লন্ডন (London) বিজয়! বিলেতে মেট্রো স্টেশনের নাম বাংলায়

Home বিদেশ-বিভূঁই লন্ডন (London) বিজয়! বিলেতে মেট্রো স্টেশনের নাম বাংলায়
লন্ডন (London) বিজয়! বিলেতে মেট্রো স্টেশনের নাম বাংলায়

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: বিদেশে বাংলার দৃপ্ত পদক্ষেপ আগেই শোনা গেছে। এবার লন্ডনেও (London) জয়জয়কার বাংলার। সুদূর বিদেশে শুধুমাত্র বাঙালিকে সম্মান জানাতেই এমন পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনে (Whitechapel Station) বসল বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড।  ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও লেখা হয়েছে যুক্তরাজ্যের হোয়াইটচ্যাপেল আন্ডার গ্রাউন্ড স্টেশনের নাম। লিখেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর আগে বাংলাতে (bangla) স্টেশনের নাম লেখার আশ্বাস দিয়েছিল রেল কর্তৃপক্ষ। আবার তারই বাস্তবায়ন হল। এই ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানান প্রান্তে। দিন কয়েক আগেই সংস্কারের পর চালু করা হয়েছে স্টেশনটি। এখান থেকেই সংযুক্ত হবে ক্রস রেল। বাংলাদেশি অধ্যুষিত সেই মেট্রো স্টেশনে (metro station) প্রতিদিন হাজার হাজার ভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ চলাচল করে থাকেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরা রেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে খুশি।

পূর্ব লন্ডনের (London) হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন (Whitechapel Station) অঞ্চল বলতে গেলে ছোটখাটো পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের থাকা ৭০ শতাংশ বাঙালিই থাকেন এই অঞ্চলে। আচমকা গিয়ে পড়লে কলকাতা (Kolkata) বা ঢাকা বলে ভ্রম হয়। শুধু স্টেশনের নামেই নয়, এই অঞ্চলের অনেক দোকানের নামেও রয়েছে বাংলা।

সূত্রের খবর, লন্ডনে বসবাসকারী বাঙালিদের বহুদিনের দাবি মেনেই এই পরিবর্তন। প্রতিদিন ওই স্টেশন দিয়ে শুধু বাঙালি নন, যাতায়াত করেন প্রায় বিভিন্ন ভাষাভাষী, বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ। সেখানে আলাদা করে বাংলা ভাষায় সাইনবোর্ড, বাঙালি হিসেবে বিশেষ সম্মানের বলেই মনে করছেন সেখানকার বাংলা কমিউনিটি।

গৌরবগাঁথার সঙ্গেই জন্ম হলো আরেক ইতিহাসের। হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনের নাম বাংলায় লেখার জন্য নানা মহল থেকে বিভিন্ন সময় দাবি উঠে আসছিল। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের বাংলা কমিউনিটি স্টেশনের নাম বাংলায় লেখার আবেদন জানান হয়। সেই আবেদনকে স্বীকৃত দিয়েই হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনের নাম বাংলায় লেখা হয়। এই হোয়াইট চ্যাপেলেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ মিনার। পাশেই বাংলাদেশিদের আদি ঠিকানা ব্রিকলেনসহ ইস্ট লন্ডন মসজিদ, ব্রিকলেন মসজিদ, আশেপাশের বেশিরভাগ দোকানের নামও বাংলা হরফে লেখা।

রানির দেশে স্বীকৃতি পেল বাংলা ভাষা। খোদ লন্ডনের (London) বুকে এবার জ্বলজ্বল করবে বাংলা হরফে লেখা নাম৷ লন্ডনের লাইফ লাইন বলা হয় যাকে, সেই টিউব রেলের স্টেশন হোয়াইটচ্যাপেল (Whitechapel Station)-এ এবার দেখা যাবে বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড। ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি এবার বাংলা ভাষাতেও শোভা পাবে স্টেশনের নাম৷

লন্ডনকে (London) ডাকা হয় বাঙালির দ্বিতীয় দেশ নামে। আর পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন  অঞ্চল বলতে গেলে পুরোপুরিই বাঙালি অধ্যুষিত। এবার স্টেশনের নামও বাংলায় লেখার দাবী উঠেছিল। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনের সংস্কারকাজ চলছে। সেই কাজ চলার সুযোগেই স্টেশনের নামটি বাংলায় লেখার দাবি উঠেছিল। অবশেষে পূরণ হল সেই দাবি।

সূত্রের খবর, লন্ডনে (London) বসবাসকারী বাঙালিদের দাবি মেনেই এবার লন্ডনের ব্যস্ততম এই স্টেশনটির নাম বাংলায় লেখার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রান্সফোর্ড ফর লন্ডন অথরিটি (টিএফএল)। এরপরই বাংলা ভাষায় স্টেশনের নামে সাইনবোর্ড বসে। বৃহস্পতিবার থেকে ব্যস্ততম হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনের ইংরেজি নামে পাশাপাশি বাংলা হরফে লেখা নাম নজর কাড়ছে। স্টেশনের একাধিক প্রবেশদ্বারে বাংলায় লেখা থাকছে ‍‍`হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন‍‍`। পাশাপাশি স্টেশনের প্রবেশপথে ‍‍`হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশনে আপনাকে স্বাগত‍‍` লেখাও বিশেষ শোভা বাড়াচ্ছে। 

বলাই বাহুল্য, প্রবাসীদের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গৌরবের। এ প্রসঙ্গে বলা যায়-

মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা- প্রতি বাঙালি হিসেবে আমাদের কাছে লাইনটি অত্যন্ত পরিচিত এবং খুবই সম্মানের। বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য যে ঠিক কতটা তা প্রত্যেক ভারতবাসীর কাছেই, বাঙালির কাছে জানা। শুধুমাত্র ভারত নয় বিদেশের মাটিতেও বাংলা ভাষার কদর অনেক। তাই তো এবার সুদূর লন্ডনে ইংরেজির পর দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাংলা।

সেখানে ইংরেজির পর সব থেকে বেশি যে ভাষায় কথা বলে তা হল বাংলা। সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লন্ডনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র ও নাগরিকদের আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল, আর সেই সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে সে দেশে ইংরেজির পর বাংলা ভাষাতেই বেশি লোকে কথা বলে।

সিটি লিগ নামক ওই সংস্থার যে সমীক্ষা তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে সেখানেই তারা দেখিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারত মিলিয়ে এত সংখ্যক মানুষ বাংলাতেই কথা বলেন, একই সঙ্গে ব্রিটিশদের মধ্যে মাত্র তিন শতাংশ মানুষ বাংলাতে স্বচ্ছন্দে এবং সাবলীল ভাবে কথা বলতে পারেন।

আসলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশেষ করে বাঙালিরা টেমসের দেশে পাড়ি দেয়, এই সেই সময় ব্রিটেনকে পুনর্গঠন করার জন্য মানুষের প্রয়োজন ছিল তাই বাঙালিদের স্বাগত জানানো হয়েছিল। সেখানে এমনকি সে দেশে ভিসা লাগত না। আসতে আসতে সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গেলেও বাংলা ভাষাকে কিন্তু এখনও অবধি বাঙালি ভোলেনি।তাই তো সেদেশের বাঙালিরা লন্ডনের বুকে প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলা টাউন। লন্ডনে কিন্তু বাংলা ভাষার কদরের কোনও অভাব নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.