যুদ্ধরত ইউক্রেন (Rusia-Ukraine war) থেকে ৮০০ ভারতীয় পড়ুয়াকে ফিরিয়ে এনে নজির কলকাতার মেয়ের!

Home অ‘‌সাধারণ’ যুদ্ধরত ইউক্রেন (Rusia-Ukraine war) থেকে ৮০০ ভারতীয় পড়ুয়াকে ফিরিয়ে এনে নজির কলকাতার মেয়ের!
যুদ্ধরত ইউক্রেন (Rusia-Ukraine war) থেকে ৮০০ ভারতীয় পড়ুয়াকে ফিরিয়ে এনে নজির কলকাতার মেয়ের!

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক : ইউক্রেনে রাশিয়ার হানার (Russia-Ukraine war) পর অনেক ভারতীয়ই সেখানে আটকে পড়েছিলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে তাদের উদ্ধারে তৎপরতার সঙ্গে ‘অপারেশন গঙ্গা’ নামের উদ্ধার অভিযান নিয়েছে ভারত সরকার। কলকাতার ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী পোল্যান্ড (Poland) ও হাঙ্গেরি সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ ভারতীয় ছাত্রকে উদ্ধার করেছেন। তিনি মহাশ্বেতা চক্রবর্তী।

অবিরত ভাবে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine war)। এখনও পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে ১৮ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশ থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ‘অপারেশন গঙ্গা’ প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে রোমানিয়া, পোল্যান্ড (Poland), হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া এবং মলদোভার মতো দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনা হচ্ছে। অপারেশন গঙ্গায় সামিল হয়েছেন কলকাতার নিউটাউনের মেয়ে মহাশ্বেতা চক্রবর্তী। যিনি এখনও পর্যন্ত ৮০০ ভারতীয় ছাত্রকে ইউক্রেন থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন। সূত্রের খবর, এখনও অবধি ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের উদ্ধারে ৭৭ টি উদ্ধারকারী বিমান চালিয়েছে কেন্দ্র। এয়ার ইন্ডিয়া (Air India), ইন্ডিগো, স্পাইসজেটের (Spice Jet) মত বেসরকারি সংস্থাগুলিও সরকারকে এই কাজে সাহায্য করেছে।

জানা যাচ্ছে, ২৭ ফেব্রুয়ারি এই উদ্ধার অভিযানে সামিল হয়েছিলেন মহাশ্বেতা। ৭ মার্চ উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করে কলকাতার বাড়িতে ফিরে আসেন। মোট ৬বার বিমান নিয়ে তিনি যাতায়াত করেছেন। ৪বার তিনি বিমান নিয়ে গিয়েছেন পোল্যান্ডে এবং ২ বার ভারতীয় ছাত্রদের ফেরত এনেছেন হাঙ্গেরি থেকে। কলকাতায় ফিরে সেই ভয়াভহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন মহাশ্বেতা। তিনি বলেছেন, ‘গভীর রাতে আমার সংস্থা থেকে একটা ফোন আসে। বলা হয় আমাকে অপারেশন গঙ্গার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ইউক্রেনে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধার করতে হবে আমাকে। মাত্র ২ ঘণ্টার নোটিশে আমি আমার ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। সেই রাতেই আমি ইস্তানবুল চলে যাই। পোল্যান্ড থেকে আমাদের বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয় কীভাবে হবে এই উদ্ধার অভিযান কাজ।’ মহাশ্বেতা আরও জানান, ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার সফরে যেভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা বসেছিল এবং তাদের সেই উদ্বেগভরা মুখগুলো দেখে সত্যি সত্যি কান্না পেয়ে যেত। কতদিনের অভুক্ত দশায় তারা যে একটা নিরাপদ স্থানে পৌঁছেছেন সে ঘটনা বলে বোঝানো যাবে না। মহাশ্বেতারা বিমান না থামানো অবধি ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার এবং জল দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন। কিন্তু ভারতের মাটিতে বিমান অবতরণ না করা পর্যন্ত তাঁরা খাবার তো দূরে থাক, জলও খেতে চাইছিলেন না। সকলেরই একটাই দাবি, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের বাড়ি পৌঁছে দিন।

মহাশ্বেতা জানিয়েছেন এটা তাঁর পাইলট জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। অসুস্থ ও অল্প বয়সী পড়ুয়াদের তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ (Russia-Ukraine war) থেকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়ে যথেষ্ট গর্বিত তিনি। মহাশ্বেতা বিগত ৪ বছর ধরে এই বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থায় পাইলট হিসেবে কর্মরত। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ইউক্রেনে (Russia-Ukraine war) আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের লড়াই করে যাওয়ার ক্ষমতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। তবে, মহাশ্বেতার সাহসী কর্মকান্ড এই প্রথম নয়।কোভিড ১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ-এর সময় দেশজুড়ে যখন অক্সিজেনের চাহিদা তুঙ্গে তখন তিনি প্লেনে করে অক্সিজেন কনট্রাক্টর মেশিন পৌঁছে দিয়েছিলেন শহরে শহরে।

উল্লেখ্য, ‘অপারেশন গঙ্গা’ অভিযানের আওতায় ইউক্রেন থেকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত (Russia-Ukraine war) দেশটিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের। উল্লেখ্য, শুধু শুক্রবারই ১০ হাজার ৮০০ জন প্রবাসী ভারতীয় ইউক্রেন থেকে ভারতের মাটিতে পার রাখেন। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বায়ুসেনার বিমান (Indian Army) সি-১৭ ও ১৪ টি অসামরিক বিমানের সহযোগিতায় ভারতীয়দের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের আকাশপথ রয়েছে বন্ধ। ফলে ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের যেতে হচ্ছে সংলগ্ন বিভিন্ন দেশে। সেখান থেকে বিমানপথে তাঁরা দেশে ফিরছেন স্বদেশে। ইউক্রেন সংলগ্ন চার দেশে কেন্দ্রের চার মন্ত্রী পৌঁছেছেন। সেখান থেকে গোটা উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় কড়া নজর রাখছেন তাঁরা। এদিকে, দিল্লি বিমানবান্দরে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ইউক্রেন থেকে আগতদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে হাজির থাকছেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনের খারকিভ ও সুমি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফেরাতে তৈরি রয়েছে রাশিয়ার আই-এল ৭৬ -এর দুটি বিমান। তাঁদের মস্কোতে নিয়ে এসে ভারতে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।

কলকাতার মেয়ের সাহসী কর্মকান্ডে গর্বিত গোটা রাজ্য। মহাশ্বেতা নিজেও খুব খুশি এই মহৎ কাজের অংশ হতে পেরে। তিনি জানিয়েছেন, পাইলট হিসাবে মানবতার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরে তিনি গর্বিত। কিন্তু তিনি মনে করেন ইউক্রেন (Russia-Ukraine war) উদ্ধার অভিযানে যে ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি উদ্ধার করে এনেছেন তারাই হল এই সমগ্র চিত্রনাট্যের অবিসংবাদিত নায়ক। কারণ, যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে থেকে যেভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এবং অভুক্ত হয়ে মাইলের মাইল হয় ট্রেনে না হয় গাড়ি অথবা পায়ে হেঁটে পোল্যান্ড(Poland)-হাঙ্গেরিতে পৌঁছেছিলেন তার জন্য দরকার অপরিসীম সাহস ও উদ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.