যুদ্ধের আবহে ইউক্রেনীয়দের (ukraine) সৌজন্য প্রদর্শন, রুশ সেনাকে সূর্যমুখী (sunflower)বীজ দান

Home বিদেশ-বিভূঁই যুদ্ধের আবহে ইউক্রেনীয়দের (ukraine) সৌজন্য প্রদর্শন, রুশ সেনাকে সূর্যমুখী (sunflower)বীজ দান
যুদ্ধের আবহে ইউক্রেনীয়দের (ukraine) সৌজন্য প্রদর্শন, রুশ সেনাকে সূর্যমুখী (sunflower)বীজ দান

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: ‘’প্রিয় ফুল খেলাবার দিন নয় অদ্য, ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা’’।

ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও সৌজন্য ছাড়েনি ইউক্রেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা। বোমা, গুলির আওয়াজে ঘুম ভাঙছে ইউক্রেনের। এর মধ্যেও তাঁরা নিজেদের সৌজন্যে থেকে সরে আসেননি। ইউক্রেন ঠিক করেছে, তারা সাহজ দেখাবে। রুশ সেনার সামনে মাথা নিচু করবে না। আগ্রাসন রুখতে রুশ সেনার মোকাবিলা করবে তারা।

বৃহস্পতিবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সারা বিশ্বের সমালোচনা তাঁকে থামাতে পারেনি। ইউক্রেন যাথাসাধ্য প্রতিহত করছে। তবে এর মধ্যে এক ইউক্রেনীয় মহিলা রুশ সেনা সূর্যমুখী বীজ দেন। এই সূর্যমুখীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাঁদের ঐতিহ্য।

রুশ সেনাকে সূর্যমুখূী

———-

এক ইউক্রেনীয় মহিলা রুশ সেনাকে দিলেন মুঠো ভর্তি সূর্যমুখীর বীজ। রাখতে বললেন পকেটে। কেন? কারণ, যুদ্ধে যখন তিনি মারা যাবেন তখন পকেটে রাখা সুর্যমুখী বীজ (sunflower seeds) থেকে চারা বেরবো। ফুল ফুটবে।

ভাবতে বড়ই কাব্যিক। আসলের কঠিন রসিকতা। কিন্তু কেন সূর্যমুখী ফুল? তার আগে প্রেক্ষিতটা জেনে নিন।

টুইটারে একটি ভিডিয়ো শেয়ার হয়েছে। যে ভিডিয়ো নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। ভিডিয়োতে দেখে যাচ্ছে ওই মহিলা সশস্ত্র এক রুশ সেনা সেনাকে জিজ্ঞাসা করছেন, কেন তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো? উত্তরে সেনা জবাব দিচ্ছেন, আমরা পাহারা দিচ্ছি। আপনি চলে যান এখান থেকে। উত্তেজিত মহিলা বলছেন, কী জন্য আছো এখানে? সেনা তাঁকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

মহিলা আরও উত্তেজিত হয়ে বলছেন, তোমরা দখলদার, তোমরা ফ্যাসিস্ট! এই সব বন্দুক নিয়ে তুমি আমাদের দেশে কী করছ? তাঁর কোর্টের পকেট থেকে সূর্যমুখীর বীজ বের করে তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলছেন, এগুলো পকেটে রাখো। তুমি যখন এখানে মরে পড়ে থাকবে, তখন বীজগুলি থেকে গাছ হবে। সূর্যমুখী ফুল ফুটবে। এর মধ্যে কাব্যময়তা থাক বা না থাক, মোদ্দা কথা হল সূর্যমুখীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইউক্রেনের ঐতিহ্য।

ইউক্রেন ও সূর্যমুখী

————-

ইউক্রেন সূর্যমুখী ফুলের দেশ। সেখানে দিগন্তজোড়া মাঠ সেজে থাকে হলুদ ফুলে। অথচ ইউক্রেনের মানুষ বুঝে গিয়েছেন, ফুল খেলবার দিন শেষ। ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। সূর্যমুখী খেতে এখন চলছে রুশ সৈন্যদের শরীরচর্চা। তেমনই এক সেনাকে সূর্যমুখী ফুলের বীজ পকেটে ভরে নিতে বললেন ইউক্রেনবাসী মহিলা।

সূর্যমুখী তেলের দুই শীর্ষ উৎপাদক এবং রপ্তানিকারক (import) – রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের ফলে ভারতে রান্নার তেলের (oil) দাম বাড়তে পারে৷ দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাজারে সরবরাহের সংকট তৈরি করবে, যার ফলে দাম আরও বেশি হবে। ভারত অন্যদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারণ দেশের সূর্যমুখী তেল আমদানির ৯০ শতাংশই রাশিয়া এবং ইউক্রেন থেকে হয়। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, ভারত বছরে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন টন সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করে।উৎপাদন করে মাত্র ৫০ হাজার টন সূর্যমুখী তেল এবং বাকিটা আমদানি করে।সমস্ত ভোজ্যতেল আমদানির ১৪ শতাংশ সূর্যমুখী তেল। পাম (৮-৮.৫ মেট্রিক টন), সয়াবিন (৪.৫ মেট্রিক টন) এবং সরিষা/রেপসিড (৩ মেট্রিক টন) এর পরে এটি চতুর্থ সর্বাধিক ব্যবহৃত ভোজ্য তেল। সূর্যমুখী তেলের দাম ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতি লিটার ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ১৬১ হয়ে গিয়েছে ফেব্রুয়ারি ২০২২ এ। ভারতের সূর্যমুখী তেলের আমদানি ২০১৯.২০ (এপ্রিল-মার্চ) ২.৫ মিলিয়ন টন এবং ২০২০-২১ সালে ২.২ মিলিয়ন টন, যার মূল্য যথাক্রমে ১.৮৯ বিলিয়ন এবং ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার। ইউক্রেন থেকে ভারত ২০১৯-২০ সালে ১.৯৩ মিলিয়ন টন (১.৪৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের) এবং ২০২০-২১ সালে ১.৭৪ মিলিয়ন টন (১.৬ বিলিয়ন ডলার) সূর্যমুখী তেল আমদানি করে, রাশিয়ার থেকে এটি প্রায় ০.৩৮ মিলিয়ন টন এবং ০.২৮ মিলিয়ন টন সূর্যমুখী তেল আমদানি করে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অন্য ইতিহাস (war history) লিখেছেন ইউক্রেনের এক সৈনিক (army) । রুশ বাহিনীর শহর দখল আটকাতে নিজের শরীরে বোমা বেঁধে শহর সংযোগকারী ব্রিজ উড়িয়ে দেন তিনি। ভাইটালি সাকুন ভলোডমায়রোভিচ নামের ওই শহিদ সৈনিকের দেশপ্রেমকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। কেবল ইউক্রেনের সৈনিকরাই নন। সেখানকার সাধারণ মানুষও খালি হতে রুশ বাহিনীকে রুখতে নেমে পড়ছেন বহু শহরে। বাখম্যাক শহরে দেখা গেল তেমনই এক দৃশ্য। চলমান রুশ ট্যাঙ্কের উপর লাফিয়ে উঠে পড়লেন এক ব্যক্তি। তাঁকে তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল রুশ ট্যাঙ্ক।ঘটনাটি ঘটেছে চেরনিহিভ অঞ্চলের ছোট শহর বাখম্যাকে। ভিডিও দেখা গিয়েছে, রুশ বাহিনীর ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন বেশ কয়েকজন শহরবাসী। আমাদের দেশ দখল করতে হলে আমাদের শরীরের উপর দিয়ে যেতে হবে তোমাদের, এমন ভঙ্গিতেই রুশ বাহিনীর সামনে খালি হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চালাল সাধারণ মানুষ। যদিও এই প্রতিরোধকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দেয়নি রুশ সৈনিকরা। এক ব্যক্তি যখন লাফিয়ে একটি ট্যাঙ্কের উপর উঠে পড়েন, তখন ওই অবস্থাতেই এগিয়ে যেতে দেখা যায় ট্যাঙ্কটিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.