রুশদের (Russia) যুদ্ধবিরোধী প্রচার মন জয় করেছে ইউক্রেনের (Ukraine)

Home বিদেশ-বিভূঁই রুশদের (Russia) যুদ্ধবিরোধী প্রচার মন জয় করেছে ইউক্রেনের (Ukraine)
রুশদের (Russia) যুদ্ধবিরোধী প্রচার মন জয় করেছে ইউক্রেনের (Ukraine)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ইউক্রেনে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু আম নাগরিক যুদ্ধ চান না। তাঁরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে পথে নেমে এসেছেন। এর মধ্যেই যুদ্ধ বিরোধী প্রচারে মানুষ সম্মিলিত হয়েছেন সেন্ট পিটারসবার্গ, মস্কো এবং অন্য শহরে। প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে ৫১ শহর থেকে আটক করা হয়েছে, এই বিক্ষোভ দমানোর জন্য। পুতিন যেভাবে যুদ্ধে মেতে উঠেছেন, তাতে হীরকের রাজার কথা মনে আসা স্বভাবিক। এর আগে তাঁর এই ভাবমূর্তি তো চোখে পড়েনি। জল, স্থল এবং আকাশ পথে তিনি ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাচ্ছেন। সারা বিশ্ব সমালোচনায় সরব। তিনি কারও কথায় কান দিচ্ছেন না। পুলিসের নিষেধ তোয়াক্কা করছেন না রাশিয়ার জনগণ। তাঁরা ইউক্রেনে রক্তপাত চান না, বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খেলা এবং খেলোয়াড়দের উপরও প্রভাব ফেলছে। রাশিয়ার কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের আয়োজক হওয়ার সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে উয়েফা। এবার রাশিয়ার বেশকিছু খেলোয়াড় এই যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাশিয়ার টেনিস তারকা আন্দ্রে রুবলেভ। শুক্রবার দুবাইয়ে টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জয়ের পর রাশিয়ান টেনিস তারকা যুদ্ধ থামানোর জন্য এক অনন্য উপায়ে আবেদন জানালেন। তার টানা অষ্টম ম্যাচ জেতার পর, রুবলেভ কোর্টে ক্যামেরার লেন্সে তার বিশেষ বার্তা লেখেন। খেলা শেষে ম্যাচ জিতে তিনি ক্যামেরার লেন্সে লেখেন, ‘নো ওয়ার প্লিজ’ অর্থাৎ ‘দয়া করে যুদ্ধ করবেন না।’ রাশিয়ার দুই নম্বর টেনিস তারকা ইউক্রেনে উপর রাশিয়ার সামরিক অভিযান বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে আলোচনার টেবিলে আসছে দুই দেশ। আলোচনায় থামবে যুদ্ধ? রাশিয়ার (Russia) সঙ্গে ইউক্রেন (Ukraine) বৈঠকে রাজি হওয়ায়, দেখা দিয়েছে আশার আলো। তবে এরই মধ্যে ইউক্রেনে গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। কানাডার (Canada) পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দেশগুলিও রুশ বিমানের জন্য আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মাত্র চার দিনেই বদলে গেছে ছবির মতো ইউক্রেনের চেহারা। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে খারকিভ-সহ পূর্বের একাধিক শহর। রাস্তায় ট্যাঙ্কের গর্জন। আকাশে ফাইটার জেট ও হেলিকপ্টারের চক্কর!! যখন তখন উড়ে আসছে গোলা! রুশ বিমানের ছোড়া গোলা এসে পড়েছে রাজধানী কিভেও। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহুতল। ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ।

এতদিন মূলত ইউক্রেনের সেনা ছাউনি ও পূর্ব সীমান্তবর্তী শহরগুলিকেই নিশানা করে আসছিল রাশিয়া, কিন্তু রবিবার দানিলিভকায় (Danylivka) একটি গ্যাস পাইপলাইনে পুতিনের সেনাবাহিনী বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ।  অন্যদিকে আবার NATO-র লাগাতার চাপের মুখে, দেশের সমস্ত পরমাণু প্রতিরোধ বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেছে রাশিয়া। তবে ভয়ঙ্কর এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশার কথা হল, প্রথমে আপত্তি জানিয়েও প্রতিবেশী দেশ বেলারুসে রাশিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মতি জানিয়েছে জেলেনস্কির সরকার।

তবে যুদ্ধ যতক্ষণ না থামছে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে না ভারতও। কারণ এখনও সেদেশে আটকে রয়েছেন এদেশের হাজার হাজার ডাক্তারি পড়ুয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে দেশবাসীকে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচিকে, ‘অপারেশন গঙ্গা’ নাম দিয়েছে ভারত সরকার। সেই অনুযায়ী রবিবার দিল্লিতে ফেরে এয়ার ইন্ডিয়ার আরও একটি বিশেষ বিমান।

রাশিয়া ও ইউক্রেন নিয়ে এখনও ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে মোদি সরকার। তবে আগামীদিনে দুই দেশকে নিয়ে কূটনৈতিক রূপরেখা কী হবে, তার জন্য রবিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলা।

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইউক্রেন। রুশ কামান আর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মাথা গোঁজার ঠাঁই! ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কিভ, খারকিভ, ওডেসার মতো শহর। এই পরিস্থিতিতেই পাল্টা আঘাত হানার দাবি করল ইউক্রেন। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি, শনিবার তারা ধ্বংস করেছে কয়েকটি রাশিয়ান ট্যাঙ্ক, মিলিটারি ট্রাক ও গাড়ি।

ইউক্রেন স্বাস্থ্য মন্ত্রক রবিবার জানিয়েছে, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে ৩৫২ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ জন শিশু। এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার আক্রমণের ফলে এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না ইউক্রেন। এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৬৮৪ জন আহত হয়েছেন এবং ১১৬ জন শিশু আহত হয়েছে।

ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিয়ে পঞ্চম বিমান ফিরল দেশে। মুম্বই বিমানবন্দরে নামে বিমানটি।  এই দফায় আড়াইশো জন ভারতীয়কে আনা হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ বলে প্রতিবেশি দেশ পোল্যান্ড, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া হয়ে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শেষপর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। বেলারুশের সীমান্তে হবে ওই বৈঠক। এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.