সারা দেশে করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী, স্বস্তি মহারাষ্ট্রেও

Home দেশের মাটি সারা দেশে করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী, স্বস্তি মহারাষ্ট্রেও
সারা দেশে করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী, স্বস্তি মহারাষ্ট্রেও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: গোটা দেশেই করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী। রাজ্যে-রাজ্যে কমছে সংক্রমণ। মহারাষ্ট্রেও ফি দিন কমছে সংক্রমিতের সংখ্যা। বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের সংক্রমণ পরিস্থিতিও মোটের উপর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংক্রমণ কমতেই ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে করোনা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ। দেশে করোনার মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুক্রবার রাজ্যে নতুন করে ৫ হাজার ৪৫৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যা আগের দিনের তুলনায় ৭০০ কম। একদিনে মহারাষ্ট্রে করোনার বলি ৬৩। এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। একদিনে মহারাষ্ট্রে নতুন করে ৭৬ জন ওমিক্রন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। মুম্বইয়ে একদিনে ফের করোনায় কাবু ৩৬৭ জন, মৃত্যু ১ জনের।
গোটা দেশেই কমছে সংক্রমণ। শনিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৪০৭ জন। একদিন দেশে করোনায় মৃত্যু ৮০৪ জনের। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ লক্ষ ৭ হাজার ৯৮১। এই মুহূর্তে দেশে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬ লক্ষ ১০ হাজার ৪৪৩। গতকালের চেয়ে এদিন কমেছে সংক্রমণের হারও। বর্তমানে দেশে করোনার সংক্রমণের হার কমে ৩.৪৮ শতাংশ।

শুক্রবার রাজ্যে সামান্য কমল করোনা সংক্রমণের গতি। এদিন রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ও আক্রান্তের হার সামান্য কমেছে। একদিনে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। এদিন রাজ্যে ৪৪,৩০০টি করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তার মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে ৭৬৭ জনের দেহে। কলকাতায় আক্রান্ত ১৩১। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯৫। জলপাইগুড়িতে আক্রান্ত ৭৩। রাজ্যে এদিন আক্রান্তের হার ছিল ১.৭৩ শতাংশ। রাজ্যে এদিন মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। উত্তর ২৪ পরগনায় ৭ জন ও কলকাতায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। রাজ্যে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ২০,৯৬৫।

রাজ্যে এদিন সুস্থ হয়েছেন ১,৩৬১ জন। অ্যাক্টিভ কেস কমেছে ৬২১টি। রাজ্যে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ১৪,১৮৪। সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৯৮.২৫ শতাংশ।
অবশেষে দার্জিলিং জেলাজুড়ে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ নামল। আর বাড়ল সুস্থতার হার। এদিন জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এমনটাই খবর। আশানুরূপ সাড়াও মিলেছে সুস্থতার হারে। যার ফলে কার্যত স্বস্তিতে জেলা প্রশাসন। এদিন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলায় নতুন করে ২৩ জন করোনা সংক্রমিতের হদিশ মিলেছে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। এদিকে, শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে থাকা ওয়ার্ডগুলির ৮ জন রয়েছেন বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। এছাড়া দার্জিলিং মিউনিসিপ্যালিটিতে ১ জন, সুকনাতে ২ জন, কার্শিয়াং মিউনিসিপ্যালিটিতে ১ জন, মিরিকে ১ জন, মিরিক মিউনিসিপ্যালিটিতে এক জনও নয়, বিজনবাড়িতে ১ জন, সুখিয়াপোখড়িতে ১ জন সংক্রমিত হয়েছে। তবে তাকদহে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন সংক্রমিত হয়েছে। পাশাপাশি, খড়িবাড়িতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন সংক্রমিত হয়েছে। মাটিগাড়াতে ১ জন, ফাঁসিদেওয়াতে ২ জন এবং নকশালবাড়িতে ৫ জন সংক্রমিতের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।

অন্যদিকে, দেশে কমল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার আরও কিছুটা কমল আক্রান্তের সংখ্যা। একদিনে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। এদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৮,০৭৭। মৃত্যু হয়েছে ৬৫৭ জনের। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১,৫০,৪০৭। অ্যাকটিভ কেস রয়েছে ৯২,৯৮৭। পজিটিভিটি রেট ৩.৮৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪,২৫,৩৬,১৩৭। মৃত্যু হয়েছে ৫,০৭,১৭৭ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৪,১৩,৩১,১৫৮। অ্যাকটিভ কেস রয়েছে ৬,৯৭,৮০২।

এদিকে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা কম হলেও, ঝুঁকি রয়েই গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও পর্যন্ত ওমিক্রনের চারটি উপবংশ বা প্রজাতি ট্র্যাক করেছে। তারমধ্যে ওমিক্রন দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। হু আরও বলেছেন BA.1 ও BA.2র মধ্যে কোনটি বেশি সংক্রামক ও কোনটি গুরুতর রোগের কারণ তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। হু বলেছে, তথ্য প্রমাণ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। BA.1ও BA.2 এই দুটি স্ট্রেইনের মাধ্যমে কোনটি বেশি ভয়ানক, তা নিয়ে এখন পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।
এরই মাঝে পাঁচ বছরের কমবয়েসীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি বাড়ছে। কারণ ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শিশুদেরই বেশি। তাই পাঁচ বছরের নীচের শিশুদের টিকাদানের কথা ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে বিশ্ব জুড়েই। এ যেন স্বস্তি মিলেও মিলছে না। বজ্র আঁটুনি আলদা দিলেই বিপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.