লতার প্রয়াণে একাধিক যুগের অবসান, ২ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

Home অ‘‌সাধারণ’ লতার প্রয়াণে একাধিক যুগের অবসান, ২ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
লতার প্রয়াণে একাধিক যুগের অবসান, ২ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সাধারণত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-ক্রীড়ার জগতে গুরুত্বপূর্ণ কেউ প্রয়াত হলে বিষয়টিকে ১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বারই ‘একটি যুগের অবসান’ বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। প্রয়াতকে বিরল বিপুল সম্মান জানানোর জন্যই এটা করা হয়। কিন্তু লতা মঙ্গেশকরের ক্ষেত্রে সম্ভবত এই অতি চেনা লব্জ বড় ম্যাড়মেড়ে দেখাবে। কেননা লতার মৃত্য়ুতে তো একটি নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিজগতের একাধিক যুগের অবসান ঘটল। ভারতীয় লঘুসঙ্গীতের জগতে বোধ হয় ভেঙে পড়ল গোটা গানের ঘরটিই।৯২ বছর বয়সে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘ ভারতের কোকিলকন্ঠী’। রবিবার সকাল ৮.১২ মিনিটে প্রয়াত হন লতা মঙ্গেশকর। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। লতার প্রয়াণে সোমবার অর্ধ দিবস ছুটি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও।

প্রয়াত সুর-সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। গত ৮ জানুয়ারি করোনা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর থেকে ছিলেন আইসিইউতে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিলেন মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে।গতকাল লতা মঙ্গেশকরের স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হওয়ার খবর পাওয়ার পরই দিদিকে দেখতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে গিয়েছিলেন বোন আশা ভোঁসলে। আশা ভোঁসলে ছাড়াও, চলচ্চিত্র নির্মাতা মধুর ভান্ডারকর, সুপ্রিয়া সুলে এবং রশ্মি ঠাকরেকেও লতা মঙ্গেশকরকে দেখতে হাসপাতালে যান। এর আগে, এমএনএস প্রধান রাজ ঠাকরেও হাসপাতালে লতা মঙ্গেশকরকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। লতাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। লতাকে দেখতে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে গেলেন মধুর ভান্ডারকর।গত ৮ জানুয়ারি করোনা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ২৭ দিন ধরে তিনি মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। আজ সকালে জীবনাবসান হয় সুর সম্রাজ্ঞীর। করোনার সঙ্গে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন গায়িকা। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছিল তাঁর। বের করা হয়েছিল ভেন্টিলেশন থেকেও। তবে ফের তাঁর ফের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আইসিইউ-তে। গতকাল রাত থেকেই শারিরীক অবস্থার অবনতি হয়েছিল।১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দৌরে জন্ম হয় লতা মঙ্গেশকরের। তাঁর বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন খ্যাতনামা মরাঠী, কোঙ্কনী সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যশিল্পী। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবার কাছেই গানের তালিম শুরু হয় ছোট্ট লতার। ১৯৪১ সালের ১৬ ডিসেম্বর গায়িকা হিসেবে পথ চলা শুরু হয় লতা মঙ্গেশকরের। ৩৬টিরও বেশি ভাষায় ৩০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। রেখে গেলেন তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি এবং লক্ষ লক্ষ অনুরাগীকে। একের পর এক সাফল্যের সোপান তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন অবলীলায়। হয়ে উঠেছেন ভারতের নাইটিঙ্গল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় হয়েছে তাঁর গান শুনে। আর সঙ্গীত জগতের নক্ষত্রপতনে শোকের ছায়া সুরের জগতে।

লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ট্যুইট, ভারতের প্রয়াত আইকন ভারতরত্ন লতা মঙ্গেশকরকে আমার অন্তরের শ্রদ্ধা। তাঁর পরিবার ও গোটা বিশ্বে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা। প্রতিভার নিরিখে তিনি সঠিক অর্থেই ভারতের নাইটিঙ্গল। তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। এই গ্রহের তাঁর সমস্ত ভক্ত ও অনুরাগীদের মতো আমিও তাঁর কণ্ঠস্বরে মুগ্ধ ছিলাম। বাংলা ও পূর্ব ভারতকে শুধু মনে জায়গা দেওয়াই নয়, নিজের অসাধারণ সঙ্গীত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলায় আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। টুইটে লেখেন মুখ্যমন্ত্রী।২০০১ সালে পান ভারতরত্ন সম্মান৷ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ বার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ৪ বার৷এছাড়া পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে, রাজীব গান্ধী পুরস্কার-সহ অজস্র সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন লতা মঙ্গেশকর৷

বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ লতা মঙ্গেশকরের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে প্রভুকুঞ্জের বাসভবনে। বিকেল ৪টে নাগাদ নিয়ে যাওয়া হবে শিবাজি পার্কে। সন্ধে সাড়ে ৬টায় শেষকৃত্য। লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে ২ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল রাজ্যেও অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে টুইটারে লিখেছেন, লতাজির মৃত্যু গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের মতো আমার কাছেও হৃদয়-বিদারক। তাঁর গানের বিস্তৃত পরিসরে ভারতের সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। একের পর এক প্রজন্ম তাঁর গানে আবেগ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পেয়েছে। ভারতরত্ন লতাজির কৃতিত্ব অতুলনীয়। শতাব্দীতে এমন শিল্পী একজনই জন্মান। লতা দিদি ছিলেন ব্যতিক্রমী চরিত্র। যখনই দেখা হয়েছে আন্তরিক ব্যবহার পেয়েছি। ঐশ্বরিক কণ্ঠ চিরকালের জন্য থেমে গেলেও তার সুর অমর, অনন্তকাল ধরে প্রতিধ্বনিত হবে। পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা। টুইটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতির।

Leave a Reply

Your email address will not be published.