সাহায্যের হাত, ইউক্রেনীয় (Ukraine) সেনাবাহিনীকে বিটকয়েন (bitcoin) অনুদান

Home বিদেশ-বিভূঁই সাহায্যের হাত, ইউক্রেনীয় (Ukraine) সেনাবাহিনীকে বিটকয়েন (bitcoin) অনুদান
সাহায্যের হাত, ইউক্রেনীয় (Ukraine) সেনাবাহিনীকে বিটকয়েন (bitcoin) অনুদান

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাশিয়া (Russia) ইউক্রেন (Ukraine) আক্রমণ করার পরেই, ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে অর্থসাহায্য করা শুরু করেছেন বহু মানুষ। গত ২৪ ঘন্টায়, মাত্র একটি গ্রুপকেই ৪০০,০০০ ডলার মূল্যের বিটকয়েন দান করা হয়েছে।কাম ব্যাক অ্যালাইভ, একটি ইউক্রেনীয় এনজিও। এই এনজিও ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য ক্রিপ্টো তহবিল সংগ্রহ করে। গত এক দিনে ৪০০,০০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের ডিজিটাল টোকেন পেয়েছে। ব্লকচেইন এবং ক্রিপ্টো অ্যানালিটিক্স ফার্ম এলিপটিক (Elliptic) এই তথ্য জানিয়েছে।অর্থ সাহায্যের গড় পরিমাণ প্রায় ১,০০০ ডলার থেকে ২,০০০ ডলার। এবং এই গ্রুপটি গত দুই দিনে অন্তত ৩১৭টি ব্যক্তিগত অনুদান পেয়েছে।টুইটার এবং ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইউক্রেনপন্থী গোষ্ঠী এবং প্রো-ক্রিপ্টো গোষ্ঠীগুলিও সাহায্য করেছে।

Elliptic জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদানের ঊর্ধ্বগতি ইঙ্গিত করে যে ডিজিটাল সম্পদগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প তহবিলের পদ্ধতি হিসাবে উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক দাতাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাইপাস করার সুযোগ দেয় কারণ এই গোষ্ঠীগুলিতে অর্থ সাহায্য ব্লক করছে।রাশিয়া (Russia) যাতে ইউক্রেনের (Ukraine) উপর হামলা না চালায়, তার জন্য বারংবার সতর্ক করেছিল আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো পশ্চিমী দেশগুলি। কিন্তু সেই পরামর্শে কর্ণপাত করেনি রাশিয়া। সুযোগ পেতেই বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে রাশিয়া। এদিকে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই রাশিয়াকে বিপাকে ফেলতে যাবতীয় অর্থ সাহায্য ও অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। পাঁচটি রাশিয়ান ব্যাঙ্কের উপর জরিমানাও জারি করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার একাধিক ধনকুবের ও তাদের পরিবারের উপরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে আমেরিকার এই চাপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ পুতিন, কারণ তাদের হাতে নগদ না থাকলেও, বিকল্প হিসাবে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি (Cryptocurrency)। সেই কারণেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও দেশের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত নয় রাশিয়া।আগামিদিনে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ্য করার পথেই হাঁটছে রাশিয়া। দেশের একটা বড় অংশের হাতে ডিজিটাল সম্পত্তিও রয়েছে। সাধারণত আর্থিক অনুদান এড়াতে নগদের উপর ভরসা রাখে ছোট ছোট দেশগুলি। ভেনেজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলি এর অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু সেখানেই বড় বড় দেশ, যেখানে ডিজিটাল সম্পত্তি বৈধ বা গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি, সেই সমস্ত দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো অদৃশ্য মুদ্রার উপর ভর করেই আর্থিক মন্দা কাটিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে। রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলির উপর যে জরিমানা বসানো হয়েছে, তা ডিজিটাল অর্থনীতির উপর ভরসা করেই দূর করা সম্ভব। কারণ কোনও সরকারই বিটকয়েন নেটোয়ার্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না।

রাশিয়ার ও ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia-Ukraine Crisis) প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrency) আর বিটকয়েনের (Bitcoin )বাজারে। রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণার পরই ক্রিপ্টোকারেন্স , বিটকয়েন চার শতাংশ পড়ে হয়েছে ৩৪,৯৩২.০৭ ডলার।গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণে গোটা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যা আগামী দিনে আরও বেশি করে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। এই যুদ্ধের উত্তেজনার প্রথম দিনেই দেখা যাচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার নিচের দিকে নেমে গেছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র ক্রিপ্টোকারেন্সিকেই প্রভাবিত করবে না বড় প্রভাব ফেলতে পারে আর্থিক বাজারে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইক্যুইটিগুলিও।ভোরবেলাই টেলিভিষণে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। তাঁর যুদ্ধ ঘোষণার পরই রুশ বাহিনী ইউক্রেন (Ukraine) আক্রমণ করে। রাশিয়ার (Russia) দাবি ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে ইতিমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। হামলা চালান হয়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও (Kyiv)। যুদ্ধের আতঙ্কে পুরোপুরি নিস্তব্ধ রাজধানী কিয়েভ। দীর্ঘ দিন ধরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট চলছিল। এই অবস্থায় পুতিন জানিয়েছেন, আধুনিক ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া নিজেকে নিরাপদ মনে করছে না। যা দিনে দিনে রাশিয়ার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাই এই যুদ্ধে রক্তপাতের সমস্ত দায়ই ইউক্রেনের। সেই কারণ দেখিয়ে তিনি ইউক্রেনের সেনা বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন। পুতিন আরও বলেছেন, রাশিয়ার উদ্দেশ্য ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করা বা রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা নয়। মস্কো কোনও কিছুই ইউক্রেনের ওপর চাপিয়ে দেবে না।যদিও রাশিয়ার হামলার পরই ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, রাশিয়ার এই হামলার জবাব দেবে ইউক্রেন। এই যুদ্ধে তারা লড়াই করবে। জেতার বিষয়েও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে এটি একটা আগ্রাসনের যুদ্ধে। তাই ইউক্রেন রাশিয়ার কাছে মাথা নত করবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.