শিবরাত্রির (Shivratri) পরের দিনটা বরাবর ঘুমিয়েই কাটাতে চাই: পূজারিণী (Pujarini Ghosh)

Home জলসাঘর শিবরাত্রির (Shivratri) পরের দিনটা বরাবর ঘুমিয়েই কাটাতে চাই: পূজারিণী (Pujarini Ghosh)
শিবরাত্রির (Shivratri) পরের দিনটা বরাবর ঘুমিয়েই কাটাতে চাই: পূজারিণী (Pujarini Ghosh)
  • বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: শিবরাত্রি (Maha Shivratri) উদযাপনে মেতে উঠেছিল গোটা দেশ। আর তা থেকে বাদ গেলেন না বাঙালি অভিনেত্রী পূজারিণী ঘোষও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির প্রতিষ্ঠিত শিবমন্দিরেই ভক্তি ভরে পুজো দিতে দেখা গেল তাঁকে। অভিনেত্রী জানান, ফুল দিয়ে একেবারে নিজেই সাজিয়ে তুলেছেন গোটা মন্দিরটি। সারাদিন উপোস করে থেকে নিয়ম মেনেই জল ঢেলছেন শিবলিঙ্গে। আর তারপরই দেখা গেল অভিনেত্রীকে (Pujarini Ghosh) ঘিরে কচি-কাঁচাদের ছবি তোলার আবদার। সেই আবদারও মেটালেন পূজারিণী। একাধিক সেলফি তুলে মুখে হাসি ফোটালেন কচিকাঁচাদের।

সব সেরে হাতে সময় নিয়ে তিনি বসলেন বঙ্গভূমি লাইভ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে। বঙ্গভূমির তরফে প্রথমেই পূজারিণীকে জিজ্ঞেস করা হয়, কী চাইলেন শিব ঠাকুরের কাছে? (Maha Shivratri) প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী অকপট বলেন ‘শিবের কাছে আমি ভাল বর চাইলাম। তবে শিবের মতো বর পাব কীনা সেটা যদিও আমার জানা নেই।’ বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথাও টেনে আনেন তিনি (Pujarini Ghosh)। সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘শেষ দু’বছর ধরে যে রকম পরিস্থিতি ছিল তা বলাই বাহুল্য। আর সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে যে আমরা আবার একটু একটু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরেছি, তার থেকে বড় পাওনা আর কীই বা হতে পারে? পুজো (Shivratri) দিতে দিতে তাই বাবাকে এর জন্যও আমি ধন্যবাদ জানালাম’।

সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে পূজারিণী ঘোষ অভিনীত ছবি ‘হোমকামিং’ (Home Coming)। যদিও ছবি তৈরির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। সেই সময়ই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু অতিমারি এসে বাধ সাধে তাতে। সেই কারণেই আটকে পড়ে ছবি মুক্তির বিষয়টিও। তবে এতদিন ধরে ছবি আটকে থাকার পর তা মুক্তি পাওয়ায় বেশ খুশি অভিনেত্রী। সঙ্গে উচ্ছ্বসিতও বটে। সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘টানা দশ রাত ধরে পরিশ্রম করে শুটিং করেছিলাম আমরা। সেই সময়গুলো কীভাবে কাটিয়েছি, তা শুধু আমরাই জানি। মনে হচ্ছে, এখন সেই পরিশ্রমের দাম পাচ্ছি। সবাই ছবির প্রশংসা করছেন, আমাদের ছবির (Pujarini Ghosh) রিভিউ দিচ্ছেন। এত কষ্ট করে কাজ করার পর কাজের প্রশংসা পেলে কার না ভাল লাগে বলুন!’

কথায় কথায় পূজারিণী (Pujarini Ghosh) জানালেন, ছোটবেলা থেকেই কঠোর শাসনে বড় হয়েছেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। সেই সময় বড় পর্দায় অভিনয় শুরু করার কথা ভাবারও তেমন কোনও অবকাশ ছিল না। তবে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পর্দায় না হলেও মঞ্চে অভিনয়ে তাঁর হাতেখড়ি হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। এই বিষয়ে পূজারিণী বলেন, ‘আমি যখন প্রথম বার বাবাকে আমার অভিনয় করার কথা বলি, সেই সময় আমাকে বলা হয়েছিল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। যদিও আমায় বিভিন্ন চরিত্রে মন দিয়ে কাজ করতে দেখে পরে বাবা সব মেনে নিয়েছেন। এখন সবাই খুশি। তবে এখনও আমি বাবাকে ভীষণ ভয় পাই। এমনকী বাবা বাড়িতে থাকলে ফোন সাইলেন্ট করে রেখে দিই।’

পূজারিণীর যখন চার বছর বয়স, তখন থেকেই থিয়েটারে অভিনয় করা শুরু তাঁর। বর্তমানে তিনি একজন সফল অভিনেত্রী। সম্প্রতি দু’টি বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। তবে এখানেই থেমে নেই পূজারিণী। পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও সমান তালে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর আশা, সামনের বছরটাও কাজের ক্ষেত্রে বেশ ভালই কাটবে তাঁর। থিয়েটারে অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও পসার জমানো শুরু করেছেন অভিনেত্রী (Pujarini Ghosh)। এর আগে ফ্ল্যাট নম্বর ৬০৯, পোস্টমাস্টার, কলকাতা কলিং, আলিনগরের গোলকধাঁধা সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও কিছু ছবিতে সহপরিচালকের কাজও করেছেন তিনি। তার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’।

তবে সামনের বছর আসা কিংবা সেই সময়ে তাঁর কাজের চাপ ও সেসব সামলানো… এসব তো অনেক পরের বিষয়! এই মুহুর্তে বর্তমান নিয়েই বাঁচতে আগ্রহী পূজারিণী। বঙ্গভূমি লাইভের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি আরও জানালেন শিবরাত্রির (Maha Shivratri) গোটা দিনই নির্জলা উপোস রয়েছেন তিনি। খাবার এবং জল কিচ্ছু ছুঁয়ে পর্যন্ত তিনি দেখেননি। এমনকী পুজোর নিয়মকানুন থেকে শুরু করে অতিথিদের পাতপেড়ে খাওয়ানো, সবটাই সাবলীলভাবে সামলেছেন তিনি(Pujarini Ghosh)। সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোনও। পূজারিণীর বোন সোহিনীও যোগ্য সঙ্গত দেন তাঁকে। তাঁরা দু’বোনই জানান, এই পুজো তাঁদের বাড়িতে বহু বছর ধরেই চলে আসছে। তাঁদের বাবাও এই পুজো (Shivratri) প্রায় ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন। ফলে বাড়ির পুজো যে বেশ পুরনোই, তা বলাই বাহুল্য।

অভিনেত্রীর হাবেভাবে স্পষ্ট যে, তিনি যাই করেন একেবারে নিয়মে থেকে। তাই পুজো (Shivratri) শেষ করে আগামীদিনের জন্য তাঁর একটাই পরিকল্পনা। না! কোনও কাজ নয়। পরের দিনটুকু শুধু ঘুমিয়েই কাটাতে চান ক্লান্ত অভিনেত্রী (Pujarini Ghosh)

Leave a Reply

Your email address will not be published.