১৩০০ ভারতীয়কে (india) ফেরানো হল, কিয়েভে আটকে নেই আর কোনও নাগরিক, জানাল কেন্দ্র

Home দেশের মাটি ১৩০০ ভারতীয়কে (india) ফেরানো হল, কিয়েভে আটকে নেই আর কোনও নাগরিক, জানাল কেন্দ্র
১৩০০ ভারতীয়কে (india) ফেরানো হল, কিয়েভে আটকে নেই আর কোনও নাগরিক, জানাল কেন্দ্র

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গতকালই যুদ্ধক্ষেত্র ইউক্রেনের খারাকিভে রাশিয়ার চালানো গোলাগুলিতে মারা গিয়েছে এক ভারতীয় (india) ছাত্র৷ তারপরই পুরো ইউক্রেনে (Ukraine) থাকা সমস্ত ভারতীয়দের সরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করেছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধণ শ্রিংলা জানিয়েছেন ইউক্রেনের (Ukraine) রাজধানী কিয়েভে আর কোনও ভারতীয় (india) আটকে নেই৷ গতকালই ১২ হাজার ভারতীয়কে দ্রুত ইউক্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের বিদেশ সচিব। কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুসারে ইউক্রেনে (Ukraine) প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় আটকে রয়েছে৷ যার বড় অংশকে গতকালই সেফ জায়গাতে সরিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে দেশ। প্রসঙ্গত গতকালই ভারতীয় বায়ু সেনা ও তাদের বিশেষ পরিবহন বিমানকে ইউক্রেন (Ukraine) থেকে ভারতীয়দের (india) উদ্ধারকার্যে নামতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপরই উদ্ধার কার্য গতি পায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷
যদিও হর্ষবর্ধণ জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু ভারতীয় খারকিভে আটকে রয়েছেন যাদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে৷ এবং এ বিষয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারের সঙ্গে কথা বলছেন যাতে ভারতীয়দের (india) উদ্ধারের জন্য সেফ রাস্তা দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত রাশিয়ার বারুদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইউক্রেনের (Ukraine) কিয়েভ ও খারকিভ৷ মঙ্গলবার এই ২টি জায়গাতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন ১৯৪১ এ হিটলারের আক্রমণের পর এত বড় ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন আর হতে হয়নি।

ইউরোপ ভাঙার স্বপ্ন বাস্তব হবে না! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার জন্যে এয়ারস্পেস বন্ধ করল আমেরিকা। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধণ আরও বলেছেন যে খারকিভে ভারতীয় ছাত্রের মৃত্যুতে পুরো শোকাহত৷ খারকিভ, সুমি প্রভৃতি জায়গাগুলোয় ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীর লড়াইয় নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারত সরকার। অন্যদিকে এস জয়শঙ্কর টুইট করে জানিয়েছেন যে গতকাল সন্ধ্যায় আরও ৬টি ফ্লাইট ভারতীয়দের (india) উদ্ধার করে দেশে ফিরেছে৷ পোলান্ড থেকে প্রথম ফ্লাইটটি ছেড়েছে৷ ১৩৭৭ জন ভারতীয়কে (india) নিয়ে দেশে ফিরেছে এই বিমানগুলি৷

বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, ২০ হাজার ভারতীয়ের মধ্যে ১৩ হাজার ভারতীয় ইউক্রেন ছেড়েছেন। হর্ষবর্ধন শ্রীংলার মতে, বাকি ৪০ শতাংশ ভারতীয় (india) এখনও ইউক্রেনে (Ukraine) রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অর্ধেক খারকিভ এবং বাকি অর্ধেক হয় ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছেছেন অথবা পশ্চিম সীমান্তে রওনা দিয়েছেন। সম্মেলনে বিদেশ সচিব বলেন, আমাদের সমস্ত নাগরিক কিয়েভ ছেড়েছেন। কিয়েভে আমাদের আর কোনও নাগরিক নেই। কেউ কিভ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, আমাদের সমস্ত নাগরিক কিয়েভ থেকে সরে গিয়েছেন। মস্কো থেকে ভারতীয় আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁরা পরিবহণ এবং সমস্তরকম ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন বলে জানান বিদেশসচিব। সংঘাতপূর্ণ জায়গাগুলি থেকে ভারতীয়দের ফেরানোই চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।

মঙ্গলবার ইউক্রেনে মেডিক্যাল পাঠরত এক এক ভারতীয় ছাত্রের মৃত্যু হয়। তারপরেই ইউক্রেন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে সাউথ ব্লকে ডেকে পাঠায় বিদেশমন্ত্রক। দুই রাষ্ট্রদূতের কাছেই ইউক্রেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা । সেখানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে সুরক্ষিতভাবে ফেরানো নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় মৃত্যু হয় কর্নাটকের হাভেরি থেকে ইউক্রেনে মেডিক্যাল পড়তে যাওয়া ২১ বছরের নবীন শেখরাপ্পার। গতকাল সকালে সরকারি ভবন উড়িয়ে দেয় রাশিয়ার সেনা। সরকারি ভবন সংলগ্ন একটি দোকানের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মেডিক্যালের শেষ বর্ষের ছাত্র নবীন শেখরাপ্পা। তাঁর দেহ ফিরিয়ে আনাতে বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকম চেষ্টা করা হবে বলে জানান কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই ।

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইউক্রেনে। জানা গিয়েছিল, প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া ইউক্রেনে আটকে ছিল। এদিকে ওই দেশ থেকে যাতে সমস্ত পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা যায় সেজন্য বন্দে ভারত মিশন বিমান ইউক্রেনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। কিন্তু, এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় একটি বিমানকে কিয়েভে নামতে দেওয়া হয়নি। UNSC বৈঠকে দেশের তরফে টি এস তিরুমূর্তি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য যা করণীয় সেটা করার দিকে জোর দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা। কূটনৈতিক স্তরে আলাপ আলোচনার পক্ষে রয়েছি আমরা। তবে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেব আমরা। ভারতীয়দের যুদ্ধভূমি থেকে ফিরিয়ে আনায় অনেকটাই স্বস্তিতে দেশবাসী।

সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সাইবার যুদ্ধও হয়। একবিংশ শতকের নয়া অস্ত্র দিয়েই আঘাত। রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে এবার শুরু সাইবার যুদ্ধ। সময় যত এগোচ্ছে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে পরিস্থিতি। ইউক্রেনিয় সংস্থাগুলির সিস্টেম এবার হ্যাকারদের দখলে চলে যাচ্ছে। ইউক্রেন সরকারের তরফে বলা হচ্ছে যে রাশিয়া-সমর্থিত হ্যাকাররা ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট এবং ব্যাঙ্ক হ্যাক করেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.