৩১ নম্বরের ওয়ার্ডে ‘টাই’, কে হবেন কাউন্সিলর? আসানসোল পুরনিগমে উত্তর খুঁজতে ‘টস’ (Toss) কমিশনের

Home রাজ্য ৩১ নম্বরের ওয়ার্ডে ‘টাই’, কে হবেন কাউন্সিলর? আসানসোল পুরনিগমে উত্তর খুঁজতে ‘টস’ (Toss) কমিশনের
৩১ নম্বরের ওয়ার্ডে ‘টাই’, কে হবেন কাউন্সিলর? আসানসোল পুরনিগমে উত্তর খুঁজতে ‘টস’ (Toss) কমিশনের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক:  ঠিক যেন ‘টাই’ হওয়া ফুটবল বা ক্রিকেট ম্যাচ। কে জয়ী তা ঠিক করতে হবে ‘টাইব্রেকার’। আসানসোল পুরনিগমের (Asansol Municipal Corporation) একটি ওয়ার্ডের ফলাফলে এমনই অদ্ভুত কান্ড দেখা গেল। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী (Cpim) তনুশ্রী রায় ও তৃণমূল (TMC) প্রার্থী আশা প্রসাদ সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (State Election Commission) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কোন প্রার্থী কাউন্সিলর (Councillor) হবেন, তা টসের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি হয়েছিল আসানসোল পুরনিগমের নির্বাচন। বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে আসে। দুটি ওয়ার্ডে গুলি চলার খবরও সামনে আসে। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের (State Election Commission) তরফ থেকে জানানো হয়, কোথাও কোনও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি। আসানসোলের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম মেশিন বিকল হওয়ার কথাও জানা যায়। প্রাথমিক তদন্তের পর নির্বাচন কমিশন দ্রুত বদল করে ইভিএম। নতুন ইভিএম আনায় পুরনো ভোটের কোনও ক্ষতি হয়নি। ফলে, সেই ভোটগুলিও সঠিক ভোট হিসেবে ধার্য হবে। সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায় আসানসোলে কার্যত সবুজ ঝড়। প্রায় সব ওয়ার্ডেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু অন্য ছবি দেখা গেল আসানসোল পুরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে তৃণমূল ও সিপিআই(এম) প্রার্থী উভয়ই সমসংখ্যক ভোট পেয়েছেন। দুজনেরই প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২০৫৮।

এমতাবস্থায়, কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় সোমবার টস করে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে থেকেই একজন প্রার্থী কাউন্সিলর নির্ধারিত হবেন। সেই অনুযায়ী দুপুর দুটোয় দুই দলের প্রার্থীর উপস্থিতিতে ‘টস’ করা হয় কমিশনের পক্ষ থেকে। টস করতে হাজির ছিলেন কমিশনের প্রতিনিধিরাও। টান টান উত্তেজনা দেখা যায় দু’দলেরই কর্মী সমর্থকদের মধ্যে। তবে, ভাগ্য আশাহত করেনি আসানসোল পুরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী আশা প্রসাদকে। ‘টসে’ জিতে শেষ হাসি হাসলেন তিনিই।

৩১ নম্বর ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর সমান সংখ্যক ভোট পাওয়ার ঘটনায় অবশ্য হতবাক নয় কমিশন। তাদের দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে আসানসোল পুরনিগমে। এখানে নির্বাচনের দিন বেশ কয়েকটি অভিযোগও সামনে আসে। বিরোধীদের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, প্রচুর ছাপ্পা ভোট পড়ছে বুথে বুথে। এছাড়াও অভিযোগ ছিল, অনেক ভোটার নিজের ভোট দিতে পারেননি। এমনকী, গুলি চলারও অভিযোগ ওঠে ভোটের দিন। এরপরই সোমবার আসানসোল পুরনিগমের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল ও বামফ্রন্টের দুই প্রার্থীই একই সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। কমিশন মনে করছে, বিরোধীরা যে অভিযোগ করছেন, তা কখনই সত্যি নয়। যদি প্রচুর পরিমাণে ছাপ্পার ঘটনা ঘটত, তাহলে কখনওই দুইজন প্রার্থী একই ওয়ার্ডে সমসংখ্যক ভোট পেতেন না।

পুরভোটে প্রথম থেকেই বেশ কড়া নজরদারি করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। বিরোধীরা লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের মতো পুরভোটেও কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু, রাজ্য পুলিস দিয়েই ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যদিও কমিশনের ভূমিকায় প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে যদি কোনওরকম বড় অশান্তি হতো, তাহলে কমিশনকেই তার দায় নিতে হতো। নাহলে রাজ্যের বাকি পুরভোটগুলি করানোর দায়িত্ব কমিশনের হাত থেকে ক্ষমতার চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল বলে জানা যাচ্ছে। পরবর্তীকালে রাজ্য পুলিসের বদলে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েও নির্বাচন করানো হতে পারে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেখানে, একই ওয়ার্ডে দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা সমান হওয়ায় কমিশন কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনে ‘টসের’ পদ্ধতিটি খুব সরল। এর আগে পুরভোটে কখনও দুই প্রার্থী সমানসংখ্যক ভোট পেলে টসের মাধ্যমেই কাউন্সিলরকে নির্বাচিত করা হতো। তখন ১০ পয়সা ব্যবহার করার চল ছিল। হেড-টেলের মাধ্যমেই তা নির্বাচিত হত। তবে বর্তমানে পরিস্থিতিতে এর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর পয়সা দিয়ে টস করা হয় না। তা পরিবর্তিত হয়েছে কার্ডে। দুটি কার্ডে নাম লেখা থাকবে দুই প্রার্থীর। কমিশনের কোনও অধিকর্তা দুই প্রার্থী ও কমিশনেরই অন্য অধিকর্তাদের সামনেই একটি কার্ড তুলবেন। তাতে যাঁর নাম লেখা থাকবে তিনিই হবেন জয়ী কাউন্সিলর।

১০৬ টি ওয়ার্ড সমন্বিত আসানসোল পুরনিগমে (Asansol Municipal Election) ভোটার প্রায় ৯ লক্ষেরও বেশি। মোট ৪৩০ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন এই পুরনিগমে। আসানসোলের ৪০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম খারাপ হওয়ার কথা জানালেও প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশন জানায় ইভিএম দ্রুত বদল হয়েছে। নতুন ইভিএম নিয়ে এলেও পুরনো ভোটের কোনও ক্ষতি হয়নি। ফলে, সেই ভোটগুলিও ভোট হিসেবে ধার্য হবে। যদিও, আসানসোলের বিজেপি প্রার্থীরা কমিশনের কাছে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন। জানা গিয়েছে, আসানসোল পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্নির্বাচন হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.