২৪ বছর পাশাপাশি দিন যাপন! সারপ্রাইজ মেকওভারে গৃহহীন দম্পতির বিয়ের স্বপ্নপূরণ

Home বিদেশ-বিভূঁই ২৪ বছর পাশাপাশি দিন যাপন! সারপ্রাইজ মেকওভারে গৃহহীন দম্পতির বিয়ের স্বপ্নপূরণ
২৪ বছর পাশাপাশি দিন যাপন! সারপ্রাইজ মেকওভারে গৃহহীন দম্পতির বিয়ের স্বপ্নপূরণ

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: এ যেন ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কাহিনি। অচেনা হলেও কোনও কোনও মানুষের জীবনের মন ছুঁয়ে যাওয়া এমন কিছু গল্প থাকে, যা সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে রূপকথার মতো ছড়িয়ে পড়ে। রোসেলিন আর রোমেলের গল্পও ঠিক তেমনই। ভালোবাসা ছাড়া জীবনের কাছে আর বিশেষ কিছু চাওয়ার ছিল না ফিলিপিনসের পামপাঙ্গার এই মানুষ দু’টির। আর হঠাৎ একদিন…

রোসেলিন ফেরার আর রোমেল বাস্কো। দু’জনেই এখন মধ্য পঞ্চাশে। পেট চলে নামমাত্র লাভে স্ক্র্যাপ বা ছাঁট বিক্রি করে। গত ২৪ বছর একটা খুপড়িতে পাশাপাশি, ঘেঁষাঘেঁষি দিন যাপন। যেখানে অসীম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে অপার সুখ আর আনন্দ।

অভাবের দরুন প্রথাগত বিয়ের পর্বটি সারা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ভালোবাসার নিয়মে আজ তাঁরা ছয় সন্তানের জনক-জননী। ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার তুলে দিত উদয়াস্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন হাসিমুখে। তবে দিন শেষে কিন্তু আজও একটা স্বপ্ন চোখে নামে দুজনের। বর-কনের বেশে চার্চে যাজকের সামনে দাঁড়িয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়ার দৃশ্যটি ঘুরে ঘুরে নামে ক্লান্ত দু’টি চোখে।

রোসেনিলের স্বপ্ন ছিল দুধ সাদা গাউনে নিজেকে মুড়ে জীবনসঙ্গীর সামনে গিয়ে দাঁড়ানো। তবে ছোট্টবেলার সেই স্বপ্ন, জীবনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ম্লান হয়েছে। রোসেলিনের কথায়, ‘টাকাপয়সার নিত্য অভাব। টানাটানির সংসারে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতেই দিন কাবার হয়ে যায়। বিয়ের ইচ্ছে সেখানে বিলাসিতা আর বেমানানও বটে। এবার আমার মনে হচ্ছে সত্যিই ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করেছেন। নইলে এভাবে মন থেকে মুছে যাওয়া সেই সাধ এভাবে পূরণ হয়!’

হ্যাঁ রোসেলিন আর রোমেলের অকিঞ্চিৎকর জীবনে এমন একটা ঘটনা ঘটে গেছে, যা তাঁদের কাছে সারাজীবনের অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়ে গেল।

রিচার্ড স্ট্যান্ডজ। পামপাঙ্গায় নিজস্ব স্যাঁলো রয়েছে রিচার্ডের। কোনওভাবে তাঁর কানে পৌঁছয় অবিবাহিত দম্পতির কথা। তখনই তিনি ঠিক করে নেন, এদের জীবনের স্বপ্ন তিনিই পূরণ করবেন! নিজের বন্ধুবান্ধদের জুটিয়ে একদিন তাই সটান চলে যাওয়া রোসেলিন-রোমেলের স্যাঁতস্যাঁতে বস্তি ঘরে।

সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে রিচার্ড বলেন, ‘ওদের কাছে গিয়ে জানতে পারলাম, দু’দশকের উপর তাঁরা একসঙ্গে সংসার পেতে রয়েছেন, কিন্তু শুধুমাত্র টাকাপয়সার অভাবে নিজেদের আনুষ্ঠানিক বিয়েটা সেরে উঠতে পারেননি। তবে শত দারিদ্র্যেও তাদের ভালোবাসা এখনও নিখাদ। যৌবন শেষে প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো মানুষ দু’টিকে জীবনের সেরা চমক দিতে বন্ধুদের সাহায্যে চ্যারিটি ওয়েডিংয়ের ব্যবস্থা করি।’

এরপর আসে সেই সারপ্রাইজের সেই দিন। রিচার্ডের বন্ধুরা মিলে রোসেলিনের মেকওভারে বসে। তাকে পরিয়ে দেওয়া হয় সাদা ব্রাইডাল গাউন। মেকওভার হয় রোমেলেরও। সাজের পর নিজেদের চোখেই অচেনা হয়ে যান তাঁরা। বর-কনেকে নিয়ে চলে দীর্ঘ প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট। কয়েকদিনের মধ্যেই ধর্মীয় ও আইনি মতে হবে বিয়ের আয়োজনও।

অচেনা, অজানা মানুষ দুটির জন্য কীসের টানে রিচার্ড এসব করছেন? একটাই উত্তর, ‘প্রকৃত ভালোবাসা অমূল্য। আর সেই ভালোবাসার উদযাপন তো হতেই হয়! সে ধনী হোক বা দরিদ্র।’

আনাত্মীয় রিচার্ডের মহানুভবতায় যতটা কৃতজ্ঞ, তার চেয়েও বেশি বিস্মিত রোসেলিন আর রোমেল। সাধ্য না থাকায় যে সাধপূরণ ছিল কল্পনার হাতছানি, আজ রিচার্ডের মতো মানুষের জন্যই তা ভরিয়ে দিল, খালি পড়ে থাকা মনের একটা কোণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.