৪ পুরভোটেও হিংসার ছবি! আসানসোলে মাথা ফাটল প্রার্থীর, চলল গুলি, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও

Home Uncategorized ৪ পুরভোটেও হিংসার ছবি! আসানসোলে মাথা ফাটল প্রার্থীর, চলল গুলি, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও
৪ পুরভোটেও হিংসার ছবি! আসানসোলে মাথা ফাটল প্রার্থীর, চলল গুলি, বিক্ষিপ্ত অশান্তি বিধাননগরেও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রক্ত ঝরল চার পুরনিগম নির্বাচনেও। চলল গুলি। রাজ্য পুলিসের কড়া বেষ্টনী দিয়েও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের ছবি অধরাই রয়ে গেল। এদিকে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘এ ভোট গণতন্ত্রের সমাধি। কমিশনে নয়, প্রয়োজনে আদালতে যাব।’ 

এদিন সবচেয়ে বেশি হিংসার খবর এসেছে আসানসোল থেকে। ভোটপর্ব যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, ততই উত্তপ্ত হয়েছে শিল্পনগরী আসানসোল। এখানে যেমন রক্ত ঝরেছে, তেমনই অভিযোগ উঠেছে গুলি চলার। বাদ যায়নি বন্দুক ঠেকিয়ে ভোট লুটের মতো অভিযোগও। বেশিরভাগ অভিযোগই এসেছে বিজেপির তরফে। অভিযোগের তির রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দিকে। ভোটপর্বের একেবারে অন্তিমলগ্নে বিজেপি-র পোলিং এজেন্টের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে ভোট লুঠের অভিযোগ তোলে বিজেপি।  কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রের নিয়ামতপুরে জলধি বালিকা বিদ্যালয়ের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৯৯ নম্বর বুথে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি। এরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিসের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। 

একদিকে যখন এই ঘটনা ঘটছে তখনই ধাদকায় ফের গুলি চলার অভিযোগ ওঠে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২১ নম্বর বুথ ধাদকা নারায়ণচন্দ্র লাহিড়ি স্কুলে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। উল্লেখ্য এই ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী চৈতালি। সেখানে  আট রাউন্ড গুলি চলার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিস পৌঁছয়। যদিও গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল। এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেঝনা ছিল ধাদকায়। সশস্ত্র রক্ষীদের নিয়ে বুথে ঢোকার অভিযোগ পেয়ে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে নোটিস পাঠায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। জিতেন্দ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে তৃণমূল। যদিও জিতেন্দ্রর পাল্টা অভিযোগ, ছাপ্পা ভোট পড়ছে। তা আটকাতেই তিনি ওই এলাকায় যান। কোনও নিরাপত্তা রক্ষী না থাকা সত্বেও তাঁকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

এদিন প্রথম গুলি চলার খবর আসে জামুরিয়া থেকে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর হাই স্কুল এলাকায় গুলি চালিয়ে বুথ লুঠ করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বুথ দখলের চেষ্টায় সিপিএম প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চলে বলে অভিযোগ। তাঁকে ভয় দেখাতেই তৃণমূল গুলি চালিয়েছে বলে ফেসবুক লাইভে দাবি করেন সিপিএম প্রার্থীর মেয়ে। সিপিএম প্রার্থীর দাবি, তাঁদের কর্মী সমর্থকদের হুমকি দিয়ে, গুলি চালিয়ে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়।  অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সিপিএমের বিরুদ্ধেই গোলমাল পাকানোর অভিযোগ তোলে তৃণমূল।শুধু গুলিই নয়, রক্তাক্ত হল আসানসোল পুরভোট। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী আদর্শ শর্মার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম সরেনের বিরুদ্ধে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।

এছাড়াও পুলিসের সামনেই আসানসোলের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কর্মী প্রান্তিক মাহাত‌োর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। মারধর করে তাঁর মাথার চুল ছি়ড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের। 

আসানসোল দয়ানন্দ বিদ্যালয়ে পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি হয়।পুলিস আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। 

স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও পুলিসের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

আসানসোলে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে দুর্গাপুরের ফরিদপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা।

ভোটপর্ব জুড়ে অশান্তি চলে কলকাতা সংলগ্ন বিধাননগরেও। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধাননগরের ভোটগ্রহণ পর্ব।  সকাল থেকেই মোট ৪১টি ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যে  চলতে থাকে ভোটগ্রহণ। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের শৌচাগারে ভুয়ো ভোটারদের লুকিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে বিজেপি। পুলিস দেখে ‘ভুয়ো’ ভোটাররা দৌড়ে পালায় বলে অভিযোগ। তৃণমূল অবশ্য সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছে।

বিধাননগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল বিজেপি প্রার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা সামনে এসেছে। তৃণমূল প্রার্থী বহিরাগতদের নিয়ে বুথে ঢুকছেন বলে অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর। যার ভিত্তিতে রিপোর্ট তলব কমিশনের। সকালেই ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস জানা বহিরাগতদের গিয়ে ভোট করানোর অভিযোগ এনেছেন শাসকদলের বিরুদ্ধে। দাবি করেন, এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরেছেন তিনি। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে, দৌড়ে পালান ওই ব্যক্তি।  তৃণমূল বহিরাগত জমায়েত করে ভোট লুঠ করতে চায় বলেও অভিযোগ তাঁর। এই ওয়ার্ডে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র, বিজেপি ফেরত সব্যসাচী দত্ত।

কেষ্টপুরে সিপিএম প্রার্থী অলোক রায়কে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এজেন্টকে বুথ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে  তৃণমূলের বিরুদ্ধে।  পুর এলাকার আটঘড়া স্কুলের বুথে সিপিএম ও নির্দল প্রার্থী বচসায় জড়িয়ে পড়েন। সিপিএম প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ নির্দল প্রার্থীর। ২০১৫ সালে ৪১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৭টি আসন বাকি পায় বাম-কংগ্রেস। এবার কী হয় সে দিকে নজর থাকবে।নির্বাচনী অশান্তির হাত থেকে রেহাই মেলেনি চন্দননগরেরও। ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা না করে, পুলিসের বিরুদ্ধে শাসকদলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলে বিজেপি। এর প্রতিবাদে চন্দননগর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে চলে বিক্ষোভ-অবস্থান। হুগলির বিজেপি সভাপতি তুষার মজুমদারের অভিযোগ, পুলিস দলদাস হয়ে কাজ করেছে।

পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী মোহিত নন্দীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে ছড়ায় উত্তেজনা। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রাণী মিত্রের অভিযোগ, তাঁকে বুথে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল প্রার্থীর পাল্টা মন্তব্য, হারের ভয়েই এই সব আজগুবি অভিযোগ তুলছেন বিজেপি প্রার্থী।

এছাড়াও চন্দনগর পুরনিগমের গোন্দলপাড়া ১৩২-১৩৩ নম্বর বুথে বিজেপি কর্মীদের হুমকি ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বৌবাজারের ৬২ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

এরইমধ্যে অবশ্য ইতিহাসের শহর চন্দননগরে দেখা গেল বিরল সৌহার্দ্যের ছবিও। পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী মুন্না আগরওয়াল ও ফরোয়ার্ড ব্লক প্রার্থী অরূপ দাসকে একসঙ্গে চায়ের কাপ হাতে গল্পে মজে থাকতে দেখা গেল।

সারাদিন নিরুত্তাপ থাকলেও, শেষ বেলায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় শিলিগুড়ির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডেই বামেদের প্রার্থী অশোক ভট্টাচার্য। তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে ধস্তাধস্তির ফলে এলাকা উত্তপ্ত হয়। পুলিসি এসে  হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। সকালে শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বচসায় জড়ায় পুলিস।তাঁকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শঙ্কর ঘোষ। পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

বিধাননগর, শিলিগুড়ি, চন্দননগর ও আসানসোল-দীর্ঘদিন পর এই চার পুরসভায় নিজেদের পুর প্রতিনিধি বেছে নিলেন নগরবাসী। বিকেল ৫টা পর্যন্ত গড়পরতা ভোটদানের হার ৭১ শতাংশের কিছু বেশি। তারই মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে শিলিগুড়িতে, ৭৩.০৫ শতাংশ।সবচেয়ে কম চন্দননগরে।এখানে ভোটের হার ৭১.০৬ শতাংশ। আসানসোলে ৭১.৯৮ শতাংশ এবং বিধাননগরে ৭১.৩২ শতাংশ ভোটদান হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.