সিবিআই ডাকলেই কি ঠাঁই উডবার্নে (WOODBURN BLOCK)? অন্যদিকে শয্যার অভাবে মরছে মানুষ!

সিবিআই ডাকলেই কি ঠাঁই উডবার্নে (WOODBURN BLOCK)? অন্যদিকে শয্যার অভাবে মরছে মানুষ!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এসএসকেএম-র উডবার্ন ব্লকে (WOODBURN BLOCK) ভর্তি অনুব্রত মণ্ডল। তবে, এ আর বাংলায় নতুন কী! বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে বাংলার প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তির নামে নিজাম প্যালেস থেকে তলব এলেই তাঁর গন্তব্য হয়ে উঠছে সোজা উডবার্ন। রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের এ যেন এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিবিআইয়ের সঙ্গে এক রকম লুকোচুরি খেলতে মদন-কেষ্ট-মুকুল-শোভন সকলেই একবার করে উডবার্ন তীর্থে ভ্রমণ করে এসেছেন বলেই মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু, এসএসকেএম-র গর্ব এই উডবার্ন ব্লক কি শুধুই অভিযুক্ত প্রভাবশালীদের সিবিআইয়ের তলব থেকে গা-ঢাকা দেওয়ার জায়গা? না, এসএসকেএম এবং বাংলার স্বাস্থবিভাগের গর্বের উডবার্নের সঙ্গে লুকিয়ে রয়েছে অনেক অজানা ইতিহাসও।

এসএসকেএম ও উডবার্ন-র ইতিহাস :-
পিজি বা এসএসকেএম-র (SSKM) ইতিহাস কিন্তু সুপ্রাচীন। ১৭০৭ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষ গার্স্টেইন প্লেসের পুরনো দুর্গের মাটিতে তৈরি করে প্রেসিডেন্সি হাসপাতাল। এই জায়গাটি আসলে ছিল রেভারেন্ড জন জাছারিয়াস কিয়ারনান্দারের বাগান বাড়ি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বেশ মোটা অঙ্কেই কিনে নেয় এই জায়গাটি। ১৭৭০ সাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে শুধুমাত্র ইউরোপীয়রাই চিকিৎসা করাতে পারতেন। পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৭৭২ সালে অর্থাৎ ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে প্রেসিডেন্সি হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতাল। এই নামই এখন লোকমুখে প্রচলিত পিজি নামে। স্বাধীনতার পর ১৯৫৪ সালে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শেঠ সুখলাল করনানী মেমোরিয়াল হাসপাতাল বা এসএসকেএম।

বেশ কিছু বছর যাবৎ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এই উডবার্ন ব্লক তৈরি হয় ১৯০২ থেকে ১৯০৮ -এর মাঝামাঝি সময়ে। খরচ হয় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। ১৮৭৩ সালে প্রথম ভারতীয় হিসাবে এই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ড. সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ ছিলেন এসএসকেএম-র প্রথম ভারতীয় চিকিৎসক। তাঁর নামানুসারেই উডবার্ন ব্লকের (WOODBURN BLOCK) দোতলার নাম রাখা হয় ড. এসএন ঘোষ ওয়ার্ড। এই নামকরন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এহেন ঐতিহ্যবাহী এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকের দিকে বারেবারে ছুটে আসছে বিতর্কের তির। যা খুবই দুঃখজনক।

কেবিন নম্বর ১২.৫ :- এসএসকেএম-র উডবার্ন ব্লকের কেবিন নম্বর ১২.৫। এই ঘরটি সম্পর্কে জানেন খুব কম সংখ্যক মানুষই। প্রথমেই নজর কাড়ে এই ঘরের উদ্ভট নাম। আসলে ১৩ সংখ্যাটিকে মনে করা হয় ‘আনলাকি নম্বর’। তাই ঘরের নম্বর ১২.৫। ২০১১ সাল থেকে এই ঘরটি সংরক্ষিত রাখা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য। প্রধানমন্ত্রী শহরে এলে সাধারণত তিনি রাত্রিবাস করে থাকেন রাজভবনে। আর রাজভবন থেকে এসএসকেএম-র দুরত্ব ৪ কিলোমিটার। তাই কোনওরকম শারীরিক আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী যাতে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা পরিষেবা পান তার জন্যই এই ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, প্রতি সপ্তাহে শুধু শনিবার এই কেবিন খোলা হয় পরিষ্কার করার জন্য। সেই সময় এই কেবিনের বাইরে থাকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উডবার্নের ১২.৫ নম্বর কেবিন সম্পূর্ণ ভাবে ‘এসপিজি’ বা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে সুরক্ষিত। এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় নিয়োজিত আছে।
উডবার্ন ব্লকের এই সুরক্ষিত ১২.৫ নম্বর কেবিনের সুযোগ সুবিধাগুলিও দেখার মতো। নিরাপত্তার সমস্ত বিধি মেনে একটি মেডিকেল টিম তৈরি থাকে সর্বক্ষণের জন্য। এই টিমে আছেন একদল মেডিসিন, হৃদরোগ, অ্যানাস্থেসিয়া ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। এছাড়াও ডাক্তারদের সাহায্যের জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও নার্সের একটি টিম। একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুল্যান্স এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রক্তের গ্রুপের বেশ কয়েক ইউনিট রক্তও মজুত রাখা হয় সবসময়। সমস্ত রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্র সহ মোট চারটি ঘর নিয়ে গঠিত উডবার্নের এই বিলাসবহুল অতিসুরক্ষিত ১২.৫ নম্বর কেবিন।


কী আছে এই উডবার্ন ব্লকে?
এসএসকেএম-র একেবারে ভিতরের দিকে লাল রঙের তিনতলা বাড়িটিই হলো উডবার্ন ব্লক (WOODBURN BLOCK)। এক তলায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা হয়। বিলাসবহুল কেবিনগুলি রয়েছে দোতলা ও তিনতলায়। এই দু’‌টি তলাতেই রয়েছে সেন্ট্রাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র। রয়েছে সিঙ্গল ও ডবল বেডের কেবিন। প্রতিটি কেবিনই বিলাসিতায় ভরপুর। চিকিৎসক অনুমতি দিলে যে কোনও রোগীরই চিকিৎসা হয় উডবার্ন ব্লকে। বেডের খরচ প্রত্যেকদিন ২ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে খাবার ও ওষুধের খরচ আলাদা। যদিও চিকিৎসকের কোনও খরচই দিতে হয় না রোগীকে। এই রকম বিলাসবহুল উডবার্ন ব্লকে আদৌও কোনও সাধারণ রোগীর চিকিৎসা হয় কিনা তা তর্কসাপেক্ষ।

উডবার্ন ব্লকে চিকিৎসা করাবার নিয়ম কী?
উডবার্ন ব্লকে যেকোনও সাধারণ রোগীই চিকিৎসা করাতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে তাঁকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। উডবার্ন ব্লকে চিকিৎসা করাতে চাইলে যেকোনও রোগীকে প্রথমে আউটডোর বা ইমার্জেন্সিতে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা যদি অনুমতি দেন তাহলেই ১২.৫ নম্বর কেবিন ছাড়া উডবার্ন ব্লকের যেকোনও কেবিনে ভর্তি হওয়া সম্ভব। কিন্তু সব ক্ষেত্রে কি এই নিয়ম মানা হয়? অতীতে মদন মিত্র বা সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে কি সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছিল? নাকি অনুব্রতবাবুর লালবাতি লাগানো গাড়ি সোজা ঢুকে পড়ে উডবার্নে (WOODBURN BLOCK)? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।প্রসঙ্গত, উডবার্ন ব্লকে কিন্তু আপৎকালীন চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নেই। দরকার পড়লে এই ব্লকের জুনিয়র ডাক্তার বা নার্সরা চিকিৎসকদের ডেকে পাঠান। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ডক্টর অন কল’। এসএসকেএমের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, রোগী যতই ভিআইপি বা নেতা-মন্ত্রী হোন না কেন, শরীরের অবস্থা গুরুতর খারাপ থাকলে তাঁর চিকিৎসা হবে ইমার্জেন্সিতে। কারণ সেখানেই রয়েছে চিকিৎসার সমস্তরকম সরঞ্জাম ও পরিকাঠামো। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা যদি মনে করেন ‘কোল্ড কেস’ বা যে রোগীর হঠাৎ করে খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই, একমাত্র তাঁকেই এই ব্লকে রাখা হয়। রোগীকে এখানে রেখে মূলত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সাধারণত জটিল অবস্থার কোনও রোগীকে কখনও উডবার্নে রাখা হয় না। তাঁকে রাখা হয় আইসিইউয়ে অথবা অন্য কোনও বিভাগে। গুরুতর চিকিৎসার জন্য উডবার্ন নয়।

নারদাকাণ্ডে সিবিআইয়ের তলব এড়িয়ে উডবার্নে (WOODBURN BLOCK) তিন প্রভাবশালী:-
২০২১ সালের মে মাসের শেষের দিকে রাজ্য রাজনীতি তোলাপাড় হয়েছিল নারদা মামলাকে ঘিরে। নারদার গোপন ক্যামেরা অভিযানে ফেঁসে যান পশ্চিমবঙ্গের চার হেভিওয়েট নেতা। সুব্রত মুখপাধ্যায়, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এই চার নেতাকেই ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করে নারদা কর্তৃপক্ষ। সিবিআই (CBI) তলব করে চারজনকেই। এবং যথারীতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন হেভিওয়েট নেতাই ভর্তি হয়ে যান এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ব্লকে।হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় মানসিক চাপ বেড়েছে তিনজনেরই। তাই তাঁদের নাকি রাতে ঘুমের ওষুধও দিতে হয়েছে। হাসপাতালের তরফ থেকে আরও বলা হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় নিয়মিত নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে। মানসিক চাপের জন্য ওঠানামা করছে রক্তচাপ। মদন মিত্রর রয়েছে দীর্ঘদিনের সিওপিডি’র সমস্যা। দিনের অনেকটা সময়ই অক্সিজেন দিতে হয়েছে। অন্যদিকে সেই সময় চলছিল প্রবল করোনা সংক্রমণ। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ফুসফুসে সংক্রমণের প্যাচ ধরা পড়েছে। প্রতিদিন বুকের এক্স রে করে সেই প্যাচে নজর রেখেছিলেন চিকিৎসকরা। মদনবাবুকে দেওয়া হয়েছে সি-প্যাপ সাপোর্ট। সিটি স্ক্যানও করা হয়েছে বলে জানা যায়।নারদা মামলায় সিবিআই চার নেতাকে গ্রেফতারও করে। পরে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন চারজনই। কিন্তু বিধি বাম। জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট।সুব্রত মুখোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায় চারজনকেই প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানেই একসঙ্গে সকলে অসুস্থ বোধ করেন। ভোর পৌনে চারটের সময় মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালের সেই উডবার্ন ব্লকেই

মজার বিষয় হলো, যেদিন নেতা ত্রয়ী হাসপাতালে ভর্তি হন সেদিন বিকেল থেকেই রটে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য চিকিৎসকদের কাছে কার্যত নাছোড়বান্দা হয়ে পড়েছেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবদার যে ভাবেই হোক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পাশের কেবিনে তাঁকে ভর্তি করতেই হবে। রাতারাতি সামাজিক মাধ্যমের দৌলতে ছড়িয়ে পড়ে খবরটি। কিন্তু তিনি যে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আবদার যে রাখতে বাধ্য এসএসকেএম। শেষ পর্যন্ত বৈশাখীর জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন চিকিৎসকরা। উডবার্ন ব্লকে শোভনের ঠিক পাশের কেবিনেই ভর্তি হয়েছেন বৈশাখী। কিন্তু কী জন্য তা জানেন না কেউই। শোভন-বৈশাখীর ছবি সহ একাধিক ব্যঙ্গাত্মক কমেন্টে ছেয়ে যায় ফেসবুক-ট্যুইটার। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন চারিদিকে যখন শয্যার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন তখন কীভাবে অসুস্থ না হয়েও এসএসকেএম-এ ভর্তি হয়ে গেলেন তিনি।এরই মধ্যে ভোরবেলা বাড়ির বাগানে হাঁটার মতোই উডবার্নের বারান্দায় পায়চারি করতে দেখা যায় শোভন-বৈশাখীকে। সঙ্গে মদন মিত্র এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও একাধিকবার উডবার্ন ওয়ার্ডের বারান্দায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এমন কি সংবাদমাধ্যমের সামনে পরে নিজেকে লুকোতে মদন মিত্র শাল জড়িয়ে নেন বলেই খবরে প্রকাশ।

এহেন উডবার্ন ব্লকেই (WOODBURN BLOCK) ভর্তি হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, সিবিআই ডাকলেই নাকি তৃণমূলের নেতারা উডবার্ন ব্লকে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। ঠিক এভাবেই গত বুধবার অনুব্রত মণ্ডল ভর্তি হলেন সেখানে। ঘটনাচক্রে তাঁকেও সিবিআই ডেকেছিল গরু পাচার মামলায়। শুধুমাত্র প্রভাবশালী বলেই কি এত সহজে উডবার্ন ব্লকে ভর্তির ছাড়পত্র পেয়ে যাচ্ছেন বাংলার নেতারা? কিন্তু অন্যদিকে বহুদূর থেকে শহরে আসা গরীব মানুষগুলোর ঠাঁই হয় হাসপাতালের মেঝেতে। যেখানে প্রায় প্রত্যেকদিন সরকারি হাসপাতালগুলতে শয্যার অভাবে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান অসংখ্য মানুষ সেখানে কিভাবে উডবার্নের বিলাসবহুল কেবিনে বহাল তবিয়তে আইনের বেড়াজাল ভেঙে ঠাঁই পেয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রভাবশালীরা? এই প্রশ্নই এখন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.