাগ্রহণ করতে আসা পড়ুয়াদের বাধা দেওয়া আসলে ভারতের কন্যাদের ভবিষ্যৎ নষ্টেরই শামিল।
শনিবার দেশজুড়ে চলছে সরস্বতী বন্দনা। সংঘ পরিবার বরাবরই বাগদেবী এবং বিদ্যার্থীদের ব্যাপারে স্পর্শকাতর। সেকথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার উদুপির কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে শনিবার মুখ খুললেন কংগ্রেস সাংসদ। কুন্দপুর সরকারি কলেজের ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংঘ পরিবারও প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পড়ুয়ারা ওই কলেজে গেরুয়া পোশাক পরে এসেছিল। তারা কলেজে হিজাব পরে আসার বিরোধিতায় সরব হয়েছে।

কর্নাটকে বর্তমানে বিজেপির সরকার। কিন্তু, হিজাব পরে আসা পড়ুয়াদের কলেজে ঢুকতে না-দেওয়া নিয়ে শোরগোলে তারাও পিছু হঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশ জানিয়েছেন, তাঁরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের রণাঙ্গন মনে করেন না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক পবিত্র স্থান। সেখানে সকলেরই সমানাধিকার। একইসঙ্গে অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। দেখা যাক, সেখানে কী রায় হয়। আদালত যা নির্দেশ দেবে, তা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মানা হবে বলেই নাগেশ জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কর্ণাটকের উডুপি জেলায় পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের হিজাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিয়ে মামলা গড়িয়েছে কর্ণাটক হাই কোর্ট পর্যন্ত। গতকালই তিনটি কলেজে ঘোষণা করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে ক্লাসে হিজাব পরে ঢোকা যাবে না। এরপরই বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে রাস্তায় বসেন মুসলিম ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মুসলিম যুবকরাও। পুলিশও মোতায়েন করতে হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।উল্লেখ্য, গতবছরের ২৮ জিসেম্বর হিজাব পরা নিয়ে প্রথম ঝামেলা হয় উদুপি গভর্নমেন্ট স্পন্সরড কলেজে। এরপরই একে একে আরও চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা হিজাব। নারী কল্যাণ ও সমাজ কর্মীদের একাংশ বলছেন যে হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পদক্ষেপটি তাদের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। কিন্তু সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কর্তৃপক্ষ বলছে যে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক প্রদর্শন করা যায় না। এদিকে ছাত্রীরা হিজাব পরায় কিছু হিন্দু গোষ্ঠী সমর্থনকারী ছাত্র আবর ক্লাসে গেরুয়া স্কার্ফ জড়িয়ে আসে। তাদের চাপেই পরপর কলেজে নিষিদ্ধ হচ্ছে হিজাব পরা।আন্দোলনটা প্রথম শুরু করেছিলেন মুসলিম কলেজছাত্রীরা। ক্রমশ তাতে যোগদান করছে ছাত্রসমাজও। হিজাব পরে কলেজ ক্যাম্পাসের প্রবেশ এবং ক্লাস করার অধিকারের দাবিতে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনের জেরে ক্রমশ অশান্ত হচ্ছে কর্নাটকের বিভিন্ন এলাকা।শনিবার উপকূলীয় শহর কুন্দাপুরের ভান্ডারকরস আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স ডিগ্রি কলেজের গেটে হিজাব পরার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান সংখ্যালঘু ছাত্রীরা। অভিযোগ কলেজের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের হিজাব পরে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। সে সময় স্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুসলিম ছাত্রেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। শুক্রবার কুন্ডারপুরেরই অন্য একটি কলেজের গেটে ছাত্রীদের হিজাব-বিক্ষোভের সমর্থনে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কিছু কলেজছাত্র।

এই পরিস্থিতিতে কর্নাটকের শিক্ষামন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বি সি নাগেশের দাবি, বিক্ষোভকারী ছাত্রীরা আগে হিজাব পরতেনই না। প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারির পরে অশান্তি বাধানোর উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। প্রয়োজনে এ বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।কর্নাটকের একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া মেয়েদের বিরুদ্ধে যে অন্যায় হচ্ছে, সেই নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ হ্যাশট্যাগের অধীনে তারা সরব হয়। এখানে এক ভিডিও পোস্ট করে তাতে বলা হয়, হিজাব হিংসার প্রতীক নয়। হিজাব আমাদের গর্ব। হিজাব স্বাধীনতার প্রতীক, দমন পীড়নের নয়। হিজাব মানে আধুনিকতা।ছাত্রীরা কলেজে গেলে অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন ক্লাসে হিজাব পরার অনুমতি নেই। হিজাব খুলে কলেজে প্রবেশ করতে হবে বলেও জানান তিনি। যদিও ছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তর্ক হয় অধ্যক্ষের। ছাত্রীরা বলে সরকারি আদেশে তাঁদের কলেজের নাম উল্লেখ নেই। পাল্টা অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি আদেশ রাজ্যের সব কলেজেই লাগু। বুধবার হিজাব পরা নিয়ে কর্নাটকের কলেজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রায় ১০০ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রী ক্লাসে গেরুয়া শাল জড়িয়ে আসে। হিজাব পরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.