সিরিয়ার ভারাটে সেনা নিয়োগ করছে রাশিয়া (Russia), মার্কিন দৈনিকের দাবি

Home বিদেশ-বিভূঁই সিরিয়ার ভারাটে সেনা নিয়োগ করছে রাশিয়া (Russia), মার্কিন দৈনিকের দাবি
সিরিয়ার ভারাটে সেনা নিয়োগ করছে রাশিয়া (Russia), মার্কিন দৈনিকের দাবি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: একটি আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে,  রাশিয়া (Russia) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দখল নিতে মস্কোকে (Moscow) সাহায্য করার জন্য নগর যুদ্ধে দক্ষ সিরিয়ানদের নিয়োগ করছে। এই খবর সামনে আসতেই পরিষ্কার যে, পুতিন কারও কথায় কান দিচ্ছেন না।

দৈনিকের মতে, চার মার্কিন কর্মকর্তা (Us official) জানিয়েছেন যে একটি রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সিরিয়ায় (Syria) ২০১৫ সাল থেকে একটি অপারেটিং উপস্থিতি রয়েছে রাশিয়ার (Russia)। তারা দ্রুত আক্রমণের সুবিধার জন্য সেখান থেকে যোদ্ধা নিয়োগ করছে।

যদিও এটা এখনও স্পষ্ট নয় যে পুতিন এখনও পর্যন্ত কত যোদ্ধা নিয়োগ করেছেন। রিপোর্টে দেখা গেছে যে কেউ কেউ ইতিমধ্যেই রাশিয়ায় (Russia) উপস্থিত হয়েছে এবং শীঘ্রই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একটি সিরিয়া ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মস্কো একবারে ছয় মাসের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের ইউক্রেনে গিয়ে প্রহরী হিসাবে কাজ করার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সংস্থার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে চেচেন প্রজাতন্ত্র (Chechen Republic) সহ অন্যান্য দেশের যোদ্ধাদের ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে ভাড়া করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া (Russia) ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ সোমবার ১২তম দিনে প্রবেশ করেছে। রাশিয়ান সৈন্যদের গোলাবর্ষণের পরে ইউক্রেনের ইরপিনে শহর ছেড়ে পালানোর সময়ে আটজন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

সিরিয়ার (Syria) কতজন ভাড়াটে যোদ্ধা রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানাননি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে কিছু যোদ্ধা ইতিমধ্যে রাশিয়ায় (russia) ঢুকেছে এবং ইউক্রেনে মোতায়েনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রুশ কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শহরে যুদ্ধের লড়াইয়ে দক্ষ হয়ে ওঠা সিরীয় যোদ্ধাদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা গেলে রাজধানী কিয়েভসহ পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখলে সুবিধা হতে পারে মস্কোর। 

আরও জানতে পড়ুন – ইউক্রেনের পড়তে যাওয়া কাল! দেশে ফিরতে মূল্য চোকাতে হচ্ছে পড়ুয়াদের

এদিকে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির প্রবীণ সামরিক যোদ্ধারা ইউক্রেনের পক্ষে লড়াই করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে রাশিয়া (Russia) এবার ভাড়াটে সেনার সাহায্য নিচ্ছে। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিশ্বখ্যাত এক সংবাদ মাধ্যমে এমনটাই দাবি আমেরিকার আধিকারিকদের। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় যুদ্ধের জন্য রাশিয়ায় ইতিমধ্যেই সিরিয়ার যুদ্ধবাজরা পৌঁছে গিয়েছে। কেননা এই মুহূর্তে রাশিয়ার লক্ষ্য হল কিয়েভের মতো ইউক্রেনের বড় শহরগুলি দখল করা। কিন্তু ইউক্রেনের প্রতিরোধের কারণে তা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে দাবি করা হলেও, মস্কোতে সিরিয়ার কতজন যুদ্ধবাজ পৌঁছেছে, তা জানাতে পারেননি তাঁরা। তবে দাবি করা হয়েছে বেশ কিছু যোদ্ধা ইতিমধ্যেই রাশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁদেরকে ইউক্রেনে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলেছে। সিরিয়ার তরফে রাশিয়াকে যোদ্ধাদের পাঠানোর প্রস্তাব আসে। তাদের বেতন ২০০ থেকে ৩০০ ডলারের মতো। ছয়মাসের জন্য তাঁরা রক্ষীর কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের শহরগুলি দখলের জন্যই রাশিয়ার প্রস্তুতি ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর কিছু পরেই রাশিয়ার তরফে দাবি করা হয়েছিল তাদের সেনা কিভেয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সেটা কিয়েভ থেকে ৪০ থেকে ৬০ কিমি দূরে।

কিন্তু তারপরে রাশিয়ার সেনার সেরকম অগ্রগতির কথা জানা যায়নি। পশ্চিমী সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে ইউক্রেনের কড়া প্রতিরোধের জেরে রাশিয়ার অগ্রগতি থমকে গিয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই গৃহ যুদ্ধ চলছে। সেখানকার যোদ্ধারা এক দশকের বেশি সময় ধরে শহুরে যুদ্ধে পারদর্শী। অন্যদিকে রাশিয়াও তাদেরকে অস্ত্র সাহায্য দিয়ে এসেছে। এবার পাল্টা সাহায্যের প্রস্তুতি। অন্যদিকে, ইজরায়েলের বর্ষীয়ান সেনারা ইউক্রেনকে সাহায্য করতে মনস্থির করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া সেনা যুদ্ধাপরাধী। ইউক্রেনের সেনারা তাদেরকে কবরের দিকেই নিয়ে যাবে। ইউক্রেনের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, রাশিয়ার সেনাদের ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্য বিচারের দিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের যত পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়েছে কিংবা তাদের সদস্যরা মারা গিয়েছেন, তাঁদেরকে দেশ ভুলবে না। এই যুদ্ধে যারা নৃশংসতা দেখিয়েছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে ইউক্রেনের জমিতেই, বলেছেন জেলেনস্কি। এই পৃথিবীতে কবর ছাড়া তাদের আর কোনও শান্তির জায়গা থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইউরোপের (europe) দেশগুলির কাছে ফের আবেদন করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তাঁদের দেশে রাশিয়ার হামলা নিয়ে বলেছেন, এখনও পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, সেটা রাশিয়ার কাছে যথেষ্ট নয়। তারা আরও মারতে চায়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমী দেশগুলির কাছে ফের মস্কোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেসব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। ভারতের কাছেও তিনি আবেদন করেছেন। পুতিন কারও কথা শুনলে হয়!


Leave a Reply

Your email address will not be published.