সুর সম্রাজ্ঞীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন ১ ঘণ্টার জন্য মুলতুবি

Home দেশের মাটি সুর সম্রাজ্ঞীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন ১ ঘণ্টার জন্য মুলতুবি
সুর সম্রাজ্ঞীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন ১ ঘণ্টার জন্য মুলতুবি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর আজ ১ ঘণ্টার জন্য মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন। লতা মঙ্গেশকর রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। সকাল ১০টায় রাজ্যসভার অধিবেশনের শুরুতে তাঁর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। এক মিনিট নীরবতা পালন করেন রাজ্যসভার সদস্যরা। রাজ্যসভার অধিবেশন ফের শুরু হলে মিম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির গাড়িতে হামলার বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিকেল ৪টেয় লোকসভাতেও একই বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ সন্ধেয় রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর আলোচনার প্রেক্ষিতে জবাবি ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা ভারতের উপ রাষ্ট্রপতি বেঙ্গাইয়া নাইডু বলেন, ‘লতাজির প্রয়াণে, দেশ একজন কিংবদন্তী প্লেব্যাক গায়িকা, একজন সহানুভূতিশীল মানুষ এবং ভারতীয় সংগীত ও চলচ্চিত্র শিল্পের জগতে একজন মহান ব্যক্তিত্বকে হারাল। তার প্রয়াণে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সঙ্গীতের জগতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে’।প্রসঙ্গত, রবিবার শিবাজী পার্কে লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন হয় রাষ্ট্রপতির তরফেও। এদিন ফুল দিয়ে লতা মঙ্গেশকরের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান সচিন, শাহরুখেরা। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্টজনেরা।উল্লেখ্য, কিংবদন্তী গায়িকা লতা মঙ্গেশকর রবিবার ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। কোভিড-১৯ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত ৮ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এই মেগাস্টারকে। কোভিড থেকে সেরে উঠলেও শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর গায়িকাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।সালটা ১৯৯৭। দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ। দেশের রাজনীতি তখন টালমাটাল। প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরাল। তবে, তিনি বেশিদিন সরকার চালাতে পারেননি। ওই সময় লোকসভার অধ্যক্ষ ছিলেন পি এ সাংমা।
সেই বছরই সংসদের সেন্ট্রাল হলে সরকারি উদ্যোগে পালন করা হয় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। মধ্যরাতে (১৪ – ১৫ আগষ্ট, ১৯৯৭) ওই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সংগীত সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর।সেন্ট্রাল হলে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভার সদস্যরা, অধ্যক্ষ এবং বিশিষ্ট জনেরা। লতা গাইলেন ইকবালের বিখ্যাত গান ‘সারে জাহাঁ সে আচ্ছা’। লতার সঙ্গে ছিলেন আরও অনেক শিল্পী। সে এক অনবদ্য দৃশ্য।

সঙ্গীতের ক্ষেত্র ছেড়ে বছর ছয়েক রাজনীতির অলিন্দেও বিচরণ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। বিজেপির সমর্থনে ১৯৯৯ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য ছিলেন সুরসম্রাজ্ঞী। তবে, সাংসদ হিসাবে কোনও পারিশ্রমিক বা ভাতা গ্রহণ করেননি তিনি। একটি আরটিআই-য়ের ভিত্তিতে এই তথ্য জানাজানি হয়। সাংসদ থাকাকালীন অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে যে পরিমাণ অর্থ লতা মঙ্গেশকরের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল তা সবই ফেরৎ দিয়ে দিয়েছেন শিল্পী।পারিশ্রমিক না নেওয়ার কারণে তারিফ কুড়োলেও অবশ্য গোটা মেয়াদে মাত্র কয়েকবারই রাজ্যসভার অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন লতা। পরিসংখ্যানের নিরিখে ছয় বছরের মেয়াদকালীন মাত্র ১২ বার রাজ্যসভায় হাজির হয়েছিলেন তিনি, তাও সম্পূর্ণ দিবসের জন্য নয়।ছয় বছরের মেয়াদে রাজ্যসভায় মাত্র একটি প্রশ্ন করেছিলেন সাংসদ লতা মঙ্গেশকর। ২০০০ সালের শুরুতে ট্রেনের লাইচ্যূত হওয়ার ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি তোলেন তিনি। সরকার সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ করেছিল তাও জানতে চান তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে লতা বলেছিলেন, ‘যাইহোক না কেন আমার রাজ্যসভার যাত্রা আনন্দদায়ক। আমি সংসদে অন্তর্ভুক্ত হতে অনিচ্ছুক ছিলাম। আসলে, আমি বহুবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়তে চেয়ে অনুরোধ করেছিলাম… আমি রাজনীতি সম্পর্কে কী জানতাম?’ রাজ্যসভায় যে তিনি বেমানান ছিলেন তাও স্বীকার করেছিলেন প্রাখ্যাত এই শিল্পী।তাঁকে সাংসদ পদ দেওয়ার জন্য এল কে আদবানি, অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর।শিল্পীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন তা সংসদে উত্থাপণ করেননি লতা। কেন? জবাবে লতা জানিয়েছিলেন, ‘আমি বিনোদন জগতের লোক নই, ফলে তাঁদের সমস্যা জেনে তা তুলে ধরার জন্য যোগ্য ছিলাম না। আমি সঙ্গীত শিল্পী। হয়তো রেখাজি সাংসদ হিসাবে এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দৌরে জন্ম হয় লতা মঙ্গেশকরের। তাঁর বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন খ্যাতনামা মরাঠী, কোঙ্কনী সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যশিল্পী। মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবার কাছেই গানের তালিম শুরু হয় ছোট্ট লতার। ১৯৪১ সালের ১৬ ডিসেম্বর গায়িকা হিসেবে পথ চলা শুরু হয় লতা মঙ্গেশকরের। ৩৬টিরও বেশি ভাষায় ৩০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। রেখে গেলেন তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি এবং লক্ষ লক্ষ অনুরাগীকে। একের পর এক সাফল্যের সোপান তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন অবলীলায়। হয়ে উঠেছেন ভারতের নাইটিঙ্গল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বড় হয়েছে তাঁর গান শুনে। আর সঙ্গীত জগতের নক্ষত্রপতনে শোকের ছায়া সুরের জগতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.