রাজ্যের যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৭৫ % সংরক্ষণ, পঞ্জাবে ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি

Home দেশের মাটি রাজ্যের যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৭৫ % সংরক্ষণ, পঞ্জাবে ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি
রাজ্যের যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৭৫ % সংরক্ষণ, পঞ্জাবে ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পঞ্জাবে ক্ষমতায় আসতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। শনিবার ইস্তেহার প্রকাশ করল এই জোট। সরকারি চাকরিতে রাজ্যের যুবকদের জন্য ৭৫ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি।বিজেপি বেকার ভাতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচনী ইস্তেহারে। মহিলাদের জন্য ৩৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ। পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়ন পেশের সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব গ্র্যাজুয়েটদের ৪০০০ টাকা করে বেকার ভাতা দেওয়া হবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে।

পঞ্জাবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল বিজেপি-পঞ্জাব লোক কংগ্রেস ও শিরোমণি অকালি দল (সংযুক্ত)। শনিবার জলন্ধরে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, পঞ্জাব অতি স্পর্শকাতর একটি সীমান্তবর্তী রাজ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পঞ্জাবের মতো রাজ্যের ভালোর জন্য ক্ষমতায় এমন ধরনের মানুষজনকে চাই যাঁরা নিজেরাও স্থিতিশীল।নির্বাচনী ইস্তেহারে ঋণ মকুব, ফল, শাকসবজি, ডাল এবং তৈলবীজের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি)-সহ অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্জাবে বিজেপি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং-এর নেতৃত্বাধীন পঞ্জাব লোক কংগ্রেস এবং শিরোমনি আকালি দল (সংযুক্ত) জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্জাবের ১১৭ টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ, ১০ মার্চ ভোট গণনা হবে।পঞ্জাবের বিধানসভা ভোট পিছিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে ২০ফেব্রুয়ারি সে রাজ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।১৬ ফেব্রুয়ারি গুরু রবিদাস জয়ন্তী থাকায় একাধিক রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। এই দাবি নিয়ে গত রবিবার একটি বৈঠকও বসে কমিশন। সেই বৈঠকের পরই কমিশন এই দিন পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে।এর আগে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিংহ চান্নি কমিশনকে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আবেন জানান। বিজেপি, বিএসপি-র প্রতিনিধিরাও কমিশনের কাছে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। এই দাবি মেনে কমিশন পঞ্জাবের নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি করে দিয়েছে। সেখানে এক দফাতেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।গুরু রবিদাস জয়ন্তী উপলক্ষে প্রায় ২০ লক্ষ ভক্ত উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে ১০ থেকে ১৬ জানুয়ারি যাবেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হলে তারা ভোট দিতে পারতেন না। সে দিক বিবেচনা করে কমিশন নির্বাচন পিছিয়ে দিল।

এই মাসেই পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন সীমান্তবর্তী রাজ্যের নাগরিকরা। তার আগেই শাসক বিরোধী তরজায় উত্তপ্ত চণ্ডীগঢ়ের রাজনীতি। রাজনৈতিক শক্তির বিচারে পঞ্জাবে বেশ কিছুটা পিছনে রয়েছে বিজেপি। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিকে হারাতে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের পঞ্জাব লোক কংগ্রসের হাত ধরেছে কেন্দ্রের শাসক দল। রাজ্যে বিজেপির শক্তি কম হলেও প্রার্থী তালিকা প্রকাশে বিলম্ব করল না গেরুয়া শিবির। শুক্রবার প্রথম দফায় ১১৭ আসনের পঞ্জাব বিধানসভার ৩৪ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি।বিজেপির তরফে দলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, ৩৪ আসনের প্রকাশিত প্রার্থীদের মধ্যে ১২ জনই কৃষক পরিবারের সদস্য। জানা গিয়েছে, তালিকায় ৮ জন দলিত সম্প্রদায়ের এবং ১৩ জন শিখ সম্প্রদায়ের। এবার বিধানসভা নির্বাচনে অমরিন্দর সিংয়ের পঞ্জাব লোক কংগ্রেস ও শিরোমণি অকালি দলের সঙ্গে বিজেপির জোট হয়েছে। সাঙ্গুর থেকে অরবিন্দ খান্না, জলন্ধর সেন্ট্রাল থেকে মনোরঞ্জন কালিয়া এবং ফিরোজপুর সিটি থেকে রানা গুরমিত সিং সোধিকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং পাঞ্জাব বিজেপির ইনচার্জ দুষ্যন্ত গৌতমও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশের যে সীমিত সংখ্যক রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে পঞ্জাব তার মধ্যে অন্যতম। তাই নির্বাচনে এই রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখা কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পঞ্জাব কংগ্রেসের অবস্থাও খুব একটা ভাল নয়। ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংয়ের নাটকীয় ইস্তফার পর মুখ্যমন্ত্রী পদে চরণজিৎ সিং চন্নির উত্থান ভালভাবে মেনে নেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধু। অমরিন্দর সিংয়ের পদত্যাগের পর চন্নিকে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানোর সিদ্ধান্ত ‘না পসন্দ’ ছিল সিধুর। জানা গিয়েছিল, অমরিন্দর সিংয়ের পদত্যাগের পর ঘনিষ্ঠমহলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন সিধু। এবারে নির্বাচনে কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে কিনা সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।কৃষক আন্দোলন নিয়ে সারা দেশে জেরবার হয়েছে বিজেপি। অবশেষে পিছু হটতে হয়। তাই উত্তরপ্রদেশ থেকে পঞ্জাব সর্বত্র কৃষকদের পাশে পাওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি।উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য মঙ্গলবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপি এই ইস্তেহারের নাম দিয়েছে- লোক কল্যাণ সংকল্প পত্র ২০২২। পদ্ম শিবিরের প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ইস্তেহার প্রকাশ করেন। ইস্তেহারে রয়েছে কর্মসংস্থানের ঢালাও প্রতিশ্রুতি, সমস্ত কৃষক সেচের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্জাবে কৃষকদের মন পেতে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে আছে চাকরির আশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.