‘স্কুলে শুধুমাত্র ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হোক’! হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবিতে মোদিকে চিঠি আইনজীবীদের  

Home দেশের মাটি ‘স্কুলে শুধুমাত্র ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হোক’! হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবিতে মোদিকে চিঠি আইনজীবীদের  
‘স্কুলে শুধুমাত্র ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হোক’! হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবিতে মোদিকে চিঠি আইনজীবীদের  

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বোরখা পরা এক ছাত্রীর দিকে এগিয়ে আসছেন একদল যুবক। তাঁদের গলায় ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। আর তাতে পিছু না হটে পাল্টা এগিয়ে এলেন এক ছাত্রী। তাঁর কন্ঠে শোনা গেল ‘আল্লাহু আকবর’ । সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এমনই একটি দৃশ্যের ভিডিও(বঙ্গভূমি লাইভের পক্ষে এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতের নতুন প্রজন্মের মানসিকতার এই প্রতিফলন দেশজুড়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।  

এভাবেই কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক ক্রমশই জটিল চেহারা নিতে থাকায় প্রশাসনিক স্তরেই তাতে ইতি টানার প্রয়োজন বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। এবার এই বিতর্কের অবসানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করলেন আইনজীবীদের একাংশ।  ১০ ফেব্রুয়ারি সর্ব ভারতীয় বার অ্যাসোসিয়েশন বা এআইবিএ-র তরফে চিঠি পৌঁছল নরেন্দ্র মোদির কাছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ স্কুলে শুধুমাত্র ইউনিফর্ম পরে আসাই একমাত্র নিয়ম করতে হবে। মুসলিম ছাত্রীদের ‘নকাব’ বা ‘হিজাব’ পরে স্কুলে আসা চলবে না। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও এআইবিএ-র তরফে মোদির কাছে নিজেদের প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করা হয়েছে, কীভাবে সামজবিরোধীরা মুসলিম ছাত্রীদের বোরখা, হিজাব বা নকাব পরে স্কুলে আসার জন্য উস্কে ধর্মীয় সংহতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে। সকলের পরিধানযোগ্য স্কুলের পোশাকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস ও প্রশ্রয় দিচ্ছে।    

এআইবিএ-র চেয়ারম্যান এবং বর্ষীয়ান আইনজীবী আদিশ আগরওয়াল দাবি করছেন, বিতর্ক যে দিকে মোড় নিচ্ছে তাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরি। যার সমাধানের একমাত্র পথ হল ইউনিফর্ম। ধর্মীয় পাঠ দেওয়া হয় এমন শিক্ষালয়গুলি ছাড়া, সাধারণ শিক্ষাঙ্গন, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে সকলের শিক্ষাগ্রহণের সমান সুযোগ আছে, সেখানে বিদ্যালয় নির্দিষ্ট পোশাকবিধি মেনে চলতে হবে অর্থাৎ ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক হবে আর নিষিদ্ধ হবে হিজাব,নকাব, বোরখার মতো বিশেষ ধর্মের পরিচয়বাহী সকল পরিধেয়। এআইবিএ-র মতে, ‘ভারতীয় নাগরিকদের নিজেদের ধর্মাচরণের অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। তার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পড়ুয়ারা যাতে নির্দিষ্ট পোশাকই পরে তা কড়া হাতে নিশ্চিত করতে হবে।’

হিজাব বিতর্কের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলির কাছে আইনজীবাদের আবেদন, তাঁরা যেন এই বিষয়ে শান্ত ও সংযমী হওয়ার বার্তা দেয়। জ্বালাময়ী স্লোগান, বক্তব্য অথবা হিংসা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ রাখে। আইনের পরিধিতে দাঁড়িয়ে বিতর্কের অবসানে যেন পদক্ষেপ করা হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে চলতি বিষয়ে, এসআর বোম্মাই এবং রাষ্ট্রের মধ্যে চলা এক মামলায়, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকার দিয়েছে, তখন ধর্ম নিরপেক্ষ ক্ষেত্রগুলিতে সুস্পষ্টভাবেই হোক বা অন্তর্নিহিত রেখেই হোক, ধর্মের ছায়া পড়তে দেওয়া উচিত নয়।

এআইবিএ আরও জানিয়েছে ইতালি,বেলজিয়াম,বুলগেরিয়া,অস্ট্রিয়া,ডেনমার্ক,সুইৎজারল্যান্ড,ফ্রান্স,এবং নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি ধর্মনিরপেক্ষতাকে তুলে ধরতে মুখ ঢাকা ওড়না, হিজাব বা বোরখা নিষিদ্ধ করেছে।

অন্যদিকে হিজাব বিতর্কে মুখ খুলেছেন দক্ষিণী রাজ্য কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। শনিবার একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিখ ধর্মে পাগড়ির মতো হিজাব ইসলাম ধর্মের অঙ্গ নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি কোরানের উল্লেখ করে বলেন, ধর্মগ্রন্থে সাত বার হিজাবের উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এটি মুসলিম মহিলাদের পোশাক রীতির অংশ নয়।

ওই সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল বলেন, ‘হিজাব ইসলামের অঙ্গ নয়। কোরানেও হিজাবের উল্লেখ রয়েছে মাত্র সাত বার। এটির সঙ্গে মহিলাদের পোশাক রীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটি পর্দা প্রথার সঙ্গে সম্পর্কিত। যার অর্থ আপনি যখন কথা বলবেন, তার মাঝে একটি পর্দা  থাকা উচিত।’

হিজাব বিতর্কে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে শিখদের পাগড়ি পরার বিষয়টিও। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে শিখরা যদি পাগড়ি পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার পায়, তবে কেন মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরে তা পাবে না?

এই বিষয়টির উল্লেখ করে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলেন, ‘হিজাব পরে কলেজে প্রবেশের অধিকারের স্বপক্ষে যুক্তি হিসাবে শিখদের পাগড়ির প্রসঙ্গ আনা হচ্ছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কারণ পাগড়ি হল তাঁদের ধর্মের অঙ্গ। কিন্তু হিজাব ইসলাম ধর্মের অত্যাবশকীয় অঙ্গ নয়।’ রাজ্যপালের মতে, মুসলিম নারীসমাজের অগ্রগতি আটকাতেই ‘হিজাব বিতর্ক’ একটি ষড়যন্ত্র মাত্র।

কর্নাটকে হিজাব পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বারবার অশান্ত হয়ে উঠেছে কলেজ ক্যাম্পাস। হিজাবের পাল্টা গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে মাঠে নেমেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। গত বৃহস্পতিবার ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কর্ণাটকের উদুপি জেলার কুন্ডাপুরে একদল হিজাব-পরা ছাত্রীর মুখের ওপর একটি কলেজের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পক্ষে–বিপক্ষে মতামত কর্নাটকের গণ্ডী ছাড়িয়ে রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। দেশের শীর্ষ আদালত অবশ্য এটিকে জাতীয় ইস্যু না করে তোলার অনুরোধ রেখেছে হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট একটি মামলায় বলেছেন, ‘দয়া করে জাতীয় স্তরে এই বিষয়গুলিকে ছড়িয়ে দেবেন না। সঠিক সময় এলেই, একমাত্র আমরা হস্তক্ষেপ করব।’  

Leave a Reply

Your email address will not be published.