দেশকে রক্ষার তাগিদ, ইউক্রেন (Ukraine) সেনায় (army) যোগ দেওয়ার লাইনে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ছবি ভাইরাল

Home বিদেশ-বিভূঁই দেশকে রক্ষার তাগিদ, ইউক্রেন (Ukraine) সেনায় (army) যোগ দেওয়ার লাইনে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ছবি ভাইরাল
দেশকে রক্ষার তাগিদ, ইউক্রেন (Ukraine) সেনায় (army) যোগ দেওয়ার লাইনে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, ছবি ভাইরাল

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এর নামই দেশপ্রেম। যেখানে বয়স কোনও বাধাই নয়। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন ৮০ বছর বয়সি তরুণ। না তাঁর উদ্যম দেখে তাঁকে কখনওই বৃদ্ধ বলা যাবে না। আর তাঁর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ছবি ভাইরাল হচ্ছে। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, সোশ্যাল মিডিয়া ইউক্রেনের নাগরিকদের হৃদয় বিদারক ছবি নিয়ে আবেগবিহ্বল নেটিজেনরা। ইউক্রেনের একটি পাতাল রেল স্টেশনের ছবি ভাইরাল হয়েছে। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক দম্পতি চোখের জলে পরস্পরকে বিদায় জানাচ্ছেন।

অপর একটি ভাইরাল ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একজন বাবা এবং মেয়ে কাঁদছেন এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন। এই হৃদয় বিদারক ভিজ্যুয়ালগুলি নেটিজেনদের হতবাক করে দিয়েছে। তবে সব থেকে নজর কেড়ে নিয়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ৮০ বছর বয়সি ব্যক্তির ছবি। কাতেরিনা ইউশচেঙ্কো নামক এক ইউক্রেন নাগরিক টুইটারে এই ছবিটি শেয়ার করেছেন। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে লাইেন দাঁড়িয়ে আছেন। দেখেই মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত তিনি।তাঁর এই মনোভাব অবশ্যই আপনাকে অশ্রুসিক্ত করবে। অপর একজন পোস্ট করেছেন, ওই ব্যক্তির ছোট ব্যাগে রয়েছে, ২টি-শার্ট, এক জোড়া অতিরিক্ত প্যান্ট, একটি টুথব্রাশ এবং দুপুরের খাবারের জন্য কয়েকটি স্যান্ডউইচ। ৮০ বছরের ওই ব্যক্তি বলেছেন, ‘আমি আমার নাতি-নাতনিদের জন্য এটি করছি।’ পোস্টটিতে ইতিমধ্যেই ১৩৩কে লাইক এবং প্রচুর প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে। নেটিজেনরা দেশের প্রতি এই সাহসী মানুষটির ভালবাসা নিয়ে কোনও প্রশংসাই বাদ রাখেননি। অনেকেই এই পোস্টের কমেন্টস বিভাগে শান্তির বার্তা শেয়ার করেছেন।দেশের সঙ্কটে পাশে দাঁড়াতে সতত তৎপর এই বৃদ্ধ। হাতের একটি স্যুটকেস নিয়ে সোজা হাজির ইউক্রেনীয় বাহিনীর সেনা (Ukrainian army) ছাউনিতে। রাশিয়ার (Russia) বিরুদ্ধে দেশের হয়ে যুদ্ধ করবেন তিনিও। অসমর্থ দুটো হাতে বন্দুক তুলে দেশের শত্রুর চোখে চোখ রাখতে পিছপা নন তিনি। আর এই ছবিই ভাইরাল নেটদুনিয়ায়।

শুক্রবার এই ছবি শেয়ার করেছেন ইউক্রেনের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি কাতেরিনা মাইখাইলিভনা ইউশচেঙ্কো (Kateryna Mykhaylivna Yushchenko)। এই ছবিটি শেয়ার করার পর তিনি লিখেছেন, নাতি-নাতনিদের জন্য এই ছবি রাখছেন তিনি। টুইটার ক্যাপশনে লিখেছেন, কেউ একজন ৮০ বছরের এই বৃদ্ধের ছবি পোস্ট করেছেন। যিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে গিয়েছেন এবং তার সঙ্গে একটি ছোট স্যুটকেস। তিনি বলেছিলেন যে তিনি এটা তাঁর নাতি-নাতনিদের জন্য করছেন।ছবিটি কোথায় তোলা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে মাইক্রো-ব্লগিং সাইটে এটি এখন পর্যন্ত ২.৪৮ লাখেরও বেশি লাইক পেয়েছে এবং ৩৯,০০০ জন টুইটার ইউজার শেয়ার করেছে। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক কিয়েভের বাসিন্দাদের বলেছে আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার জন্য পেট্রোল বোমা তৈরি করতে এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রত্যক্ষদর্শীরা শহরের পশ্চিম অংশ থেকে আর্টিলারি রাউন্ড এবং তীব্র গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ঘন ঘন কামানের গুলির শব্দ, দৃশ্যত শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে, শনিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবিলম্বে হিংসা বন্ধের জন্য আবেদন করেছেন এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরে আসার জন্য সব পক্ষ থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে ইউক্রেন বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা বসে নেই। টুইট করেন ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইউক্রেনও বসে নেই। ভয় তাঁরা পান না। তিনি লেখেন, পুতিন ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছে। ইউক্রেনের শান্তিপূর্ণ শহরগুলোতে এখন হামলা চলছে। এটা আগ্রাসনের যুদ্ধ। ইউক্রেন আত্মরক্ষা করবে এবং জিতবে। দুনিয়া পারে এবং তাদের উচিতও পুতিনকে থামানো। এখনই পদক্ষেপ করার সময় এসেছে।’ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে আতঙ্কিত হতে বারণ করেছেন। জানিয়েছেন, রুশ হামলার পর দেশে মার্শাল আইন মোতায়েন হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভয় পাবেন না। আমরা শক্তিশালী। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমরা সবাইকে হারাব। কারণ আমরা ইউক্রেন।’কয়েক দিন আগেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইউক্রেনে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সবসময় তারা আলোচনায় প্রস্তুত। তার মধ্যে বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে চাপানউতর। অবশেষে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সঙ্গে সঙ্গে মস্কোর সঙ্গেও আলোচনার দরজা বন্ধ করে দিল হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়ে দিলেন, পুতিনের সঙ্গে আর আর কোনও আলোচনার পরিকল্পনার পরিসর নেই। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.