সামান্থা:‌ এক হৃদয় অবাধ্য মেয়ে

Home Uncategorized সামান্থা:‌ এক হৃদয় অবাধ্য মেয়ে
সামান্থা:‌ এক হৃদয় অবাধ্য মেয়ে

প্রিয়ম সেনগুপ্ত:‌ সামান্থা রুথ প্রভু।
সামান্থার আগে কে?‌ রানি মুখোপাধ্যায়?‌ বিদ্যা বালন?‌ নাকি আরও পিছিয়ে মাধুরী দীক্ষিত কিংবা শ্রীদেবী?‌
সামান্থার আগে একক দক্ষতায় এভাবে গোটা দেশকে (‌বলিউড শব্দটা এড়িয়ে গেলাম ইচ্ছা করেই)‌ বুঁদ করেছেন কে? কাকে নিয়ে ভাষা নির্বিশেষে এভাবে দিস্তে দিস্তে নিউজপ্রিন্ট এতদিন ধরে খরচ করে গেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম?‌‌
নাহ, সম্ভবত কেউ–ই না। বলা ভাল, সামান্থার মতো আর কেউই নন।
কারণ, রানি থেকে বিদ্যা কিংবা মাধুরী থেকে শ্রীদেবী— সকলেই রুপোলিপর্দার জগৎ শাসন করেছেন বলিউডকে রাজধানী করে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সামান্থা ‘বহিরাগত শাসক’‌। বলিউড নামক দেশটির রাজধানী মুম্বইতে সেভাবে রাজপাটই সামলাননি। সামান্থা সেই বিরল চরিত্র, বলিউডে সেভাবে পা না রেখেও যিনি বার্তা পাঠাতে পারেন, গোটা দেশের ফিল্মপ্রেমীদের হার্টথ্রব মানেই সেই নায়িকা বলিউড থেকেই আসবেন, এই ধারণার দিন শেষ। দেশের ফিল্মপ্রেমীদের শাসন দক্ষিণ থেকেও করা যায়। তার জন্য বলিউডে পাকাপাকি আসন গেঁড়ে বসার দরকার হয় না।
মোদ্দা কথা হল, রাজধানী পরিবর্তন হয়তো হয়নি। কিন্তু সেভাবে রাজধানীতে পা না রেখেই সাম্রাজ্ঞী হয়ে উঠেছেন সামান্থা।
বারবার ‘‌সেভাবে’‌ শব্দটা ব্যবহার করতে হচ্ছে। সেটুকুও হতো না, যদি না ফ্যামিলিম্যান টু–তে অ্যান্টিহিরো (‌ভিলেন শব্দটা বড্ড কটূ। ওতে অমরীশ পুরিদের ক্রোধান্বিত এবং নিষ্ঠুর চাহনি লেগে আছে)‌ হিসেবে আসতেন সামান্থা। যে যাই বলুন, আমাদের দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও নায়িকার জনপ্রিয়তার পারদ ওঠানামা করে তাঁর রূপের আগুনের আঁচের ওপরে ভিত্তি করে। নইলে ক্যাটরিনা কাইফরা কী করে.‌.‌.‌ যাক সে কথা।
ফলত, প্রায় সব নায়িকাই চান, চরিত্র যেমনই হোক না কেন, তাঁকে যেন ‘‌গ্ল্যামারাস’‌–ই লাগে। সেখানে সামান্থা হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখলেন কোন চরিত্রে?‌ না, এক তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী তরুণী। যাঁর গাত্রবর্ণ চরিত্রের সঙ্গে মানানসই শ্যামবর্ণ। যাঁর মুখে হিন্দি সংলাপ প্রায় নেই–ই!‌ সঙ্গে এই দুশ্চিন্তাও নেই দক্ষিণী ভাষা না জানা দর্শকরা এই চরিত্রের সঙ্গে ‘‌কানেক্ট’‌ করবেন কী করে?‌
আর কী নেই?‌ আইটেম ডান্স নেই, রগরগে শয্যাদৃশ্য নেই, ফিনফিনে শিফন–শাড়িতে কোমর দোলানো নাচ নেই। মানে, গড়পড়তা ধারণায়, কোনও নায়িকার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য, ‘‌লাখো দিলো কি ধড়কন’‌ হয়ে ওঠার জন্য ভারতীয় লোলুপ দর্শককুল যা যা দেখতে চায়, তার কোনও কিছুই নেই।
তাহলে কী আছে?‌ আছে চরম অভিনয়। মার্শাল আর্টে পটু রাজলক্ষ্মী চরিত্রে অভিনয় যেন সামান্থার তরফ থেকে দৃপ্ত নকআউট পাঞ্চ— দেখতে হলে অভিনয়টা দেখুন। নারী কি পুরুষ, সেটা পরের কথা।
স্পষ্ট বোঝা গেল, বহুদিন পর একজন নায়িকা এসেছেন, যিনি পূর্বসূরিদের অনুসরণ করেন না। অনুকরণও করেন না। নিজের রাস্তা নিজে বানিয়ে নেন। সেই রাস্তায় হাঁটতে গেলে মানতে হবে তাঁরই লেখা ‘‌রুলবুক’‌। যে রুলবুকের প্রথম পাতাতেই গোটাগোটা অক্ষরে লেখা, অভিনয়ের জন্য নিজেকে যতটা ভাঙতে হয়, ভাঙব। স্ক্রিপ্টের প্রয়োজন জোর করে গুঁজে দেওয়া গ্ল্যামার, আইটেম ডান্স কিংবা বিভাজিকা দেখতে হলে, ভুল ঠিকানায় এসেছেন।
উইকিপিডিয়া বলছে, জন্ম ১৯৮৭–তে। বয়স ৩৫। করেছেন ৪৪টির বেশি সিনেমা। বিয়ে হয়ে গেছে ২০১৫ সালে। এমনিতেই ৩০–এর পর ভারতীয় দর্শকদের কাছে নায়িকাদের দর সাধারণত কমতে শুরু করে। ‘‌বাজার’‌ নষ্ট হবে, এই ভয় ভারতীয় নায়িকারা বিয়েই করতে চান না। কিন্তু ইনি সামান্থা। অন্য ধাতুতে গড়া। যা করেছেন, খুল্লমখুল্লা। তা সে একসময়ের অভিনেতা–প্রেমিক সিদ্ধার্থের সঙ্গে ডেট এবং ব্রেক–আপ হোক কিংবা আর এক সুপারস্টার নাগা চৈতন্যের সঙ্গে প্রেম–বিয়ে–ডিভোর্সের উঁচুনিচু পথ হাঁটা— সবেতেই সামান্থার প্রতিক্রিয়া দৃঢ় অথচ সংক্ষিপ্ত। এক থেকে দু’‌লাইনের সেই সব মিডিয়া বাইট পড়তে পড়তে মনে হবে, এ মেয়ের কি কোনও কিছুতেই কিছু আসে যায় না?‌
বোধহয় আসে যায় না। নইলে স্রেফ সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করবেন বলে অবহেলায় হাঁটতে পারেন বিবাহবিচ্ছেদের পথেও!‌ মিডিয়ার গুঞ্জন যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রাক্তন স্বামী চৈতন্যের পরিবারের সঙ্গে সামান্থার সম্পর্কের ফাটলটা শুরু অভিনয়কে কেন্দ্র করেই। চৈতন্যের বাবা নাগার্জুন দক্ষিণী ফিল্মের আর এক সুপারস্টার। চিত্রনাট্যের চাহিদা তিনি দস্তুরমতো বোঝেন। তবু পুত্রবধূ শয্যাদৃশ্যে অভিনয় করবে, আইটেন ডান্সে নাচবে, এসব নাকি মেনে নিতে পারেননি তাঁরা। কিন্তু সামান্থাও অনড়। যে চরিত্র তাঁর পছন্দ হবে, তার প্রয়োজনে যা করতে হয়, তিনি করবেনই।
এদিকে স্বামী নাগা চৈতন্য তখন মিডিয়ায় বাইট বিলোচ্ছেন, ‘‌আমি এমন কোনও কাজ করব না তা আমার পরিবারের পক্ষে সম্মানহানিকর’। ফলত ম্যাচটা গিয়ে দাঁড়াল ‘‌পারিবারিক সম্মান’‌ বনাম অভিনয়ের কেরিয়ারে।
সবাইকে অবাক করে মরণবাঁচন এই ম্যাচে কেরিয়ারের জার্সি পরেই পরিবারকে বিদায় জানালেন সামান্থা। ঘুরিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে সপাট জানালেন, ‘‌আগে অভিনয়, তারপরে সবকিছু।’‌
রানি মুখোপাধ্যায়, শ্রীদেবী কিংবা কাজলরা তবু বিয়ের পরে কেরিয়ারে টুকটাক করে ফিরেছেন। বিয়ের পরে রানি কিংবা কাজলের স্ক্রিনপ্রেজেন্সে আর আগের সেই ঔজ্জ্বল্য নেই। তাঁরা অতীতের ছায়ামাত্র। তবু পর্দায় ফিরেছেন, এটাও অনেক তাঁদের গুণমুগ্ধদের কাছে। কিন্তু দক্ষিণী ছবিতে ব্যাপারটা অন্যরকম। মোটামুটি অলিখিত নিয়মই রয়েছে বিয়ের পরে নায়িকারা আর কাজ করবেন না। সামান্থাই প্রথম রীতিটা ভাঙলেন। বিয়ের আগেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, চারহাত এক হলেও অভিনয়টা তিনি ছাড়বেন না। বরং বেশি করে কাজ করবেন।
আর সামান্থা শুধু প্রথাটা শুধু ভাঙলেনই না, হয়ে উঠলেন আরও উজ্জ্বল। ঠিক যেমনটা তিনি ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৫–তে বিয়ের পরে দিলেন ‘‌থেরি’ (‌২০১৬)‌‌, ‘‌ইউটার্ন’ (‌২০১৮)‌‌ কিংবা সুপার ডিলাক্স (‌২০১৮)‌–এর মতো সুপারডুপার হিট ফিল্ম। এবং তার মধ্যে রয়েছে তামিল ও তেলুগু ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
আসলে সামান্থা এরকমই। প্রেম ভাঙা, ডিভোর্স, গর্ভপাতের গুজব থেকে শুরু করে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের গুঞ্জন সামান্থা এমনভাবে উড়িয়েছেন যেন গা জ্বলিয়ে দেওয়া কুৎসিত ট্রোলবাক্য তো নয়, সামনে রাখা রসগোল্লার প্লেটের ওপরে ভনভন করতে থাকা মাছি!‌
কেমন?‌ একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ‘‌ফ্যামিলি ম্যান টু’ রিলিজের পর সামান্থাকে চলছে কুৎসিত ট্রোল। অভিযোগ, দক্ষিণীদের যে ওয়েবসিরিজে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেখানে একজন দক্ষিণী হিসেবে কেন সেই ভূমিকায় অভিনয় করতে রাজি হলেন তিনি। মেপে মেপে মাত্র দু’‌লাইন প্রতিক্রিয়া আদায় করতে পেরেছিল মিডিয়া। তাও তার মধ্যে একটা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথমটা (‌যেটা সাংবাদিকদের বলেছিলেন)‌, ‘‌এমন চরিত্র ছাড়াটা বোকামি।’‌
তাতে বিতর্ক থাকেনি। একটি সর্বভারতীয় বহুভাষিক সংবাদমাধ্যমের হিসাব বলছে, সামান্থাকে গালাগাল করে করা হয়েছিল সাড়ে ছ’‌লক্ষেরও বেশি ট্যুইট। ট্রোল করতে গিয়ে সামান্থার উদ্দেশে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেন নেটিজেনরা, যা রীতিমতো আপত্তিকর মনে করে উড়িয়ে দিয়েছিল ট্যুইটারও। গালাগাল কতটা তীব্র হলে সোশ্যাল মিডিয়া কোনও ট্যুইট উড়িয়ে দেয়, সে ধারণা সকলেরই আছে। সেই ট্যুইটে সামান্থার প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‌ঈশ্বর ওঁদের (‌ট্রোলারদের)‌ মঙ্গল করুন।’‌ ব্যাস, ওটুকুই!‌
দেখেশুনে মনে হতেই পারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকা বনাম নেটিজেন ট্রোলযুদ্ধ নয়, যেন কুড়ি বছর আগের কোনও ধ্রুপদী টেস্ট ম্যাচ দেখছি। যেখানে ৯০ মাইল বেগে পাঁজর লক্ষ্য করে একের পর এক শর্টপিচ ডেলিভারি দাগছেন টপ ফর্মে থাকা শোয়েব আখতার। আর সেখানে স্থিতধী রাহুল দ্রাবিড়ের ভূমিকা পালন করছেন সামান্থা। যাবতীয় বিতর্কের বাউন্সারকে জমাট ডিফেন্সে শাসন করে প্রতিবার টুক করে ঠেকিয়ে দিয়ে বার্তা পাঠাচ্ছেন, ‘‌যাও, আবার চোদ্দ পা দৌড়ে পরের বলটা করো গে যাও।’‌
নিজের কাজ ছাড়া আর কোনও দিকে মন দেবো না, এই নিশ্চল উপেক্ষাকে করায়াত্ত করাই তো সাধনা‌!‌ ক’‌জন সেলেব্রিটি তা করতে পারেন?‌
দ্রাবিড়ীয় সভ্যতায় দীক্ষিত জমাট ডিফেন্স যেমন আছে, তেমন স্টেপ আউট করে ‘‌বাপি বাড়ি যা’‌–ও আছে। খাবার না যৌনতা— কোনটা ছাড়া থাকতে পারেন না, এই প্রশ্ন কোনও সাংবাদিক সম্মেলনে করা হলে মাধুরী কিংবা শ্রীদেবীরা স্রেফ আগুনে দৃষ্টি হেনেই হয়তো ভস্ম করে দিতে ওই সাংবাদিককে। নিদেনপক্ষে কানে আঙুল দিতেন। রানি মুখোপাধ্যায়ের জমানার নায়িকারা উপেক্ষা করে হয়তো বলে বসতেন, ‘‌নেক্সট কোয়েশ্চন প্লিজ।’‌ আর এই দীপিকা পাড়ুকোনদের জমানার নায়িকারা বড়জোর লাজুক হাসি হেসে কথা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতেন।
ইনি সামান্থা রুথ প্রভু! এসবের তোয়াক্কাই করেন না।‌ যত জোরে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল, ততটাই সপাটে উত্তর ফিরিয়েছিলেন ‘‌অবশ্যই যৌনতা। না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু যৌনতা ছাড়া নয়।’‌
তাও আবার কোন সময়?‌ না, আর মাত্র ক’‌দিন পরেই যখন নাগার্জুনের পুত্র নাগা চৈতন্যের সঙ্গে বিয়ে হতে চলেছে সামান্থার। খেয়াল রাখুন, সেই নাগার্জুনের পরিবার। চরম রক্ষণশীল পরিবার!‌
আসলে সামান্থা সেই হৃদয় অবাধ্য মেয়ে, যিনি শুধু নিজের মনের কথাটা বাদ দিয়ে আর কারও কথার বাধ্য নন।
সামান্থা ফের নতুন করে ভেসে উঠেছেন ‘‌পুষ্পা’‌–র হাত ধরে। না, প্রধান চরিত্রে নেই। প্রধান নারীচরিত্রেও নেই সামান্থা। স্রেফ একটা আইটেম ডান্সে সাড়ে তিন মিনিটেরও কম সময় দেখা গেছে সামান্থাকে। অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই ‘‌ও আন্তাভা’‌ গানের ভিউজ ১০ কোটি ৮৮ লক্ষেরও বেশি!‌ ভিডিওর নীচে মন্তব্য ২৫হাজারেরও বেশি!‌ মনে রাখতে হবে, এই গানের ভাষা কিন্তু কিন্তু হিন্দি নয়, তেলুগু।
আসল চমক ভিউজ বা কমেন্টের সংখ্যায় নয়। চমক সামান্থার পারিশ্রমিকে। এই একটি গানে নাচের জন্য তিনি নিয়েছেন পাঁচ কোটি টাকা!‌ সঙ্গে ডেকে এনেছেন বিতর্ক। বিতর্ক অবশ্য মূলত গানের লিরিক নিয়ে।
কী বলছে ‘‌ও আন্তাভা’‌ গানের লিরিক?‌ বাংলায় অনুবাদ করলে অনেকটা এরকম দাঁড়ায়.‌.‌.‌
‘‌‌আমরা (‌নারীরা)‌ শাড়ি পরলে তোমরা (‌পুরুষরা)‌ আমাদের হাঁ করে দেখবে
আমরা স্কার্ট পরলেও তোমরা আমাদের লুকিয়ে লুকিয়ে দেখবে
পোশাকটা আসলে কোনও বিষয়ই নয়
পুরুষদের দৃষ্টিটাই খারাপ, চিন্তাভাবনাই খারাপ’‌
ফলত, পাল্টা প্রশ্নও উঠছে, পুরুষ মানেই বিকৃতমস্তিষ্ক নাকি?‌ প্রশ্নের উত্তরে সামান্থা কী বলছেন?‌ সেই ছোট্ট কিন্তু সপাট জবাব, ‘গানটা আমি লিখিনি। গানটা হিট করেছে।’‌
বিরাট কোহলি আর অনুষ্কা শর্মাকে নিয়ে যেমন বিরুষ্কা, ভিকি কৌশল আর ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে যেমন ভিক্যাট, তেমনই নাগা চৈতন্য এবং সামান্থা নিয়ে তেমনই ‘‌চৈস্যাম’ (‌চৈতন্যের চৈ এবং সামান্থার স্যাম)‌‌। তাঁরা কী খাচ্ছেন, কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন— মিডিয়া হামলে পড়ে সেসবের খবর করেছে। জুটি ভাঙলে সাধারণত ব্র্যান্ডভ্যালুও কমে যায়। সামান্থার ডিভোর্সের পর ব্র্যান্ডভ্যালু কমেনি। উল্টে বেড়েছে।
৪৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সামান্থা। একটিও হিন্দি ছবি নেই তার মধ্যে। কোন অভিনেতা বা অভিনেত্রী কতটা জনপ্রিয়, সেটা মাপার একটা চালু পন্থা রয়েছে। সেটা হল, কোন ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপনে মুখ দেখানোর জন্য কোন তারকাকে ডাকছে। ‘‌পুষ্পা’‌–তে সাড়ে তিন মিনিটের গানে নাচার পরে সামান্থাকে এখন দেখা যাচ্ছে ‘‌কুরকুরে’‌–এর মতো পণ্যের বিজ্ঞাপনে। বিপরীতে কে?‌ অক্ষয়কুমার!‌
একটিও হিন্দি ফিল্মে অভিনয় না করা সামান্থাকে রাখা হচ্ছে কুরকুরের মতো একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে অক্ষয়কুমারের বিপরীতে।
এরপরেও সামান্থার ‘‌ব্র্যান্ডভ্যালু’‌ নিয়ে প্রশ্ন তোলে কোন আহাম্মক!‌
দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আরও বেশি করে পুরুষপ্রধান। যে কারণে রজনীকান্ত থেকে কমল হাসান, এনটিআর জুনিয়র থেকে মহেশবাবু— একাধিক পুরুষ সুপারস্টারদের পাশাপাশি যোগ্য সমাদর পান না থেকে যায় তাঁদের মহিলা সহকর্মীরা। শাখরুখ খানদের পাশে কাজলরা যতটা সম্মান ও সম্মানদক্ষিণা পান, আল্লু অর্জুনদের পাশাপাশি সেইভাবে নাম শোনা যায় না তাঁদের মহিলা সহকর্মীদের। ফলে তাঁরা দরও হাঁকাতে পারেন না ততটা। নিন্দকেরা বলেন, দক্ষিণী নায়িকারা সাধারণত ‘‌সেফ’‌ খেলতে নিয়ে ‘‌সেক্সসিম্বল’‌–এর বাইরে নিজেদের ইমেজ সেভাবে গড়তে চান না। ফলে আলাদা করে নিজেদের পরিচয়ও তৈরি করতে পারেন না। পুরুষদের সমান কিংবা চমকে দেওয়ার মতো পারিশ্রমিক চাওয়া তো দূরের কথা।
‘‌পুষ্পা’‌–য় সাড়ে তিন মিনিটের নাচে পাঁচ কোটি টাকা পারিশ্রমিক চেয়ে বসা সামান্থা কিন্তু ১১ বছরের কেরিয়ারের শুরু থেকেই সেই প্রথা ভাঙছেন। তিনি গতানুগতিক সেক্সসিম্বলের বাইরে বেরিয়ে এসে যতরকমের চরিত্রে নিজেকে ভেঙেছেন, তা এখনও অবধি কোনও দক্ষিণী নায়িকাকেই করতে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, নিজের ব্র্যান্ডিংয়ে দর বাড়াতে এতরকমের প্রসাধনী সংস্থার সঙ্গে নিজের নাম জুড়েছেন যা দক্ষিণে আগে কখনও দেখা যায়নি।
খুব ভুল যদি না হয়, সামান্থাই সম্ভবত হতে চলেছেন দক্ষিণের প্রথম মহিলা সুপারস্টার।
সামান্থা প্রচলিত চিরাচরিত রীতি ভাঙা হৃদয়অবাধ্য মেয়ে।
সামান্থা পারবেন।
সামান্থাই পারবেন। কারণ বাধ্য মেয়েরা কবেই বা ইতিহাস তৈরি করেছেন?‌

Leave a Reply

Your email address will not be published.