নিউ নর্মালে স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যা শিশুদের, বেড়েছে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ড্রপ আউট

Home দেশের মাটি নিউ নর্মালে স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যা শিশুদের, বেড়েছে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ড্রপ আউট
নিউ নর্মালে স্কুলে মানিয়ে নিতে সমস্যা শিশুদের, বেড়েছে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ড্রপ আউট

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কোভিডের চোখরাঙানি কাটিয়ে দেড়-দু’বছর পর, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে খুলতে শুরু করেছে স্কুলের দরজা। প্রথমে মাধ্যমিক –উচ্চমাধ্যমিক স্তর, তারপর ধীরে ধীরে নিচু শ্রেণির ছেলেমেয়েদের স্কুলমুখী করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে শিশুদের। এমনকী উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারাও নিজেদের বেশ গুটিয়েই রেখেছে।

কোভিড পরবর্তী  নিউ নর্মাল দুনিয়ায় স্কুলের পরিবেশেও বেশ বদল এসেছে। তাই হয়ত শিশুরা স্কুলের ছেড়ে যাওয়া সেই পুরনো ছবি খুঁজে পাচ্ছে না। রয়ে গেছে ইতস্তত ভাব। অনলাইন ক্লাস যাদের একেবারেই না পসন্দ ছিল, রোজকার স্কুলে যাতায়াতের অভ্যাস ফিরে আসায় খুশিও হয়েছে তাদের অনেকেই।

সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়, দেশের প্রাথমিক স্তরের ১৪ শতাংশ শিশুই আবসাদে ভুগছে, এতদিন বাড়িতে থাকার পর স্কুলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষের কথাতেও একই ছবি ধরা পড়েছে।  জানা গেছে কোভিডের আগে এই বাচ্চারাই ক্লাসে যতটা সপ্রতিভ ছিল, দুরন্তপনা করত, এখন যেন সেই চেনা বাচ্চাগুলো হারিয়ে গেছে। অনেকেই ক্লাসে ঠিকমতো মন দিচ্ছে না। দু’বছর আগেও শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে তারা যে উৎসাহ নিয়ে কথা বলত, আজ তারাই যেন কেমন মিইয়ে গেছে।

শিক্ষাবিদদের অনেকেই  মনে করছেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে বেশিরভাগ বাবা-মায়েরা যে ভয় পেয়েছেন, তা শিশুগুলির মধ্যেও ঢুকে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে, সহপাঠীদের সঙ্গে পারষ্পরিক ব্যবহারে। তাদের  স্বাভাবিক স্কুল জীবনে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত, স্বাভাবিক লেখাপড়া শুরুও সম্ভব নয় বলে এঁদের মত।

অন্যদিকে আরেকটু  উঁচু ক্লাসের ছেলেমেয়েদের দেখা যাচ্ছে নিজেদের বেশ গুটিয়ে রাখতে। বেড়েছে বন্ধু-বান্ধবদের এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। একাধিক স্কুলের কাউন্সিলাররা মনে করছেন , করোনা কাল বাচ্চাগুলির  মানসিক স্বাস্থ্যে দারুন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে বিত্তশালী পরিবারগুলির শিশুদের তুলনায়, অভাবী পরিবার বা সরকারি স্কুলে যাওয়া ছেলেমেয়েরা এই অবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার। কারণ বহু পরিবারের বাবা বা মা অথবা তাঁদের দুজনেই চাকরি হারিয়েছেন। যার প্রভাব পড়েছে তাদের রোজকার খাওয়াপড়ার জীবনেই। টিফিন থেকে ইউনিফর্ম-যার ছাপ পড়েছে সর্বত্রই। তার উপর অনেকেই এতদিন ফোনের অভাবে অনলাইন ক্লাস করার সুযোগও পায়নি। ফলে লেখাপড়ায় পিছিয়ে গিয়ে  তারা দারুনভাবে হীনমন্যতার শিকার।

অন্যদিকে আরও একটি তথ্য সামনে আসছে, যা সমাজের জন্য একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয়। কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্কুল খোলার পর,নিম্নবিত্ত পরিবারের বহু মেয়েকেই আর স্কুলে আসতে দেখা যাচ্ছে না। ছাত্রীদের এই ড্রপ আউটের কারণ, পরিবারে আর্থিক সঙ্গতি কমে যাওয়া। সেখানে যদি একজন সন্তানকেও স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য থাকে বাবা-মায়ের,সেখানে কন্যাকে নয়, স্কুলে পাঠানো হচ্ছে পুত্রকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.