বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহের ঝাঁজ! ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া মহাসংঘের বৈঠক করলেন শান্তনু ঠাকুর

Home রাজ্য বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহের ঝাঁজ! ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া মহাসংঘের বৈঠক করলেন শান্তনু ঠাকুর
বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহের ঝাঁজ! ঠাকুরবাড়িতে মতুয়া মহাসংঘের বৈঠক করলেন শান্তনু ঠাকুর

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বঙ্গ বিজেপিতে ‘বিদ্রোহ’ নিজের শক্তি বাড়াচ্ছে। যে বিদ্রোহের মুখ হয়ে উঠছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। শনিবার  কলকাতার পোর্ট ট্রাস্ট গেস্ট হাউসে বৈঠকের পর, রাজ্যে দলের এক  শীর্য নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। আর রবিবারই নিজের গঢ় ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে বসে বিক্ষুব্ধদের নিয়ে বৈঠক করলেন শান্তনু।যেখানে যোগ দিলেন বিজেপির ৩ বিধায়কও।যদিও মতুয়া মহাসংঘের সাংগঠনিক বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেই দাবি বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। সূত্রের খবর, এগিনের বৈঠকে সিএএ কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জানা গিয়েছে সংঘাধিপতি হিসেবেই অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন শান্তনু ঠাকুর। রাজ্যের সব প্রান্তের সদস্যরা এই বৈঠকে অংশ নেন। ছিলেন বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী, অশোক কীর্তনীয়া, সুব্রত ঠাকুরও। বৈঠক শেষে শান্তনু নিজেই জানান, তাঁরা শুধু সাংগঠনিক বিষয়েই আলোচনা করেছেন। অন্য কিছু নিয়ে নয়। এই বৈঠক পূর্ব নির্ধারিত ছিল বলে দাবি সুব্রত ঠাকুরের। তবে সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে সিএএ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সিএএ কার্যকর করার দাবি তোলা হবে বলেও স্থির করেছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের নেতা মন্ত্রীরা এরাজ্যে এসে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন ৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখেও সেই আশ্বাস শোনা গিয়েছিল৷ ভোটে ভরাডুবির পর তা নিয়ে আর বা়ডতি শব্দ উচ্চারণ করেননি বিজেপি নেতৃত্ব৷বাংলায় বিজেপির কোণঠাসা দশায়, মতুয়াদের দাবি মতো নাগরিকত্ব আইন চালু করা নিয়ে মোদি সরকার কর্ণপাত করবে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল।

কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের গেস্ট হাউসে শনিবারই বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতারা৷ সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে ওই বৈঠক শেষে আলাদা মঞ্চ গড়ার খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি না মেনে নিলে শ্যমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও পিআর ঠাকুরের নামে আত্মপ্রকাশ করবে ওই মঞ্চ৷ তবে রাজ্য বিজেপির সংগঠনে মতুয়া প্রতিনিধিত্ব যথাযথ না থাকাই যেহেতু ঠাকুরবাড়ির বিরোধিতার প্রধান কারণ,ফলে রবিবারের বৈঠককে বিজেপির অন্দরের বিদ্রোহের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেখতে রাজি নন অনেকেই।

বিজেপির নয়া রাজ্য কমিটি গঠিত হতেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে শুরু হয় বিদ্রোহ৷ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বিজেপির জেলা কমিটি ঘোষণা করতেই হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়েন পাঁচ মতুয়া প্রভাবিত এলাকার বিধায়ক৷ সেই তালিকায় রয়েছেন, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী । এরপর নতুন বছরের শুরুতেই বিজেপির হোয়্যাটস গ্রুপ ছেড়ে দলকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.