‘কানাডায় ঘৃণার কোনও স্থান নেই’! ইসলামোফোবিয়া রুখতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ ট্রুডোর, প্রশংসা ইমরানের

Home বিদেশ-বিভূঁই ‘কানাডায় ঘৃণার কোনও স্থান নেই’! ইসলামোফোবিয়া রুখতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ ট্রুডোর, প্রশংসা ইমরানের
‘কানাডায় ঘৃণার কোনও স্থান নেই’! ইসলামোফোবিয়া রুখতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ ট্রুডোর, প্রশংসা ইমরানের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গতবছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে কানাডার এক হাড় হিম করা খবরে শিউরে ওঠে গোটা বিশ্ব। প্রবল ইসলাম বিদ্বেষের কারণে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে একটি মুসলিম পরিবারের চারজনকে ট্রাকের তলায় পিষে মেরে ফেলা হয়েছে। দুর্ঘটনার অছিলায় ঘটানো এই হত্যালীলা থেকে বেঁচে যায় পরিবারের ন’বছরের শিশুটি। কানাডা পুলিসও মনে করে ওই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত হামলা। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ২০ বছর বয়সী এক কানাডিয়ানের বিরুদ্ধে চারজনকে হত্যা ও আরেকজনকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। স্থানীয় পুলিসকর্তা পল ওয়েটও জানিয়েছিলেন, ‘হয়তো মুসলিম বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে।’ উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি, কানাডার কুইবেক শহরের মসজিদে ছয় জনকে হত্যার পর কানাডার মুসলিমদের ওপর এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সেদিন ট্যুইটারে লিখেছিলেন, কানাডায় ইসলামোফোবিয়ার (ইসলাম ধর্মের প্রতি ভীতি বা বিদ্বেষ) কোনও স্থান নেই। মুসলিমদের বলতে চাই আমরা আপনাদের পাশে আছি, কানাডা আপনাদের পাশে আছে। অন্টারিওর ঘটনায় আমি আতঙ্কিত। আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি, হাসপাতালে ভর্তি সেই শিশুর পাশে আছি।

সেদিন শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এবার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এক বিরাট পদক্ষেপ করলেন জাস্টিন ট্রুডো। কানাডার মুসলিমদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষায় সে দেশ থেকে ইসলামের প্রতি ভীতি ও ঘৃণা দূর করতে বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা করল কানাডা সরকার।

উল্লেখ করা যেতে পারে কানাডার কুইবেকে ২০১৭ সালে স্থানীয় মসজিদে ভয়াবহ হামলার পরই সে দেশে মুসলিম বিদ্বেষীদের মুখোশ খুলে যায়। মসজিদের হামলায় ৬ জন নিহত হন। জখম হয়েছিলেন কমপক্ষে ২০ জন। ঘটনার পাঁচ বছর পর কানাডা সরকার এই সামাজিক ব্যধি আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল। শুধু কানাডাই নয় ইউরোপ-আমেরিকায়ও মুসলিমদের প্রতি অবিশ্বাস, ভয় ও ঘৃণার আবহ তৈরি করছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠী। এই পরিস্থিতি দূর করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন কানাডার জাস্টিন ট্রুডো নেতৃত্বাধীন সরকার।

গত ৩০ জানুয়ারি কানাডার হাউস অফ কমন্স-এ দেশ থেকে ইসলামভীতি দূর করতে  ওই প্রস্তাব আনে ট্রুডো সরকার। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, মুসলিমদের প্রতি দেশে ক্রমবর্ধমান ঘৃণা ও ভয়ের পরিবেশকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ছাড়া ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ থামাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হবে সরকার নিযুক্ত বিশেষ প্রতিনিধিকে। ট্রুডো সরকারের দাবি ছিল, এই সিদ্ধান্ত দেশের জাতিবৈষম্য বিরোধী নীতিরই প্রতিফলন। সরকারের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে, তা সর্বসম্মতিতে পাস করা হয়। এই প্রেক্ষিতেই কানাডা সরকার ইসলামভীতি দূর করতে একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের ঘোষণা করল।

এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যাঁর সবচেযে বড় ভূমিকা রয়েছে, সেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও বলেন কানাডায় ইসলামবিদ্বেষীদের কোনো স্থান নেই। কানাডার মুসলিমদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য যা করার দরকার তার সবই করবে কানাডার সরকার। ট্যুইটারে তিনি লেখেন, ইসলামোফোবিয়া বরদাস্ত করা হবে না। এখানেই  পূর্ণচ্ছেদ হোক। এই ঘৃণার এখানেই শেষ হবে। মুসলমানদের জন্য কানাডা হবে নিরাপদ স্থান। আর তা নিশ্চিত করতেই আমরা একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করে তাঁর হাতে ইসলামোফোবিয়া দূর করার দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি।

গত বছরই কানাডা সরকার ঘোষণা করে, কিউবেক মসজিদ হামলার স্মৃতিতে  প্রতিবছর ২৯ জানুয়ারি জাতীয় স্মরণ দিবস পালিত হবে। হামলার পাঁচ বছর পর আবারও সরকার ইসলামোফোবিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয়বিদ্বেষ পোষিত হিংসার অবসান ঘটাতে দায়বদ্ধতা স্বীকার করল। কানাডা সরকারের বিবৃতিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ইসলামোফোবিয়া কানাডা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এক কঠোর বাস্তবের চেহারা নিয়েছে। যা দূর করে সকলকে সমাজের এক স্রোতে যুক্ত করতে হবে।

উল্লেখ করা যেতে পারে, গতবছর জুনে অন্টারিও হামলার পর জুলাই মাসে ইসলামোফোবিয়া নিয়ে একটি জাতীয় স্তরে ভার্চুয়াল সামিটের আয়োজন হয়। সেখান থেকেই বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি অন্যতম সুপারিশ আকারে উঠে আসে।
কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রদানমন্ত্রী ইমরান খান। ইসলামবিদ্বেষ দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করায় জাস্টিন ট্রুডোকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ইমরান। বলেছেন, ট্রুডোর পদক্ষেপ বিশ্বের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

ইমরান খানের ট্যুইট, ‘দ্ব্যর্থহীন ভাষায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর ইসলামবিদ্বেষের নিন্দা এবং একজন বিশেষ প্রতিনিধির মাধ্যমে সমসাময়িক দুনিয়ায় এই অন্যায় নির্মূলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তাঁর সময়োপযোগী এই ঘোষণা আমার দীর্ঘদিনের দাবির অনুরণন। আসুন আমরা সকলে হাত মিলিয়ে এই বিপদের অবসান ঘটাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.