BYOMKESH BAKSHI: এক ঝাঁক তারকা নিয়ে, ব্যোমকেশ ফিরছে হত্যামঞ্চে

BYOMKESH BAKSHI: এক ঝাঁক তারকা নিয়ে, ব্যোমকেশ  ফিরছে হত্যামঞ্চে

শুভম সেনগুপ্ত: সিনেমাপ্রেমীদের জন্য বছরভর বিনোদনের সম্ভার সাজিয়ে রেখেছে এসভিএফ (SVF)। সেই তলিকা প্রকাশ পেতেই দেখা গিয়েছিল ব্যোমকেশ বক্সীর (Byomkesh Bakshi) নাম।

ব্যোমকেশ বক্সী (Byomkesh Bakshi)। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সত্যান্বেষী এই চরিত্র বাঙালির আবেগ। আবার বাঙালি মানেই সিনেমাপ্রেমী। সিনেমা- সাহিত্যের মিশেল কী হতে পারে তা অজানা কথা নয়। বরাবরই এই ব্যোমকেশ বক্সীকে (Byomkesh Bakshi)  দেখা গেছে সিনেমার পর্দায়। এবারও তাই। পরিচালক অরিন্দম শীলের (Arindam Sil) পরিচালনায় আবারও বড়োপর্দায় আসতে চলেছে ব্যোমকেশ (Byomkesh Bakshi) । এই নিয়ে চতুর্থবার ব্যোমকেশ পরিচালনা করছেন অরিন্দম। এর আগে মুক্তি প্রাপ্ত ‘হর হর ব্যোমকেশ’, ‘ব্যোমকেশ পর্ব’ এবং ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-এর মতো ব্যোমকেশের সব কটি ছবি দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। পরিচালক (Arindam Sil) বলেন, ‘আমি এখনও পর্যন্ত যতগুলো ছবি করেছি, তার মধ্যে ব্যোমকেশ সিরিজ সব সময়ই আমার মনের খুব কাছের এবং এসভিএফ (SVF) এর মতো বড় সংস্থা আমার ব্যোমকেশের ছবিগুলিকে বড় আকারে তৈরি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া আগের সমস্ত ব্যোমকেশ (Byomkesh Bakshi) এতটা সুন্দরভাবে তৈরি করা সম্ভব হত না। তাদের সঙ্গে ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনের যৌথ উদ্যোগ, একটি অনন্য ছবি তৈরি করতে চলেছে’। সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থবার ব্যোমকেশ ছবিটি পরিচালনা করব, তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি একটি অসম্পূর্ণ গল্পের উপর ভিত্তি করে তৈরি। গল্পটি সম্পূর্ণ করা পদ্মনাভ এবং আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। একথা বলার যথেষ্ট কারণ, এটি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসমাপ্ত কাজ। তাঁর অসমাপ্ত উপন্যাসের চিত্রনাট্য লিখেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। প্রচুর গবেষণা এবং পরিশ্রমের পরে চিত্রনাট্য শেষ করে তৃপ্তি অনুভব করছেন চিত্রনাট্যকার। আমার আগের ব্যোমকেশ ছবিগুলির জন্য যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের থেকে, এবারও ততটা ভালোবাসা সকলে দেবেন বলে আমি আশা করছি। ব্যোমকেশ বক্সিকে (Byomkesh Bakshi) ফের বড়োপর্দায় আনতে এবার ‘ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন্স’ (Camellia Productions)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এসভিএফ। ‘বিশু পাল বধ’ অবলম্বনে এবারের ছবির নাম ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’ (Byomkesh Hatyamancha)। চলতি বছরের ১১ অগস্ট মুক্তি পাবে এই ছবি।

নতুন এই ছবির মাধ্যমে, ১৯৭১ সালের বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ফুটে উঠবে, যেখানে ব্যোমকেশ খুনের রহস্য উন্মোচন করবেন। সেই সময়ের বাংলায় উত্তাল নকশাল বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে তৈরি হবে সেট। একটি থিয়েটারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যোমকেশ বক্সী। প্রতিশোধের এক ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে সে। মঞ্চের একেবারে মাঝখানে ঘটে যাওয়া এক অপরাধের সাক্ষী হয় স্বয়ং সত্যান্বেষী। ব্যোমকেশ বক্সী যখন কেসটির গভীরে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে, ধীরে ধীরে সামনে আসে আরও সত্যি। যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা।

May be an image of 1 person, sunglasses and text that says "sufS ROARING FIVE Camellia ব্যোমাকেশ হত্যামঞ্চ Abir Chatterjee as Byomkesh Bakshi"

এই ছবিতে ফের ব্যোমকেশের ভূমিকায় অভিনয় করবেন আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee) এবং বরাবরের মতো তাঁর স্ত্রী সত্যবতীর ভূমিকায় রয়েছেন সোহিনী সরকার (Sohini sarkar)। তবে এখানেই তো আর শেষ নয়, ব্যোমকেশের লেখক বন্ধু অজিত যদি না থাকে তাহলে কি আর এই বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়? বন্ধু অজিতের ভূমিকায় এই প্রথমবার দেখা যাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পরিচিত মুখ সুহত্র মুখোপাধ্যায়কে। ‘দ্য একেন’ (The Eken) এর পর এই ছবিতে অভিনয় সুহত্রর দ্বিতীয় বড়পর্দায় কাজ।

May be an image of 1 person, sunglasses and text

এছাড়াও নাট্যনির্দেশক বিশুপালের ভুমিকায় অভিনয় করছেন কিঞ্জল নন্দ (Kinjal Nanda), ব্রজদুলালের ভূমিকায় অর্ণ মুখোপাধ্যায় (Arna Mukherjee), পাওলি দামকে (Paoli Dam) দেখা যাবে সুলোচনার চরিত্রে। বিশু পালের থিয়েটারের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে দ্রৌপদীর ভূমিকায়। ক্যাবারে ডান্সার সোমারিয়ার ভূমিকায় দেখা যাবে অনুশা বিশ্বনাথনকে (Anusha Viswanathan), কালীচরণ বা কালীকিঙ্করের ভূমিকায় লোকনাথ দে, অসীম রায়চৌধুরীকে দেখা যাবে পুলিস অফিসার মাধব মিত্রের চরিত্রে। শুধু চিত্রনাট্যেই থেমে থাকেননি পদ্মনাভ দাশগুপ্ত (Padmanabha Dasgupta)। তাঁকেও দেখা যাবে প্রতুলবাবুর চরিত্রে। প্রতিবারের মতোই অরিন্দম শীলের পছন্দের তালিকায় থাকেন বিক্রম ঘোষ (Bikram Ghosh)। এবারও তিনিই এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, এই গল্পটি লিখতে লিখতেই প্রয়াত হন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (Saradindu Bandopadhyay)। পরে সেই গল্পটি শেষ করেন নারায়ণ সান্যাল। তবে তিনি যেভাবে গল্পের শেষটা লেখেন, তা নিয়ে ছবি বানাননি অরিন্দম শীল। এখানে নিজেদের কলম ধরেছেন অরিন্দম শীল (Arindam Sil) এবং পদ্মনাভ দাশগুপ্ত।  পদ্মনাভর কথায়, ‘বিষয়টি একেবারেই সহজ ছিল না। শরদিন্দুবাবুর অসমাপ্ত লেখা শেষ করার দায়িত্ব বিশাল। তাই আমি আর পরিচালক আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করি, আমরা নিজেদের মতো করে শেষ করার চেষ্টা করব না। কারণ, কোনও সাহিত্যিক যখন গোয়েন্দা উপন্যাস লেখেন, তখন তিনি লিখতে লিখতেই অপরাধীর জন্ম দেন। এমন কিছু বৈশিষ্ট্য গল্পে ছড়িয়ে দিতে থাকেন যার সূত্র ধরে পরে জানা যায় কে প্রকৃত অপরাধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.