অধ্যাপনা করতে চাই, সংস্কৃতে মুসলিম কন্যার ৫ স্বর্ণ পদক জয়ের পর অনুভব

Home দেশের মাটি অধ্যাপনা করতে চাই, সংস্কৃতে মুসলিম কন্যার ৫ স্বর্ণ পদক জয়ের পর অনুভব
অধ্যাপনা করতে চাই, সংস্কৃতে মুসলিম কন্যার ৫ স্বর্ণ পদক জয়ের পর অনুভব

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: হিজাব বিতর্কে উত্তাল গোটা দেশ। কর্নাটক ছাড়িয়ে সেই বিতর্কের আঁচ পৌঁছে গেছে দেশের কোণায় কোণায়। এরই মধ্যেই এক মুসলিম মেয়ের সংস্কৃতে সাফল্যের গল্প সামনে এল। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজালা সংস্কৃতে ৫টি স্বর্ণপদক পেয়েছেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, পড়ার ক্ষেত্রে ধর্ম কোনও বাধা হতে পারে না। আর হিজাব পরা নিয়ে কর্নাটকে তাণ্ডব চালাচ্ছেন একদল তথাকথিত ‘গুন্ডা’। এর সঙ্গে কলেজ স্কুলের শিক্ষকরা জড়িয়ে আছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গাজালা গত বছর নভেম্বরে বেস্ট সংস্কৃত স্কলার পুরস্কার পান। এ বছর ১০ ফেব্রুয়ারি ডিন অফ আর্টস প্রফেসার শশী শুক্লা তাঁকে স্বর্ণপদক দেন। গাজালা দেখিয়ে দিয়েছেন, পড়ার পথে ধর্ম বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তাঁরা মজদুরের সন্তান। তাঁর ২টো ছোট ভাই ও এক বড় বোন আছে। তাঁরা আগেই পড়া ছেড়েছেন অভাবের কারণে। আজান নিয়ে বিভিন্ন সময় আপত্তি শোনা যায় নানা মহলে। তখন গাজালার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সংস্কৃত স্লোক, গায়ত্রী মন্ত্র, সরস্বতী বন্দনা। নিজের ধর্মাচারণও তিনি করেন নিষ্ঠার সঙ্গে। প্রতিদিন সকালে ওঠেন ৫টায়। তারপর নমাজ পড়েন। এরপর তাঁকে ঘরের কাজ করতে হয়। গাজালা আজ লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে এমএ পাশ করলেন। এখন পদক জয়ের পর তাঁর অধ্যাপনা করার আকাঙ্খা। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার ভাইদের। তাঁরা স্কুল ছেড়ে গ্যারেজে কাজ করছে, যাতে আমি পড়তে পারি। দিদি ইয়াসমিনও দোকানে কাজ করছেন’। গাজালা বলেন, এ পুরস্কার তাঁদের সবার। পরিবার পাশে না থাকলে তাঁর এখানে আসা হত না। গাজালা বৈদিক সাহিত্যে পিএইচডি করতে চান। তাঁর সংস্কৃতে আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছেন স্কুলের শিক্ষক। তিনি নিজেই সেকথা জানালেন।নিশাতগঞ্জে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে তিনি পড়তেন। মিনা ম্যাম ক্লাস ফাইভে সংস্কৃত পড়াতেন। তখনই তাঁর সংস্কৃতে আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর স্কুলের পড়া শেষ করে তিনি আর্যকান্য ইন্টার কলেজে ভর্তি হন। সেখানে আরও এমন অনেক শিক্ষক পান, যাঁদের প্রেরণায় তিনি এখানে এসেছেন। এই প্রসঙ্গে বলা দরকার, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক মুসলিম কন্যা যখন সংস্কৃতে সাফল্য পেলেন, তখন হিজাব পরা নিয়ে দেশের এক প্রান্ত উত্তপ্ত। একবার দেখা যাক, কী চলছে সেখানে।

হিজাব বিতর্ক নিয়ে তুমুল উত্তেজনা চলছে কর্নাটকে। যার রেশ এসে পড়েছে দেশের বেশ কয়েকটি অন্য রাজ্যেও। মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, যতদিন আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন, ততদিন তারা এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। পদক্ষেপও নেবে না। আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে।অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়ে কলেজ খুলে দিতে বলেছিল কর্নাটক হাই কোর্ট। এ বার এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন এক পড়ুয়া। হলফনামায় ওই পড়ুয়ার দাবি ছিল, হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী রায় ব্যক্তি-পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষত, মুসলিম মহিলা পড়ুয়াদের পছন্দের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।বস্তুত, মামলাটি প্রথমে কর্নাটকের একজন বিচারপতির এজলাসে উঠেছিল। বিচারপতি জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার বেঞ্চে হওয়া উচিত। ফলে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত তিনজনের বেঞ্চে মামলাটি নতুন করে উঠেছে। তারই প্রথম দিনের শুনানিতে নতুন নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।ঘটনার সূত্রপাত উদুপির একটি কলেজে।

ছাত্রীদের হিজাবের পাল্টা হিসাবে বেশ কয়েকটি জায়গায় ছাত্ররা গেরুয়া স্কার্ফ বা শাল গায়ে ক্লাসে আসে। বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হিজাব বনাম গেরুয়া শাল বা স্কার্ফ নিয়ে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। ভাইরাল হয় মুসকান নামে এক ছাত্রীর হিজাব পরে কলেজে ঢোকার ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, পিছনে বেশ কিছু ছাত্র গেরুয়া শাল নিয়ে কার্যত তাঁকে তাড়া করতে করতে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিচ্ছে। পাল্টা ওই ছাত্রীও স্লোগান দেন। গোটা বিষয়টি নিয়ে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে কর্নাটক। প্রশাসন তিনদিনের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।এদিকে উদুপির কলেজের যে ছয়জন মেয়ের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, তাঁদের ফোন নম্বর ফাঁস হয়ে গেছে। নেটমাধ্যমে তাঁদের ফোন নম্বর ছড়িয়ে পড়েছে। ছাত্রীদের অভিভাবকরা এনিয়ে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। তবে দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এনিয়ে দ্রুত শুনানি হবে না। সময়মতো মামলা উঠলে তার বিচার হবে। রাজ্যে পড়াশুনো প্রায় শিকেয় উঠেছে। নানা মহলে এই নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সারা দেশ যখন হিজাবের বিতর্কে ফুঁসছে, তখন গাজালারা সমাজের দৃষ্টান্ত। শিক্ষা এবং ধর্মকে এক সারিতে রেখে, কোনও মতেই যে লড়াই করা উচিত নয়, তা দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.