রাজ্য জুড়ে সবুজ ঝড়! পুরভোটেও বিরোধীদের ধরাশায়ী তৃণমূলের (Trinamool Congress)

Home কলকাতা রাজ্য জুড়ে সবুজ ঝড়! পুরভোটেও বিরোধীদের ধরাশায়ী তৃণমূলের (Trinamool Congress)
রাজ্য জুড়ে সবুজ ঝড়! পুরভোটেও বিরোধীদের ধরাশায়ী তৃণমূলের (Trinamool Congress)

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রাজ্যের ১০৮ পুরসভা নির্বাচনেও একচ্ছত্র আধিপত্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress)। সবুজ ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল বিজেপি-বাম-কংগ্রেস (congress)। ১০৮ পুরসভার ভোটগণনায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দখলে এসেছে প্রায় ৫০ এর কাছাকাছি। এর আগে শেষ চারটি পুর নিগমের নির্বাচনে চারটিই দখলে রাখতে পেরেছে শাসকদল। বুধবার ১০৮টিতে একই প্রবণতা। বহু জায়গায় নির্দল প্রার্থীদের জিতিয়ে এনেছেন মানুষ।

এবারের পুরভোটে তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইট ছিল অধিকারী গঢ় কাঁথি। তেমনই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি পুরসভা ছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও সম্মানের লড়াই। গণনার প্রথম থেকেই প্রবণতা বলছিল, কাঁথিতেও ফুটতে চলেছে ঘাসফুল। আর সেই কাঁথি পুরসভাও পুনর্দখল নিশ্চিত করল তৃণমূল (TMC)। অধিকারীদের নিজের ওয়ার্ডেও মুখ পুড়ল বিজেপির (BJP)। শিশির-শুভেন্দুদের বাসভবন শান্তিকুঞ্জ যে ওয়ার্ডে অবস্থিত, সেই ১৫ নম্বর ওয়ার্ডেও বিজেপি প্রার্থীকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পুরসভায় নিরঙ্কুশ জয় শাসকদলের। এখানে বিরোধীশূন্য বোর্ড গড়ছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। বারুইপুর পুরসভায় মোট ১৭টি ওয়ার্ড। ১৭টি ওয়ার্ডেই জয়ী তৃণমূল। বিরোধীরা এখানে  শূন্য।

এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুরসভার দখল নিল তৃণমূল। ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল একাই জিতেছে ৩০টি ওয়ার্ডে। ১২, ১৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে জিতেছেন সিপিএম (CPIM) প্রার্থীরা। ১৮ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী নির্দল প্রার্থী।

রিষড়া পুরসভায় ১৮টি ওয়ার্ড জিতে বোর্ড গড়ছে তৃণমূল।

 

রিষড়া পুরসভায় রয়েছে মোট ২৩টি ওয়ার্ড। তার মধ্যে তৃণমূল একাই জিতেছে ১৮টি ওয়ার্ডে। বিজেপি (bharatiya Janata party) জিতেছে ২টি (১০ ও ১১) ওয়ার্ডে এবং কংগ্রেস জিতেছে ২ নম্বর ওয়ার্ডে।

অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভায় ২০টি ওয়ার্ডে জিতে বোর্ড গড়ছে তৃণমূল (Trinamool Congress)

এই পুরসভার মোট ২৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টি ওয়ার্ডে জয়ী তৃণমূল। ১টি ওয়ার্ডে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী ও ২টি ওয়ার্ড দখল করেছে সিপিএম।

গোবরডাঙ্গা পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি তৃণমূল দখল করে বোর্ড গড়ছে। সেখানে ১টি করে ওয়ার্ড পেয়েছে নির্দল ও সিপিএম।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের লালবাগ পুরসভার মোট ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ড জিতল তৃণমূল (TMC)। ৬টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। একটি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থী। অধীর গঢ়ে খাতা খুলতে ব্যর্থ কংগ্রেস। তৃণমূলের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারেনি সিপিএমও (CPIM)

মুর্শিদাবাদেরই কান্দি পুরসভাও তৃণমূলের দখলে এসেছে। এখানে শূন্য হাতে ফিরেছে বাম, কংগ্রেস, (congress) বিজেপি। কান্দি পুরসভার মোট ১৮ টি ওয়ার্ড। তৃণমূল (Trinamool Congress) জিতেছে ১৬টি ওয়ার্ডে। আর নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ২টি (৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড)।

এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হলেন বিজেপি (BJP) প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

তবে বিজেপির (bharatiya Janata party) গঢ় বলে পরিচিত খড়গপুরেও পুরবোর্ড দখল করতে চলেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)

মেদিনীপুর পুরসভায় তৃণমূল (TMC) জিতেছে ২০টি ওয়ার্ডে, সিপিএম ৩টি ওয়ার্ডে, কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থী জিতেছেন একটি করে ওয়ার্ডে। ফলে এখানেও পুরবোর্ড হচ্ছে তৃণমূলের। অন্যদিকে বাঁকুড়ার

সোনামুখী পুরসভায় মোট ১৫টি আসন। তার মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৯ টি ওয়ার্ড নম্বর (১,২,৩,৬,৭,১০,১২,১৩,১৪ নম্বর ওয়ার্ড), সিপিএম জিতেছে দু’টি (৫ ও ৮ নম্বর) ওয়ার্ডে। নির্দল প্রার্থীরা ৪টি (৪,১১,১৫,৯ নম্বর ওয়ার্ড) ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছেন। ফলে সোনামুখী পুরসভা দখল তৃণমূলের (Trinamool Congress)।

উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং পুরসভা দখল করল নবগঠিত হামরো পার্টি।১৮টি ওয়ার্ড জিতে বোর্ড গড়ছে হামরো পার্টি। অনীত থাপার বিজিপিএম জিতেছে ৮টি ওয়ার্ড। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা জিতেছে ৪টি ওয়ার্ড এবং তৃণমূল প্রার্থীরা জিতেছেন ২টি ওয়ার্ডে।

তবে দার্জিলিং হাতছাড়া হলেও,কোচবিহার পুরসভায় বোর্ড গড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)

কোচবিহার পুরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে তৃণমূল (TMC)। ৩টি ওয়ার্ড পেয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা। সিপিএম জিতেছে ২টি ওয়ার্ড। ইতিমধ্যেই কোচবিহারে শুরু হয়েছে বিজয় উৎসব।

ডালখোলা পুরসভাও তৃণমূলের (TMC) দখলে এসেছে।

ডালখোলা পুরসভায় মোট আসন সংখ্যা ১৬। এর মধ্যে তৃণমূল একাই জিতেছে ১২টি ওয়ার্ডে। নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ৪টি ওয়ার্ডে।

গণনা পর্ব চলছে মোট ১০৭টি জায়গায়। গণনাকেন্দ্রগুলিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এইসব গণনাকেন্দ্রে। প্রত্যেকটি গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও করোনা নিরাপত্তার বিষয়ে কোনওরকম খামতি থাকছে না গণনা কেন্দ্রের ভিতরে।

গণনাকেন্দ্রের বাইরে প্রথম স্তরে রয়েছে লাঠিধারী পুলিস থেকে শুরু করে কমব্যাট ফোর্স। দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করতে গেলে সঙ্গে শুধুমাত্র সাদা কাগজ ও পেন ছাড়া কিছুই রাখা যাচ্ছে না। সংবাদ মাধ্যমের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা থাকছে এই দ্বিতীয় বলয়ে। তৃতীয় বলয়ের একপাশে স্ট্রং রুম। এখানে রয়েছে সব ইভিএম। অন্যদিকে তৈরি হয়েছে মূল গণনা কেন্দ্র। এই বলয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সশস্ত্র পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.