‘হাসির মতোই হৃদয়টাও পুরোটাই প্লাস্টিকের’, সম্পর্ক ভাঙার পরই ঐশ্বর্যকে কটাক্ষ বিবেকের

Home জলসাঘর ‘হাসির মতোই হৃদয়টাও পুরোটাই প্লাস্টিকের’, সম্পর্ক ভাঙার পরই ঐশ্বর্যকে কটাক্ষ বিবেকের
‘হাসির মতোই হৃদয়টাও পুরোটাই প্লাস্টিকের’, সম্পর্ক ভাঙার পরই ঐশ্বর্যকে কটাক্ষ বিবেকের

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বলিউডে পেশাদারি শত্রুতার বিষয়টি নতুন নয়। কিন্তু সলমন খানের সঙ্গে বিবেক ওবেরয়ের অহি-নকুল সম্পর্কের গল্প আজও সমান চর্চিত। টিনসেল টাউনের খবর, সুরেশ ওবেরয় পুত্র যখন বলিউডে নিজের জায়গাটা পাকা করতে চলেছেন, ঠিক তখনই সলমনের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আরব সাগরের তিরে অনেক ঢেউ আছড়ে পড়েছে, সেই ঢেউয়ের সঙ্গে তিরে এসে ভিড়েছে সমুদ্রে ভেসে যাওয়া অনেক কিছুই, কিন্তু সলমন-বিবেকের সম্পর্ক আর শুধরোয়নি। আর কে না জানে, এই তিক্ততার কেন্দ্রে রয়েছে রাই সুন্দরী। বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের সঙ্গে একাধিক অভিনেতার সম্পর্ক বি-টাউনে কান পাতলে আজও শোনা যায়। কিন্তু বিশ্বসুন্দরীকে বলিউডে পাকা জায়গা করে দিতে উঠে পড়ে লাগেন সলমন। কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ঐশ্বর্যর বিষয়ে শেষ কথা বলতে শুরু করেন সলমন। সঙ্গে ছিল প্রবল সন্দেহ। যার কারণেই সলমনের থেকে দূরে এসে বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়ান ঐশ্বর্য। আর তাতেই সলমনের বিষনজরে পড়েন বিবেক। সেই সম্পর্ক বেশিদিন না টিকলেও, সলমন-বিবেক প্রতিপক্ষ হয়েই রয়ে যান। যার জেরে  বলিউডে একের পর এর কাজের সুযোগ হারানো। বিবেকের জীবনটাই ওলটপালট করে দিয়েছিল ঐশ্বর্যর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। এমনিতেই ঐশ্বর্যকে অনেকেই ডাকতেন প্লাস্টিক ক্যুইন বলে। ব্রেকআপের পর ঐশ্বর্যর হৃদয়ও প্লাস্টিকের বলেই মন্তব্য করেন বিবেক ওবেরয়।

ইন্ডাস্ট্রির সব অভিনেতার সঙ্গেই ঐশ্বর্যের সম্পর্ক আছে বলে নাকি সন্দেহ করতেন সলমন। মারধর থেকে শারীরিক নির্যাতনের কথাও শোনা যায়। তারপরই বিচ্ছেদের খবরে উত্তাল হয় সোশ্যাল মিডিয়া।

সলমনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে নাম জড়ায় ঐশ্বর্যর । এখানেও নানান গসিপ। বিবেক-ঐশ্বর্য সম্পর্ক তাদের সম্পর্ক কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেননি সলমন। প্রাক্তন প্রেমিকার নতুন প্রেমিকের নাম জানা মাত্রই, সল্লু মিঞা নাকি বিবেককে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। প্রেমিকার জন্য সলমন খানের বিরুদ্ধে যেতেও দ্বিতীয়বার ভাবেননি অভিনেতা বিবেক। ঐশ্বর্যর কাছ থেকে দূরে সরে যেতে প্রায়ই, হুমকি ফোনে সলমনের গলা ভেসে আসত বিবেকের কানে। একবার তো সোজা সেটে এসে বিবেককে হুমকি দিয়েছিলেন ‘ভাইজান’। বলেছিলেন, ঐশ্বর্যার থেকে দূরে থাকতে। বিবেকও ছাড়ার পাত্র ছিলেন না। রাতারাতি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সলমনের কীর্তি ফাঁস করে দেন সুরেশ ওবেরয় পুত্র। ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি, নিজের ভবিষ্যতের জন্য কতটা ভুল করে বসলেন!

ভুলের মাসুল হিসেবে সলমনের ঘোষিত শত্রুপক্ষ হয়ে গেলেন বিবেক। বলিউডও সেদিন যেমন মুখ ফিরিয়েছিল তেমনই সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ঐশ্বর্যও!

ঐশ্বর্যর সঙ্গে বিচ্ছেদ, সলমনের সঙ্গে শত্রুতা, বলিউডে কাজের সুযোগ হারানো, বিবেকের  জীবনটাই ওলটপালট করে দিয়েছিল সেই দিনগুলো। ঐশ্বর্যর সঙ্গে ব্যর্থ প্রেম, তাঁর কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে পড়তেই রাগ উগরে দেন বিবেক।

তখন সদ্যই প্রেম ভেঙেছে। আর তার কিছুদিনের মধ্যই এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্যর  প্রসঙ্গে উঠতেই নিজেকে আর সামলাতে পারেননি বিবেক ওবেরয়। বিবেককে নিজের জনপ্রিয় শো, তেরে মেরে বীচ মে-তে ফারহা খানের সামনে বিবেক অকপটে স্বীকার করেছিলেন, বিষয়টা মিডিয়ার কাছে না নিয়ে গিয়ে সলমনের সঙ্গে ব্যক্তিগতস্তরেই মিটিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। জানিয়েছিলেন বন্ধু সোহেল খান কীভাবে তাঁকে অধৈর্য না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে, সলমনের সঙ্গে যাবতীয় বিবাদ মিটিয়ে নিতে তাঁর মধ্যস্থতার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। যে অনুরোধ বিবেক কানে তোলেননি।

এরপরই ফারহার প্রশ্ন ছিল, যার জন্য এত কিছু করলেন সে কি আপনার পাশে ছিল বা এতসবের জন্য কখনও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন? নাম না করে ঐশ্বর্যের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন ফারহা। উত্তরে ঐশ্বর্যর নাম উহ্য রেখেই বিবেকও বলেন, ‘একবারও না! উল্টে বলা হয়েছিল আমি নাকি অত্যন্ত অপরিণত, ছেলেমানুষ। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একটা ব্যাপার আছে। যেমন ধরুন টাপারওয়্যার প্লাস্টিকের কৌটো তৈরি করে,তাদের কাছে যত প্লাস্টিক আছে, তার থেকে বেশি প্লাস্টিক আমাদের এখানে আছে। এখানে হাসিও যেমন প্লাস্টিকের, হৃদয়টাও তেমনই প্লাস্টিকের। সবই মেকি।’

এরপর ব্যক্তিগত জীবনে সলমন-ঐশ্বর্য-বিবেক তিনদিকে চলে গেছেন। অভিষেককে বিয়ে করে রাইসুন্দরী বচ্চন পরিবারের বধূ হয়েছেন। তবে এরপর একাধিকবার প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেলেও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিবেক। শোনা যায়  গুরু ছবির সেকেন্ড লিড শ্যাম সাক্সেনার চরিত্রের জন্যই বিবেককে বেছে নিয়েছিলেন মণিরত্নম। তার বছর তিনেক আগেই পরিচালক মণিরত্নমের সঙ্গেই যুবা ছবিতে কাজ করেছিলেন বিবেক। এবং সেই ছবির সাফল্যের পরও গুরু ছবিতে কাজের অভিনয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন বিবেক।

উল্লেখ্য রামগোপাল বর্মার ছবি ‘কোম্পানি’-তে কেরিয়ার শুরু করেন বিবেক। এর পরে ‘সাথিয়াঁ’, ‘মস্তি’, ‘যুবা’- একের পর এক ছবিতে অভিনয়ে নজর কাড়েন অভিনেতা। ‘কিঁউ হো গয়া না’ ছবিতে ঐশ্বর্যার বিপরীতে কাজ করার সূত্রেই দু’জনের প্রেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.