শুরু সংঘর্ষ, ইউক্রেনের (Ukraine) কিয়েভ (Kyiv) সহ একাধিক শহরে আক্রমণ রাশিয়ার (Russia)

Home বিদেশ-বিভূঁই শুরু সংঘর্ষ, ইউক্রেনের (Ukraine) কিয়েভ (Kyiv) সহ একাধিক শহরে আক্রমণ রাশিয়ার (Russia)
শুরু সংঘর্ষ, ইউক্রেনের (Ukraine) কিয়েভ (Kyiv) সহ একাধিক শহরে আক্রমণ রাশিয়ার (Russia)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: আশঙ্কা ছিলই। আজ তা সত্য প্রমাণিত হলো। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ একটি টেলিভিশন বার্তায় ইউক্রেন (Ukraine) আক্রমণ করার কথা ঘোষণা করলেন রাশিয়ার (Russia) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)।

জানা গিয়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ছাড়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পুতিন স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছিলেন যদি কোনও রক্তক্ষয় হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে ইউক্রেনকেই। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UNO) জরুরি অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলেন এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র সংবরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ইউক্রেনে বহু আগে থেকেই রাশিয়ার হামলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তখন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (Antonio Guterres) পুতিনকে বাহিনী প্রত্যাহারের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি অধিবেশনে মহাসচিব বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন, আপনাকে অনুরোধ, দয়া করে আপনার বাহিনীকে আটকান। সেনা ফিরিয়ে নিন। দয়া করে শান্তি বজায় রাখুন।’ কিন্তু তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

 

 

পুতিনের এই ঘোষণার পরই ইউক্রেনে আক্রমণ শাণায় রাশিয়া। ইউক্রেনের রাজধানীকিয়েভ (Kyiv) ,ওডেসাসহ (Odesa) একাধিক জায়গায় শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ। কিয়েভের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বরিস্পিলে (Borispil) গুলি চালানোর আওয়াজ পাওয়া গিয়েছে। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও আক্রমণের খবর আসছে, এমনটাই জানিয়েছে বহু সংবাদসংস্থা। ইউক্রেনকে তিনদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে রাশিয়া। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের বায়ুঘাঁটি ও এয়ার ডিফেন্স। জানা গিয়েছে, বেলারুশ (Belarus) সীমান্তের দিক থেকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালাচ্ছে রাশিয়া।

স্থানীয় সময় মধ্যরাত্রে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি (Volodymyr Zelenskyy) দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতায় রাশিয়ার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিকদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্বর তোলার আবেদন করেন। প্রসঙ্গত, ২৪ ঘণ্টা আগে রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা ও ইউরোপ। কিন্তু তাতেও সেনা অভিযান থেকে নিরস্ত থাকেননি পুতিন।

রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি জানিয়েছেন বিনা প্ররোচনায় এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এই হামলা চালানোর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে রাশিয়াকে। এর পরিণতি রাশিয়ার জন্য ভয়ঙ্কর হবে, এমনটাই বলেছেন জো বাইডেন।

 

 

অনেকের মতে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের মূল কারণ হলো ইউক্রেনের ন্যাটোতে (NATO) যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইউক্রেন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (North Atlantic Treaty Organization) সদস্য হোক। এই বিষয়টিতেই সমর্থন নেই পুতিনের। ন্যাটোর সদস্য হলে রাশিয়াকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে পারে তারা, এমন আশঙ্কাই করছেন তিনি। ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হওয়ার ফলে আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ রাশিয়ার উপর সহজে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, এটিই পুতিনের উদ্বেগ বা ভয়ের কারণ।

রাশিয়ার আক্রমণ শুরু হওয়ার পরই আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেন। ফলে এয়ার ইণ্ডিয়ার (Air India) কোনও বিমানই এদিন নামতে পারেনি ইউক্রেনের মাটিতে। সবকটি বিমানই ফিরে এসেছে নয়াদিল্লিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে ভারতের ওপরও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, ইউক্রেন সঙ্কট গত শুক্রবারের বন্ধের তুলনায় মার্কিন স্টককে আরও ৬% নিচুতে ঠেলে দিতে পারে। ইউরোপ এবং জাপানে এর আরও খারাপ প্রভাব পড়বে, এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মার্কিন বাজারের তীব্র পতনের আগুন ভারতীয় বাজারেও পৌঁছচ্ছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে, বিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির বাজার মূলধন ৯.১ লক্ষ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বাজার স্থিতিশীল পতনের সাক্ষী রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এছাড়াও ইউক্রেন সংকটের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাত বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম ২.০৩ শতাংশ বেড়েছে, যার পরে দাম ৯৭ ডলারের বেশি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়বে এবং ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকলে তার পুরো প্রভাব পড়বে অভ্যন্তরীণ বাজারে। এর জেরে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড়সড় বৃদ্ধি ঘটতে পারে। এলপিজির দামও বাড়বে। সব মিলিয়ে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের ঘটনার ফল ভুগতে হবে ভারতীয়দেরও।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রতিনিধি টিএস তরুমূর্তি (TS Tarumurti)। জাতিপুঞ্জে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দু’দিন আগে নিরাপত্তা পরিষদ বৈঠক করেছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিল। আমরা উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম এবং পরিস্থিতি সম্পর্কিত সমস্ত সমস্যা মোকাবেলায় জোরালো ও মনোযোগী কূটনীতির উপর জোর দিয়েছিলাম। যাই হোক, আমরা দুঃখের সঙ্গে এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। বিভিন্ন পক্ষগুলির দ্বারা গৃহীত সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলিতে সময় দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে কর্ণপাত করা হয়নি। তার ফলে পরিস্থিতি একটি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ প্রসঙ্গত, গত সোমবার ইউক্রেনের ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তখন থেকেই যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়ে গিয়েছিল। এরপর থেকেই ইউক্রেনে আটকে থাকা ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের ও বিভিন্ন জায়গায় কাজ করা ভারতীয় কর্মীদের দেশে ফেরাতে উদ্যোগী হয় কেন্দ্র । কিন্তু ইতিমধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে সেখানে আটকে থাকা ২০ হাজার ভারতীয়র (Indian Students in Ukraine) নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘে সেই উদ্বেগের কথাই জানিয়েছেন তিরুমূর্তি। যুদ্ধ পরিস্থিতি পরবর্তীকালে কোন দিকে মোড় নেয়, সেইদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.