প্রথম মিউজিক ভিডিওয় (Music video) অভিনয়, উচ্ছ্বসিত বাসবদত্তা

Home জলসাঘর প্রথম মিউজিক ভিডিওয় (Music video) অভিনয়, উচ্ছ্বসিত বাসবদত্তা
প্রথম মিউজিক ভিডিওয় (Music video) অভিনয়, উচ্ছ্বসিত বাসবদত্তা

শুভম সেনগুপ্ত: বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়— ছোট পর্দার চেনা মুখ। শুধু ছোট পর্দা কেন, বড়ো পর্দার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তবে সাম্প্রতিক কালে ফিরিয়ে দিয়েছেন একাধিক কাজের প্রস্তাব। ছোট-বড়ো পর্দায় ‘আসা যাওয়ার মাঝে’ও তিনি ব্যস্ত নতুন কাজ নিয়ে। ব্যস্ততার মাঝেই বঙ্গভূমি লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কাজের গল্পই মেলে ধরলেন অভিনেত্রী। ‘গানের ওপারে’র বাসবদত্তা এবার গানের এপারে। এই প্রথম মিউজিক ভিডিওতে (Music Video) দেখা যাবে অভিনেত্রী বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়কে।

বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়

গজল-সম্রাট জগজিৎ সিং- (Jagjit Singh)এর গাওয়া গজলে তৈরি হল মিউজিক ভিডিও (Music Video)। জনপ্রিয় গজল ‘কভি খামোশ বয়ঠোগে’ গানটি নিজস্ব ভঙ্গিমায় নতুন করে গেয়েছেন তরুণ গজল-গায়ক অর্ণব বিশ্বাস। অর্ণবের গাওয়া গজলেই অভিনয় করলেন বাসবদত্তা (Basabdatta Chatterjee)। সম্প্রতি কলকাতার একটি বনেদি বাড়িতে শেষ হয়েছে এই মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিং। বাসবদত্তা যেমন এই প্রথম মিউজিক ভিডিওতে কাজ করলেন তেমনই গায়ক অর্ণব এই প্রথম অভিনয় করলেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওয় অভিনয় করতেও দেখা যাবে তাঁকে। বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, অর্ণব বিশ্বাস ছাড়াও ভিডিওয় দেখা যাবে প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং ঋদ্ধিমান মিত্রকে। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই অর্ণব বিশ্বাসের আরও একটি গজল অ্যালবাম ইউনিভার্সল রেকর্ড থেকে সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে। সেই অ্যালবামে অনুপ জালোটার সঙ্গে ডুয়েট গেয়েছেন অর্ণব। ইতিমধ্যেই ভারতীয় সঙ্গীতমহলে তা সাড়াও ফেলেছে। স্বয়ং অনুপ জালোটা অর্ণবের গায়কীতে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। গজল-দুনিয়ায় ক্রমশই নিজের জায়গা শক্ত করছেন অর্ণব। জগজিৎ সিংয়ের এই গজল নিয়েও আশাবাদী তিনি।

অর্ণবের এই মিউজিক ভিডিওয় (Music Video) কাজ করে কেমন লাগল বাসবদত্তার? অভিনেত্রীর কথায়, ‘এর আগে এরকম কাজ দেখেছি কিন্তু করার সুযোগ হয়নি। অর্ণবদা গজলটি খুব সুন্দর গেয়েছেন। তার ওপরেই এই মিউজিক ভিডিও অ্যালবামে কাজ করলাম। প্রথমবার একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হল। গানটা শুনেই আমি এই কাজটা করতে রাজি হয়ে যাই। অর্ণবদা এই গল্পেও একজন গায়ক, আমার চরিত্রের গানের শিক্ষক তিনি। অভিনেতা হিসেবে ওঁর প্রথম কাজ এটা। সবমিলিয়ে ভীষণ ভাল লেগেছে।’
গায়ক ও ভিডিওর (Music Video) অন্যতম অভিনেতা অর্ণব বিশ্বাসের কথায়, ‘যখন আমি আমার বন্ধু, সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের এই গানটির দৃশ্যপট শুনিয়েছিলাম, তখন প্রচুর উৎসাহ, প্রশংসা পেয়েছিলাম। আমি সবসময় গল্পের আকারে আমার কাজ তুলে ধরতে চেয়েছি। যেটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সেক্ষেত্রে মিউজিক ভিডিওর (Music Video) থেকে ভাল উপায় আর কী আছে? আমার বন্ধু সৌরভ, অনুরাগ সকলে আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছে। আউটপুট কতটা ফলপ্রসূ হবে সেই তাগিদ আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। আমি চেষ্টা করি পা মাটিতে রেখে কাজ করার। তবেই কাজ সার্থক হয়, পূর্ণতা পায়। আমি সেই চেষ্টা চালিয়েছিলাম বলা ভাল সবসময় চালাই।

বাসবদত্তার কাজে কতটা খুশি অর্ণব? তাঁর কথায়, ‘আমি ভীষণই খুশি। ওঁর অভিনয়ের দক্ষতা আমার খুব পছন্দের। ফলে যখনই আমার মাথায় এই চরিত্রের কথা আসে, বাসবদত্তার কথাই মনে হয়। বাসবদত্তার (Basabdatta Chatterjee) থেকে ভাল অভিনয় কেউ করতেই পারবে না। যেভাবে চরিত্রের ধূসর শেডগুলো ধরা পড়েছে, বারবার নিজের কাজ দিয়ে বাসবদত্তা আমায় মুগ্ধ করেছে।’
একসময় ধারাবাহিকে বাসবদত্তার রমরমা, জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। বিগত বেশ কিছু দিন ধরে বাসবদত্তার ছোট পর্দায় অনুপস্থিতি প্রশ্ন জাগাচ্ছিল তাঁর ভক্তদের মনেও।
সচেতন ভাবেই কি কাজ কমিয়ে দিয়েছেন বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়? তাঁর কথায়, ‘আমি বরাবর অন্যরকম কাজ করার চেষ্টা করি। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। কাজের বিষয়ে আমি বড্ড বাছাই করে চলি। তবে সবসময় যে এমনটা হয় তা নয়। আমি একজন অভিনেত্রী। এটাই আমার রোজগারের মুখ্য চাবিকাঠি। রোজগারের প্রয়োজনে না চাইতেও অনেক কাজ করতে হয়েছে। অগ্রিম টাকা নিয়ে যাদের কাজ আমার পছন্দ না হলেও হ্যাঁ বলেছি, তাঁদের প্রতিও তো আমার একটা দায় থাকে। সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমার কথা ভাবলেও তো হবে না, আমার অনুরাগীদের প্রতিও আমার একটা দায় থাকে, ওদের ভাল কাজ উপহার দেওয়া আমার কর্তব্য।’
তরুণ শিল্পী অর্ণবের সঙ্গে মিউজিক ভিডিওতে (Music Video) অভিনয় তাঁর অনুরাগীদের জন্য কত বড়ো উপহার তা আর বলে দিতে হয় না।

মিউজিক ভিডিওয় অর্ণব এবং বাসবদত্তা

‘নেতাজি’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর থেকেই কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হয়েছেন বাসবদত্তা। নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান না যে কোনও এক ধরনের চরিত্রে। বাসবদত্তা জানিয়েছেন, ‘নেতাজি’তে সুভাষচন্দ্র বসুর মায়ের চরিত্র করার পর থেকে একাধিক মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে তাঁর কাছে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি মনে করি আমার এখনও মায়ের চরিত্র করার বয়স হয়নি। প্রভাবতী দেবীর মতো একটি চরিত্রে সুযোগ পেয়েছিলাম বলে রাজি হয়েছিলাম। তার মানে এই নয় যে, বারবার একই ধরনের চরিত্র করে যাব।’ যদি তাই হয়, সেই ধারাবাহিকে আমার নাতি-নাতনিও ছিল। তাহলে কি এখন আমি ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করব?
স্নিগ্ধ এবং মার্জিত বাসবদত্তার কথায় কিন্তু বরাবরই অনেক প্রশ্ন উকি দিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.