প্রকাশিত হল রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা, জেনে নিন কোন কোন কৃতী পাচ্ছেন এই শিরোপা

Home দেশের মাটি প্রকাশিত হল রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা, জেনে নিন কোন কোন কৃতী পাচ্ছেন এই শিরোপা
প্রকাশিত হল রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা, জেনে নিন কোন কোন কৃতী পাচ্ছেন এই শিরোপা

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার। প্রতি বছর ১৮ বছর বয়স হয়নি, এমন নাবালক-নাবালিকাদের দেওয়া হয় এই পুরস্কার। এই বছর সদ্য ঘোষিত হয়েছে রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার প্রাপকদের নাম। রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন এ বছরের পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করেছেন। সর্বমোট ২৯ জন কৃতী এ বছর পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৫ জন তরুণ ও ১৪ জন শিশু ও তরুণী। দেশের ২১টি অঙ্গরাজ্য থেকে এই পুরস্কার প্রাপকদের নির্বাচন করা হয়েছে। এই পুরস্কারের বিভাগগুলির মধ্যে উদ্ভাবনী আবিষ্কার, সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান, শিক্ষা, খেলাধূলা, শিল্প ও সংস্কৃতি, সাহসিকতা সহ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কারের দুটি অংশ রয়েছে। একটি হল ‘বাল শক্তি পুরস্কার’, যা অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। অন্যটি হল ‘বাল কল্যাণ পুরস্কার’, যা দেওয়া হয় মূলত শিশু অধিকার ও সুরক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য। কেন্দ্রীয় সরকারের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এই পুরস্কার দিয়ে থাকে। পুরস্কার বাবদ প্রাপকদের দেওয়া হয় নগদ ১ লক্ষ টাকা, একটি পদক এবং সেইসঙ্গে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি মানপত্র। পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি তাঁরা রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করার সুযোগও পান।

এবছরের পুরস্কার প্রাপকদের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন-

উদ্ভাবনী আবিষ্কার:

১) শিভম রাওয়াত: ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ পুরস্কার পেয়েছেন দেশীয় প্রজাতির সর্ষে গাছ নিয়ে গবেষণার জন্য। জৈবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সর্ষে গাছের ফলন আরও উন্নত করাই ছিল তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য। আপাতত তিনি কাজ করছেন বিভিন্ন প্রজাতির শস্যের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে। এর আগেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অনেক পুরস্কার পেয়েছেন শিভম।

২) বিশালিনী এন সি: বিশালিনী হলেন ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পেটেন্ট বা স্বত্বাধিকারীদের মধ্যে একজন। মাত্র ৬ বছর বয়সেই এই বিস্ময় বালিকা এই স্বত্ব অর্জন করেছেন। তামিলনাড়ুর এই শিশু কন্যা বানিয়ে ফেলেছেন একটি স্বয়ংক্রিয় ভাসমান বাড়ি যা বন্যা দুর্গত মানুষদের উদ্ধারকাজে সাহায্য করবে। এই বাড়িটিতে খাবার, জল, অক্সিজেন, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ আরও বেশ কিছু সুবিধা থাকবে যা শিশু, গর্ভবতী মহিলা, শারীরিকভাবে অক্ষম ও প্রবীণ মানুষদের বন্যার সময় জীবন বাঁচাতে কাজে আসবে।

৩) জুই অভিজিৎ কেশকার: ১৬ বছর বয়সী এই তরুণী তৈরি করেছেন একটি যন্ত্র যা পারকিনসনস রোগে আক্রান্ত রোগীদের কাজে আসবে। এই তরুণীর কাকা নিজে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর সাহায্যের জন্যই এই যন্ত্রের আবিষ্কার বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা যুক্ত রোগীদের কিছু উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায় যাকে বলা হয় ‘ট্রিমার’। জে ট্রিমার থ্রিডি নামক এই যন্ত্র এই রোগের উপসর্গকেই পরিমাপ করতে সক্ষম হবে এবং এই সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে চিকিৎসকদের কাছে।

৪) পুহবী চক্রবর্তী: ত্রিপুরার এই কন্যা একজন অ্যাপ ডেভেলপার, কিক বক্সার এবং সেই সঙ্গে স্বত্বেরও অধিকারী। তিনি তৈরি করেছেন একটি AI নির্ভর অ্যাপ্লিকেশন যার নাম দিয়েছেন ‘অ্যাথলিট এক্স- ফর দ্য আত্মনির্ভর অ্যাথলিট’। এই অ্যাপটি ক্রীড়াবিদদের শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও দৃঢ় হতে এবং পাশাপাশি যদি কোনও মানসিক আঘাত থেকে থাকে সেটিকে চিহ্নিত করতেও সাহায্য করবে। এই আবিষ্কার ২০২১ সালে ইনটেল AI এর প্রথম ২০ টি আবিষ্কারের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।

৫) অশ্বথা বিজু– অশ্বথার আগ্রহ ও ভাবনাচিন্তা ঘুরপাক খায় জীবাশ্মকে নিয়ে। তার মধ্যে সবচেয়ে যে বিষয়টি আকৃষ্ট করে তা হল অনমনীয় জীবাশ্মের ছবি। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণী বর্তমানে জীবাশ্মবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে মেরুদণ্ডী, অমেরুদণ্ডী সহ বিভিন্ন অনুজীবের জীবাশ্ম। জীবাশ্ম ও তার সংরক্ষণ সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করাই তাঁর লক্ষ্য।

৬) বনিতা ডাস- ওড়িশার বাসিন্দা এই তরুণী গবেষণা করেন জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে, যাঁর আগ্রহের মূল বিষয় হল গ্রহাণু। এই বিষয়ে গবেষণার জন্যই পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে এসেছে। এছাড়াও তিনি একটি স্কুল ব্যাগ তৈরি করেছেন যেটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্যানিটাইজেশনে সক্ষম। নাসা ও আইএএসসি থেকে ‘সিটিজেন সাইনটিস্ট’ এর খেতাবও পেয়েছেন তিনি।

৬) তানিশ শেঠি- হরিয়ানার সিরা অঞ্চলের বাসিন্দা এই অ্যাপ ডেভেলপার তৈরি করেছেন একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট ‘Pashu Mall’। এই সাইটে ক্রেতা ও বিক্রেতারা সরাসরি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। অ্যাপটি বর্তমানে পঞ্জাব ও হরিয়ানায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান:

মীধান্স কুমার গুপ্তা- ১১ বছর বয়সী এই কিশোর পঞ্জাবের বাসিন্দা এবং ইনিও একজন অ্যাপ ডেভেলপার। বর্তমানে সারা দেশে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনা ভাইরাস নিয়ে তাঁর উদ্ভাবনের জন্য পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। তিনি একটি ওয়েব পোর্টাল বানিয়েছেন যেখানে কোভিড ১৯ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।

এছাড়াও ক্রীড়াক্ষেত্রে আরুশি কোটওয়াল, শ্রিয়া লোহিয়া, জিয়া রাই, তারুশি গউর ও সাহসিকতার জন্য গুরুগু হিমাপ্রিয়া, শিবাঙ্গি কেল, ধীরজ কুমার পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন গৌরী মহেশ্বরী, দেবী প্রসাদ, সৈয়দ ফাতিন আহমেদ, ধৃতিস্মান চক্রবর্তী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.