নিরাপত্তার কারণে ওনিরের সমকামীতার ওপর নির্মিত ছবিতে ছাড়পত্র দেয়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

Home জলসাঘর নিরাপত্তার কারণে ওনিরের সমকামীতার ওপর নির্মিত ছবিতে ছাড়পত্র দেয়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক
নিরাপত্তার কারণে ওনিরের সমকামীতার ওপর নির্মিত ছবিতে ছাড়পত্র দেয়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সিনেমার বিষয়বস্তু- উপত্যকায় কর্মরত ভারতীয় জওয়ানের সঙ্গে এক কাশ্মীরি যুবকের ‘প্রেম’। সেই সিনেমাকে ছাড়পত্র দেয়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মন্ত্রকের দাবি, এর ফলে সুরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে এবং সেনার মর্যাদা ক্ষুন্ন হতে পারে।লোকসভায় এই বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী। জবাব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট। তিনি বলেন, সিনেমার বিষয়বস্তু দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা, দেশে ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষের কাছে সেনার ভাবমূর্তি ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখা হয়। ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য কোনও ভাবেই যাতে মত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন না হয়, সেটা দেখা হয় বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় ভাট জানান, ২০২১-এর পয়লা জানুয়ারি থেকে ২০২২-এর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এমন ১৮টি সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এবং টিভি সিরিজের প্রস্তাব তাঁরা পেয়েছেন। যার বিষয়বস্তু সেনাকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে ১৬টিকে ছাড়পত্র দিয়েছে মন্ত্রক। একটা ছাড়পত্র পায়নি। আর একটা নিয়ে এখনও ভাবনা-চিন্তা চলছে। ২০১৯ থেকে ২০২১-এর মধ্যে বায়ু সেনার কাছে এসেছিল এমন ১৩টি ছবির প্রস্তাব। যাদের একটাও বাতিল করা হয়নি।
জানুয়ারি মাসে চিত্র পরিচালক ওনিরের জানান, তাঁর একটা ছবিকে ছাড়পত্র দেয়নি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই ছবির বিষয়বস্তু ছিল সমকামিতা। সমকামী এক প্রাক্তন সেনা কর্তার জীবনের উপর নির্মিত হত সিনেমাটি।‘আই অ্যাম’-এর সিক্যুয়েল ‘উই আর’ ছবি বানাতে গিয়ে বিপাকে ওনির। ছবিটিতে ভারতীয় সেনার গল্প বলবেন তিনি। মেজর জে সুরেশের জীবন কাহিনি অবলম্বনে লিখেছেন চিত্রনাট্য। আর তাতেই ধাক্কা খান বাঙালি পরিচালক। কারণ তাঁর গল্পে ভারতীয় সেনার আধিকারিক সমকামী পুরুষ। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ছবি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে সে কথা জানান ওনির। পরিচালকের কথায় জানা যায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও চিত্রনাট্যে যদি ভারতীয় সেনার অনুষঙ্গ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছ থেকে অনুমতি চেয়ে নিতে হয়। ওনির বললেন, গত ১৬ ডিসেম্বর আমি সরকারি ভাবে অনুমতি চেয়েছি। আমার মতে, এই চিত্রনাট্যে কোথাও ভারতীয় সেনাকে অপমান করা হয়নি। অপমান করার কোনও ইচ্ছাও আমার নেই।সদ্য জানা গেল, তাঁর চিত্রনাট্যটি বাতিল করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। পরবর্তী কালে ফোনে কথা বলে ওনির জানতে পারেন, চিত্রনাট্য নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কেবল সেনা আধিকারিককে সমকামী দেখানো হয়েছে বলে ছবি বানাতে দেওয়া হবে না। বলা হয়েছে, ‘‘এটি বেআইনি।’’পরিচালকের আক্ষেপ, যে সময়ে সমকাম আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত, সে সময়ে (২০০৫) তিনি সমকাম এবং সমকামী মানুষের প্রতি পুলিসের অত্যাচার নিয়ে ছবি বানাতে পেরেছেন। কিন্তু ২০১৮ সালে দেশের শীর্ষ আদালত সমকামকে আইনি ভাবে নিরপরাধ তকমা দেওয়ার পরেও সমকাম নিয়ে ছবি বানাতে পারছেন না।ওনির এই বিষয়ে একটি টুইট করে লিখেছেন, ‘কারও যৌন পরিচয় তাঁর কর্মদক্ষতাকে নির্ধারণ করতে পারে না।’ এপ্রসঙ্গে ওনির বলেছেন, ছবির নাম ‘উই আর’। আমার ২০১১ সালের ছবি ‘আই অ্যাম’-এর সিক্যুয়েল বলতে পারেন। ৩৭৭ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের রায় আসার পর সেটা উৎযাপন করার জন্যই গে, লেসবিয়ান, ট্রান্সজেন্ডার ও বাইসেক্সচুয়ালদের নিয়ে চারটে গল্প তৈরি করতে চেয়েছিলাম আমি। প্রথম গল্পটি পুরুষের সমকামিতা নিয়ে তৈরি করেছিলাম। নিউজ চ্যানেলে মেজর সুরেশের গল্পটা দেখেছিলাম। চ্যানেলেরই একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলছিলেন, নিজের সঠিক পরিচয় না দিতে পারায় সেনা দলে দমবন্ধ করা পরিবেশ শুরু হয়েছিল তাঁর। আমি ভেবেছিলাম শীর্ষ আদালতের রায় বেরনোর পর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। দেশের সেনাদলে কাজ করা একটি কাল্পনিক চরিত্রকেই আমি দেখাতে চেয়েছিলাম গল্পে। সেই ব্যক্তি প্রেমে পড়েন। কিন্তু প্রেম জাহির করতে কুণ্ঠাবোধ করেন তিনি। তিনি এটাও জানেন, সেনায় সমকামিতা বেআইনি। শেষমেশ তিনি আর্মির চাকরি ছেড়ে দেন। প্রেমের কাছে ফিরে যান।

এই ছবি ভালবাসার কথা বলে। বলেছেন ওনির। তারপরেও কেন ছবিকে ছাড়পত্র দেওয়া হল না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এটা কি বাক স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করা নয়? এভাবে শিল্প সাহিত্যের কণ্ঠ রোধ করা যায়? এটা কি কোনও গণতান্ত্রিক দেশের চরিত্র হতে পারে? এই নিয়ে আজ প্রশ্ন তোলেন বরুণ গান্ধী। প্রতিরক্ষামন্ত্রক নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সমকামিতা যেখানে আইনসিদ্ধ, সেখানে সেনার কেন কোনও সমকামী প্রেমে জড়াতে পারবেন না? প্রেম তাঁর ব্য়ক্তিগত ব্য়াপার! সিনেমায় তাই প্রতিফলিত হবে। দোষ কোথায়

Leave a Reply

Your email address will not be published.