লতা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি চাইতেন, প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর, শোকজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতি, মুখ্যমন্ত্রীরও

Home অ‘‌সাধারণ’ লতা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি চাইতেন, প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর, শোকজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতি, মুখ্যমন্ত্রীরও
লতা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি চাইতেন, প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর, শোকজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতি, মুখ্যমন্ত্রীরও

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: সরস্বতী ঠাকুরের নিরঞ্জনের দিনই চলে গেলেন ভারতীয় সিনেমার সুরের জগতের সরস্বতী লতা মঙ্গেশকর। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। ‘লতাদিদি’-কে নিয়ে আবেগপ্রবণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন লতাদিদি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় যে শূণ্যতা তৈরি হল তা পূরণ করা অসম্ভব। আগামী প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে তাঁর সুরেলা কন্ঠ। তাঁর গানে বারংবার উঠে এসেছে নানা ধরনের ইমোশন। তবে শুধু সিনেমাই নয়, রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি নিয়েও তিনি সমান চিন্তিত ছিলেন। সবসময়ই একটি শক্তিশালী ও উন্নত ভারতকে দেখতে চেয়েছিলেন।

প্রয়াত লতা মঙ্গেশকর। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শিল্পী। সম্প্রতি অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। দিতে হয় ভেন্টিলেশনে। সেখান থেকে আর ফেরানো যায়নি লতাকে। রবিবার সকাল ৮.১২ মিনিটে মাল্টি-অর্গান ফেলিওর হয়ে মারা গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী। বিখ্যাত গায়িকার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশের সমস্ত নাগরিক। শোকজ্ঞাপন করেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক রাজনৈতিক বিশিষ্ট।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যু ভারতের সংস্কৃতি জগতে তৈরি করল এক শূন্যতা। আর এই শূন্যতা কোনওদিন পূরণ হবে না বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুরসম্রাজ্ঞীর প্রয়াণের খবরে ব্যথিত প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করে জানান তিনি নির্বাক। মোদি লিখেছেন, ‘আমি আমার ব্যথার কথা বলে প্রকাশ করতে পারব না। দয়ালু এবং যত্নশীল লতা দিদি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তিনি আমাদের দেশে একটি শূন্যতা রেখে গেলেন যা পূরণ করা যাবে না। ভবিষ্যত প্রজন্ম তাঁকে ভারতীয় সংস্কৃতির একজন অকুতোভয় হিসেবে মনে রাখবে। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করার এক অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল।’

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে শোকবার্তা লিখেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি লিখেছেন, ‘একজন ভারতরত্ন, লতাজির কৃতিত্ব অতুলনীয় থাকবে।’ শোকপ্রকাশ করে টুইটারে বার্তা দিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি লিখেছেন, ‘ভারতীয় সিনেমার কোকিলকণ্ঠী লতাজির প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। ভারতের কণ্ঠস্বর হারাল আজ লতাজির প্রয়াণে…’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোকবার্তা দিয়েছেন। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর প্রয়াণে আমরা রিক্ত হলাম। সুরসম্রাজ্ঞী ও অনন্য প্রতিভাময়ী সর্বজনশ্রদ্ধেয় লতা মঙ্গেশকর দীর্ঘ আট দশক ধরে কণ্ঠের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। হিন্দি, মারাঠি, বাংলা সহ ছত্রিশটিরও বেশি ভারতীয় ও বিদেশি ভাষায় তাঁর গাওয়া অগণিত ক্লাসিকাল,গজল, ভজন, আধুনিক ও সিনেমার গান আজও সমান জনপ্রিয়। বাংলার সঙ্গীতজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগ ছিল। আমাদের নক্ষত্রদের সাধনা ও তাঁর প্রতিভা পরস্পরকে সমৃদ্ধ ও অভিষিক্ত করেছিল। ভারতরত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, লিজিয়ন অফ অনার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড সহ অজস্র পুরস্কার ও সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতজগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি লতা মঙ্গেশকরের আত্মীয়-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোক প্রকাশ করছি। তাঁর অন্যান্য ফ্যানেদের মতোই আমি তাঁর কন্ঠে মুগ্ধ। বাংলার শিল্পীদের তিনি বিশেষ পছন্দ করতেন। তাঁর পরিবারের প্রতিও সমবেদনা রইল আমার।’

কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন সংগীতশিল্পী, এরপর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন কখনও ভেন্টিলেশনের বাইরে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ জারি রেখেছিলেন ভারতরত্ন লতা। রবিবার সকালে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। এদিন সকাল ৮.১২ মিনিটে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব চেয়ে প্রতিযোগিতাময় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে রয়ে গেলেন প্রতিদ্বন্দ্বীহীন এক সঙ্গীতসম্রাজ্ঞী হয়ে!১৩-১৪ বছর বয়সেই প্রথম বার সিনেমায় গান গাওয়া। তবে হিন্দি নয়, মরাঠি ছবিতে। মুম্বই যাওয়ার পর ১৯৪৮ সালে প্রথম হিন্দি ছবি ‘মজবুর’-এ গান। পরবর্তীতে আয়েগা আনেওয়ালা, প্যার কিয়া তো ডরনা কেয়া, আল্লা তেরো নাম, কঁহি দীপ জ্বলে – ছয় ও সাতের দশকে এসব গান জনপ্রিয়তার যে শিখর ছুঁয়েছিল, তা আজও অম্লান। লতার মৃত্য়ুতে তো একটি নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিজগতের একাধিক যুগের অবসান ঘটল। ভারতীয় লঘুসঙ্গীতের জগতে বোধ হয় ভেঙে পড়ল গোটা গানের ঘরটিই। ভারতের ৩৬ টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষাতে গান গাওয়ার রেকর্ড একমাত্র তাঁরই। এত দীর্ঘ সময়ে নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন লতা মঙ্গেশকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.