‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’! বাল্যবিবাহ(child marriage) রোধে সামাজিক প্রচার ভারত ম্যাট্রিমোনির

Home দেশের মাটি ‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’! বাল্যবিবাহ(child marriage) রোধে সামাজিক প্রচার ভারত ম্যাট্রিমোনির
‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’! বাল্যবিবাহ(child marriage) রোধে সামাজিক প্রচার ভারত ম্যাট্রিমোনির

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আধুনিক যুগে যখন সবই ডিজিটাল,তখন বিয়ের ঘটকালিই বা বাদ থাকে কেন? তাই দেশের অন্যতম বড় ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট, ভারত ম্যাট্রিমোনির(bharat matrimony) এখন তুঙ্গে বৃহস্পতি। এবার এই সংস্থার তরফেই শুরু হল নতুন প্রচার। সামাজিক কর্তব্য পালনের তাগিদে অনলাইন সংস্থার প্রচার, বিয়ে নয়, আগে মেয়েদের শিক্ষিত(education over marriage) করার উপর জোর দেওয়া হোক। বাল্যবিবাহ(child marriage) রোধের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শুরু হল ভারত ম্যাট্রিমোনির নতুন প্রচার কর্মসূচি,‘পহলে পড়াই, ফির শাদি।’ সিগারেটের প্যাকেটে যেমন লেখা থাকে, ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’, নীতিগত ভাবে অনেকটা সেই পথেই এগিয়েছে ভারত ম্যাট্রিমোনিও।

ভারতীয় নারীদের জীবন সংসারে বন্দি থাকার দিন আজ শেষ। রান্নাঘরের চার দেওয়াল আর সন্তান পালনেই মোক্ষলাভের প্রাচীন ধারণা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা দেখায় শিক্ষা। তাই বয়সের আগে বিয়ে নয়((child marriage), মেয়েদের দু’ চোখে স্বপ্ন আঁকতে হবে উচ্চশিক্ষার(education over marriage)। বিয়ের আগে শুধু বাবার মেয়ে আর বিয়ের পর স্বামীর স্ত্রী হয়ে থাকার চেয়ে সমাজের আপামর মেয়ে নিজের পরিচয়ে মাথা তুলে দাঁড়াক-এমনটাই এই প্রচারের সার মর্ম। আর সকল মেয়েকে নিজের পরিচয় তৈরির জন্য সচেতন করার ব্যাপারে একেবারে নতুন ভাবনা চিন্তা নিয়ে এগিয়েছে এই সংস্থা(bharat matrimony )। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ(child marriage) রোধ অর্থাৎ টানাটানির সংসারের ভার লাঘবে লেখাপড়া বন্ধ করে নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও হুঁশিয়ারি হয়ে এসেছে এই প্রচার।

,‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’ শীর্ষক প্রচারের অঙ্গ হিসেবে, রাজস্থানের জয়সলমীর থেকে এই বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেশ কয়েকজন মেধাবী ছাত্রীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যাঁদের উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজে ভরতি ও স্নাতকস্তরে পড়াশোনার স্বপ্নপূরণের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই বিবাহবন্ধন সংস্থা।

তবে প্রশ্ন উঠছে এই প্রচারের জন্য জয়সলমীরকেই বেছে নেওয়া হল কেন? রাজস্থানের এই মরুশহরের এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ছোট্ট এই এলাকার প্রতিটি বাড়ির দেওয়ালে আঁকা আছে বর্ণময় সব ছবি। যাতে ফুটে উঠেছে স্থানীয় বিয়ের রীতিনীতি আচার সবকিছুই। কিন্তু দেওয়ালের এই রঙের ছটার আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে জমাট বেঁধে থাকা বিষাদ, এক কঠোর বাস্তব। পরিসংখ্যান বলছে রাজস্থানে মহিলাদের উচ্চশিক্ষার রেওয়াজ প্রায় না থাকারই মতো। আর মহিলাদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার নিতান্তই কম। এর একটাই কারণ প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা সেই অভিশপ্ত  স্লোগান, মেয়েদের জন্মই হয় সংসার করার জন্য, ইস্কুলে যাওয়ার জন্য নয়(child marriage in india)। আর যদি বা কোনও মেয়ে স্কুলের চৌকাঠ পেরিয়ে গেল, তখন মাঝপথে পড়া বন্ধ করিয়ে, একহাত ঘোমটা টেনে তুলে দেওয়া হয় ডোলিতে(child marriage) ।  

যদিও ‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’ প্রচারের মাধ্যমে ভারত ম্যাট্রিমোনির(bharat matrimony) প্রথম লক্ষ্য ,এইসব বাবা-মায়েদের পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বের করে আনা। যাতে তাঁরাই প্রথম কন্যা সন্তানের চোখে এঁকে দিতে পারেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, নিজের মেয়েকে করে তুলতে পারেন মুক্তচিন্তার অধিকারী যাতে তাঁরা সহজেই বিয়ের পিঁড়ির (child marriage) বদলে বেছে নেয় স্কুলের বেঞ্চ, যা তাঁদের জীবনটাকে একদিন বদ্ধ জলাশয় থেকে বের করে, খরস্রোতা নদীর মতো নিত্যনতুন বাঁকে প্রবাহিত করাবে।

শুধু প্রচার নয়, একেবারে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই সংস্থা প্রচলিত করেছে নতুন এক শিল্পধারা। যার নামকরণ করা হয়েছে শিক্ষা।  যে বাড়ির দেওয়ালে এতদিন আঁকা হত বিবাহবাসরের ছবি, এবার সেই সব ওয়াল গ্রাফিটি আমুল বদলে যাবে। প্রতিটি বাড়ি উদযাপন করবে শিক্ষার শ্রেষ্ঠত্বকে। বাড়ির বাইরের মহলের সজ্জায় ফুটে উঠবে, স্কুল-কলেজ-বই-খাতা। যা ধীরে ধীরে বদলে দেবে অন্দরমহলের মেয়েদের জীবনটাও।  

প্রত্যন্ত এলাকার মহিলাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তনের কথা যিনি ভেবেছেন, সেই মানুষটা হলেন মুরুগাভেল জানকীরমন, ভারত ম্যাট্রিমোনি ডট কম(bharat matrimony.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। তাঁর কথায় ম্যাচমেকিং করে প্রত্যেককে সঠিক জীবনসঙ্গী বেছে দেওয়ার দায়িত্ব যেমন তাঁরা নিয়েছেন, তেমনই মহিলাদের আত্মনির্ভর করার ব্রতও তাঁরা পালন করছেন। প্রতিদিন জানকীরমনের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, এমন কিছু করা যাক, যাতে সমাজের নারীদের দায়িত্ব, বিবাহ নামক এই প্রথা আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ছকে বাঁধা চিন্তাভাবনা ধুলোয় মিশিয়ে নতুন দিনকে স্বাগত জানাবে। তাঁর স্থির বিশ্বাস, ‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’- education over marriage এই প্রচার সফল হবেই। এর মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আসবেই, মেয়েরা স্কুলে যাওযার জন্য জেদ ধরবে, বন্ধ হবে বাল্যবিবাহ(child marriage)। তিনি মনে করেন, ‘ বাড়ির মেয়ে শিক্ষিত হলে, গোটা পরিবার শিক্ষিত হয়।’ কারণ একটি শিক্ষিত ছেলের সঙ্গে একটি শিক্ষিত মেয়ের গাঁটছড়া বাঁধাইতো পারফেক্ট ম্যাচ মেকিং।

উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্প্রতি জানকীরমন নিজের ব্যবসায়িক গাঁটছড়া বেঁধে নিয়েছেন ক্রিকেটর এবং জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন মহিন্দর সিং ধোনির সঙ্গে। ভারত ম্যাট্রিমোনির(bharat matrimony.com) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর হয়ে, এবার ঘটকালির দায়িত্ব সামলাবেন মাহি। মাঠে কিপিংয়ের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শ্যেন দৃষ্টি দিয়ে দেখে নেবেন কে কার সবচেয়ে উপযুক্ত! তবে তার আগে ‘পহলে পড়াই, ফির শাদি’ প্রচারের জন্য ধোনির ক্যারিশমাকেই বেশি করে ব্যবহার করা হবে। কারণ এই মুহূর্তে বাবা-মায়েদের আস্থা অর্জনে তাঁর চেয়ে বেশি ভরসাযোগ্য মুখ আর কোথায়!   

Leave a Reply

Your email address will not be published.