হিজাব বিতর্ক জাতীয় স্তরে ছড়াবেন না, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

Home দেশের মাটি হিজাব বিতর্ক জাতীয় স্তরে ছড়াবেন না, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট
হিজাব বিতর্ক জাতীয় স্তরে ছড়াবেন না, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সময় এলে শুনানি হবে। হিজাব-মামলার জরুরিভিত্তিক শুনানির আবেদন খারিজ করে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের মন্তব্য, ‘হিজাব বিতর্ক জাতীয় স্তরে বৃহত্তর ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেবেন না’। উল্লেখ্য, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ধর্মীয় পোশাক’ নয়, হিজাব-মামলায় এমনই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়ে কলেজ খুলে দিতে বলেছিল কর্নাটক হাই কোর্ট। এ বার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন এক পড়ুয়া। হলফনামায় ওই পড়ুয়ার দাবি ছিল, হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী রায় ব্যক্তি-পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত, মুসলিম মহিলা পড়ুয়াদের পছন্দের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।

হিজাব ইস্যুতে কর্নাটক হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছিলেন হয়েছিল। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ‘সঠিক সময়’ মামলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট শুনবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা।
বৃহস্পতিবার কর্নাটক হাইকোর্টর অন্তর্বর্তী নির্দেশ ছিল যে, যতদিন না হিজাব সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন হিজাব-সহ কোনও ধরনের ধর্মীয় পোশাক স্কুল ও কলেজে পরা যাবে না। আদালত জানায়, ‘ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি চালু হোক। আমরা চাই রাজ্যে শান্তি ফিরুক। বিষয়টির যতদিন না নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন যেন কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটে এবং কেউ যেন ধর্মীয় উস্কানি না দেয়।’কর্নাটক হাই কোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে লিভ পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী দেবদত্ত কামাত। তাঁর আবেদনে উল্লেখ ছিল, কর্নাটক হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ মুসলিম ছাত্রীদের প্রভাবিত করবে।রাজ্যের তরফে এ দিন ব্যাটন ধরেছিলেন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহেতা। আদালতে তিনি জানান,
হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ এখনও আসেনি, আইনজীবী কামাতের তা নির্দেশ করা উচিত ছিল। জবাবে, কামাত জানান যে, তিনি স্পেশাল লিভ পিটিশনে সেটা উল্লেখ করেছিলেন।

এরপরই প্রধান বিচারপতি আইনজীবী কামাতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জানি কি হচ্ছে, বেশি কিছু বলতে চাই না। এই জিনিসগুলিকে বৃহত্তর স্তরে ছড়িয়ে দেবেন না… আপনাকেও ভাবতে হবে যে এই ইস্যুগুলি জাতীয়স্তরে আরও বৃহত্তরভাবে তুলে ধরতে দিল্লিতে টেনে আনা ঠিক হবে কি না।’ এ দিকে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় ওই পড়ুয়া আবার হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মামলায় কর্নাটক হাই কোর্টের শুনানি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং টুইটের স্ক্রিনশট শীর্ষ আদালতে জমা দিয়েছেন বলে খবর। ওই পড়ুয়া ছাড়াও একই ইস্যুতে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। যেটি করেছেন কর্নাটক যুব কংগ্রেসের সভাপতি বিভি শ্রীনিবাস। এর আগে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রমানার বেঞ্চে হিজাব-বিতর্ক নিয়ে একটি আবেদন রাখেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট জানায় কর্নাটক হাই কোর্ট যদি সংশ্লিষ্ট মামলা স্থানান্তর করতে চায়, তা হলে তা শীর্ষ আদালত শুনবে।হিজাব বিতর্ক নিয়ে তুমুল উত্তেজনা চলছে কর্নাটকে। যার রেশ এসে পড়েছে দেশের বেশ কয়েকটি অন্য রাজ্যেও। মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, যতদিন আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন, ততদিন তারা এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। পদক্ষেপও নেবে না। আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে।বস্তুত, মামলাটি প্রথমে কর্নাটকের একজন বিচারপতির এজলাসে উঠেছিল। বিচারপতি জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার বেঞ্চে হওয়া উচিত।ফলে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত তিনজনের বেঞ্চে মামলাটি নতুন করে উঠেছে। তারই প্রথম দিনের শুনানিতে নতুন নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত উদুপির একটি কলেজে।

ছাত্রীদের হিজাবের পাল্টা হিসাবে বেশ কয়েকটি জায়গায় ছাত্ররা গেরুয়া স্কার্ফ বা শাল গায়ে ক্লাসে আসে। বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিজাব বনাম গেরুয়া শাল বা স্কার্ফ নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। ভাইরাল হয় মুসকান নামে এক ছাত্রীর হিজাব পরে কলেজে ঢোকার ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, পিছনে বেশ কিছু ছাত্র গেরুয়া শাল নিয়ে কার্যত তাঁকে তাড়া করতে করতে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছে। পাল্টা ওই ছাত্রীও স্লোগান দেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে কর্নাটক। প্রশাসন তিনদিনের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।এদিকে উদুপির কলেজের যে ছয়জন মেয়ের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, তাঁদের ফোন নম্বর ফাঁস হয়ে গেছে। নেটমাধ্যমে তাঁদের ফোন নম্বর ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রীদের অভিভাবকরা এনিয়ে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.