সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য দৌড়নো (Boy running for army) প্রদীপ মেহেরাকে সাহায্য সেনা আধিকারিকের!

Home অ‘‌সাধারণ’ সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য দৌড়নো (Boy running for army) প্রদীপ মেহেরাকে সাহায্য সেনা আধিকারিকের!
সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য দৌড়নো (Boy running for army) প্রদীপ মেহেরাকে সাহায্য সেনা আধিকারিকের!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই ভাইরাল হয়েছিলেন নয়ডার ১৯ বছরের তরুণ প্রদীপ মেহেরা (Boy running for army)। এবার সেই যুবকের স্বপ্নপূরণ করতেই এগিয়ে এলেন সেনা আধিকারিক। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সতীশ দুয়া ট্যুইট করে জানান, প্রদীপ মেহেরাকে যথাসাধ্য সাহায্য করবেন তিনি।

ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? মধ্যরাতে নয়ডার রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন চিত্র পরিচালক বিনোদ কাপরি (Vinod Kapri)। হঠাৎই তিনি দেখেন এক তরুণ (Boy running for army) পিঠে ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় দৌড়চ্ছেন। কৌতুহলবশত বিনোদবাবু সেই তরুণের দৌড়নোর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। যে উত্তর তিনি পান তা শুনে রীতিমতো চমকে ওঠেন। বিনোদবাবু ট্যুইট করে লেখেন, ‘কাল রাত বারোটার সময় একটি ছেলেকে পিঠে ব্যাগ নিয়ে খুব দ্রুত দৌড়াতে দেখি (19 years old boy run)। আমি তখন ভেবেছিলাম সেই ছেলেটি কোনও সমস্যায় পড়েছে। তাই তাঁকে গাড়ি করে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বারবার গাড়িতে উঠে আসতে বললেও রাজি হয়নি সে।’ এর সঙ্গেই সেই তরুণের ভিডিও নিজের ট্যুইটারে আপলোড করেন বিনোদবাবু। নয়ডার এই তরুণ সেক্টর ১৬ তে ম্যাকডোনাল্ডসে কর্মরত। প্রদীপের (Boy running for army) বাড়ি থেকে তাঁর কর্মস্থলের দুরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রত্যেক দিন এই ১০ কিলোমিটার রাস্তা দৌড়েই যান তিনি। বিনোদবাবুকে প্রদীপ জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু সারাদিনের কাজের মধ্যে দৌড়নোর সময় প্রায় পাওয়াই যায় না। তাই কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার এই দশ কিলোমিটার রাস্তাকেই নিজের প্রস্তুতির ট্র্যাক তৈরি করে ফেলেছেন প্রদীপ।

প্রদীপের দৈনন্দিন জীবনের গল্প শুনলে অবাক হয়ে যাবেন প্রত্যেকেই। মাঝরাতে উঠে দশ কিলোমিটার দৌড়ে (Boy running for army) যোগ দেন কর্মক্ষেত্রে। কাজ শেষে ফিরে আসেন সেভাবেই। তাঁর নিজের দাদা এবং নিজের জন্য রান্নাও করতে হয় তাঁকে। এত কিছুর মধ্যেও প্রদীপ বাঁচিয়ে রেখেছেন নিজের স্বপ্নকে। একটা সময় পর নিজেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে দেখার স্বপ্ন তাঁর। এত প্রতিকুলতার মধ্যেও অমানুষিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরিচালক বিনোদ কাপরি তাঁকে গাড়িতে উঠে আসতে বললেও রাজি হননি প্রদীপ। নিজের লক্ষ্যে অবিচলই থাকতে চান তিনি।

কথায় আছে, ভগবান সাহসীদের পাশে থাকেন। প্রদীপ মেহেরার এতদিনের কঠোর সংগ্রাম হয়তো এবার সঠিক দিশা পাবে। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিও দেখে তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন সেনা আধিকারিক। প্রদীপের এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পান লেফট্যানান্ট জেনারেল সতীশ দুয়া। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও দেখে আপ্লুত তিনি। সতীশবাবু মনস্থির করেন প্রদীপকে (Boy running for army) যথাসম্ভব সাহায্য করবেন তাঁর স্বপ্ন সফল করতে। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যে তিনি কথাও বলেছেম কুমায়ূন রেজিমেন্টের ভারপ্রাপ্ত লেফট্যানান্ট জেনারেল রানা কলিতার সঙ্গে। সতীশবাবু ট্যুইট করে লেখেন, ‘প্রদীপের উদ্যম অতুলনীয়। ইস্টার্ন আর্মি কমান্ডার এবং কুমায়ূন রেজিমেন্টের লেফট্যানান্ট জেনারেল রানা কলিতার সঙ্গে আমি কথা বলেছি এই ব্যাপারে। নিজের যোগ্যতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য হতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে প্রদীপকে। জয় হিন্দ।’ সেনা আধিকারিকের সাহায্যে প্রদীপ যে যথেষ্ট উপকৃত হবেন তা আশা করা যায়। এরই মধ্যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে নিয়ে ট্যুইট করেছেন মাহিন্দ্রা গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার আনন্দ মাহিন্দ্রা (Anand Mahindra)। তিনি ট্যুইট করে লেখেন, ‘এই ঘটনা আমাকে খুবই উৎসাহিত করেছে। ছেলেটি সম্পূর্ণ ভাবে আত্মনির্ভর’। প্রদীপের কোনও রকম সাহায্য দরকার নেই বলেই জানান আনন্দ মাহিন্দ্রা।

এই পুরো ঘটনায় যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত প্রদীপ মেহেরা(Boy running 10 km)। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, আদতে তিনি উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। সেখানেরই একটি স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন তিনি। সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দিল্লি চলে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাধ সাধে তাঁর মায়ের অসুস্থতা। যকৃতের রোগে আক্রান্ত হন তিনি। ভেস্তে যায় প্রদীপের দিল্লি আসার পরিকল্পনা। তারপরেই ম্যাকডোনাল্ডে চাকরি নেন প্রদীপ। একই সঙ্গে চলছে মায়ের চিকিৎসা এবং সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি। এরমধ্যেই ভাইরাল হয় তাঁর ভিডিও। অনেক মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিও। এত মানুষের ভালোবাসা দেখে বেশ আপ্লুত প্রদীপ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভাইরাল হওয়ার পর অনেক জায়গা থেকে ফোন আসছে তাঁর কাছে। অনেক মানুষ শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন তাঁকে। বহু নামীদামী ব্যক্তিও তাঁকে ফোন করে উৎসাহ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রদীপ (Boy running for army)। সঙ্গে তিনি এও জানান, খুবই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। উত্তরাখণ্ডে এক কামরার একটি বাড়িতে মা ও দাদার সঙ্গে থাকেন প্রদীপ। মায়ের সুচিকিৎসা করার মতো সংস্থানও নেই তাঁদের। দুই ভাই মিলে মায়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন কার্যত ধার করে। কিন্তু এত প্রতিকুলতার মধ্যেও, যেভাবেই হোক, নিজের স্বপ্নকে একদিন সফল করবেনই । এমনই ধনুক ভাঙা পণ করেছেন প্রদীপ মেহেরা (Boy running 10 km)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.