দেশরক্ষায় (Russia-Ukraine War) ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ ৯৮ বছরের ‘যুবতীর’

দেশরক্ষায় (Russia-Ukraine War) ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ ৯৮ বছরের ‘যুবতীর’

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বেশ কয়েকদিন ধরে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ (Russia-Ukraine War) নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। ইউক্রেনে ঢুকে একের পর এক অংশ দখল করতে শুরু করেছে রাশিয়া। ক্রমশই কঠিন হয়ে পড়ছে ইউক্রেনের (Ukraine) পরিস্থিতি। এরই মধ্যে রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia-Ukraine War) প্রকাশ্যে এল দেশপ্রেমের এক নতুন গাথা ! এতদিনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এই যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষেই অসম লড়াই। প্রবল পরাক্রমশালী রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সেভাবে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি ইউক্রেন। তাই বলে দেশপ্রেম কখনও মিথ্যে হতে পারে না। বারংবার সেই উদাহরণ রাখছেন ইউক্রেনের সৈনিক থেকে শুরু করে অসামরিক সাধারণ মানুষ। আবারও নজির গড়লেন ৯৮ বছর বয়সি এক ইউক্রেনীয় বৃদ্ধা। বয়স যাই হোক, মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যুদ্ধক্ষেত্রে সামিল হতে চেয়েছেন তিনি। ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রক (Ukrainian Ministry Of Foreign Affairs) সূত্রে তাঁদের অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একথা জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সেই ট্যুইট। দেশের প্রতি বৃদ্ধার এই অকুন্ঠ ভালবাসাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন আবেগবিহ্বল নেটিজেনরা।

প্রায় শতবর্ষে পা রাখতে চলা এই বৃদ্ধার নাম ওলহা টিভেরদখলিবোভা (Olha Tverdokhlibova)। অসীম সাহসী এই ‘যুবতী’ তাঁর জীবনের শুরুর দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War II) মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই সময় দেশমাতৃকার সম্মান বাঁচাতে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি। সৈনিকদের মনোবল বাড়াতে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এই বৃদ্ধা। এখন বয়সের ভারে শরীর আর দেয় না, হাড়ে জোর কমেছে। তবুও প্রিয় দেশ যখন বিপন্ন, তখন অশক্ত শরীরেও টগবগ করে ফুটছে বৃদ্ধার রক্ত! মানসিকভাবে তিনি এতটাই চাঙ্গা যে সেনাবাহিনীতে (Ukraine Army) যোগদানের জন্য বয়স তাঁর কাছে কোনও বাধাই নয়। ওলহা জানিয়েছেন, তিনি তাঁর জীবদ্দশায় শান্তিপূর্ণ ইউক্রেন দেখে যেতে চান। এই যুদ্ধ, হানাহানি অবিলম্বে বন্ধ হোক সর্বশক্তিমানের কাছে এটাই তাঁর প্রার্থনা।

ওলহার ছবি শেয়ার করে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রক (Ukrainian Ministry Of Foreign Affairs) সূত্রে ট্যুইটারে লেখা হয়েছে, ‘৯৮ বছর বয়সি ওলহা টিভেরদখলিবোভা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী ছিলেন যিনি। প্রবীণ এই মহিলা তাঁর জীবনে দ্বিতীয়বারের জন্য যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি আবারও তাঁর মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন। অবশ্য সমস্ত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বয়সজনিত কারণে তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা নিশ্চিত, তিনি কিয়েভে দ্রুত আরও একটি জয় উদযাপন করবেন’। এমনই এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া হয়েছে ইউক্রেন সরকারের তরফ থেকে।

এরকমই আরও একটি ছবি বেশ কিছুদিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ সেনাবাহিনীতে যোগদানে উৎসাহিত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই বৃদ্ধের লাইন দেওয়ার সেই ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গিয়েছিল, একটি ছোট স্যুটকেস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি। দেখেই মনে হচ্ছিল যুদ্ধে সামিল হতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। ওই বৃদ্ধ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘আমি আমার নাতি নাতনিদের জন্য এটি করছি’। নেটিজেনরা এক্ষেত্রেও বৃদ্ধের এই সাহসিকতার পরিচয় পেয়ে অগণিত প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে।

ইউক্রেনের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সহনাগরিকদের সমর্থনে প্রবীণ-প্রবীণারা যেভাবে পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন, নজির সৃষ্টি করছেন তা সত্যিই অনবদ্য। প্রসঙ্গত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ (Russia-Ukraine War) প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। গত ২৪ দিনের লড়াইয়ে পুতিন বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে জিতলেও, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের একাধিক কাণ্ড-কারখানা দেখে ইউক্রেন দেশটিকে ভালবেসে ফেলেছেন সমগ্র বিশ্বের মানুষ। ওলহা টিভেরদখলিবোভার এই বয়সে দাঁড়িয়েও যুদ্ধে সামিল হওয়ার এই ইচ্ছেকে বাহবা জানিয়েছেন নেটিজেনরা। সকলেই বলেছেন, ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের এই লড়াকু মনোভাবের কারণেই হাজার চেষ্টাতেও এখনও কিয়েভ দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। এখানেই দেশপ্রেমের প্রকৃত জয়। যুদ্ধ, হানাহানি এত কিছুর মধ্যেও বড় হয়ে উঠছে দেশপ্রেম। আর ক্রমশ রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ হয়ে উঠছে দেশপ্রেমের নতুন গাথা! 

Leave a Reply

Your email address will not be published.