যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন(Russia-Ukraine War) ফেরত ভারতীয়দের সঙ্গে বিমানে উঠে কথা বললেন স্বয়ং পুতিন ?

Home দেশের মাটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন(Russia-Ukraine War) ফেরত ভারতীয়দের সঙ্গে বিমানে উঠে কথা বললেন স্বয়ং পুতিন ?
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন(Russia-Ukraine War) ফেরত ভারতীয়দের সঙ্গে বিমানে উঠে কথা বললেন স্বয়ং পুতিন ?

বঙ্গভূমি লাইভ ডেস্ক: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) চলছেই । যুদ্ধের ফলে সমান্তরাল ক্ষতির মুখে পড়েছে ভারতও। খারকিভে আটকে বহু ভারতীয় পড়ুয়া। দিল্লি এখনও নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখলেও, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুজনের মধ্যে মূলত খারকিভ শহর নিয়ে কথা হয়। কারণ, সেখানে এখনও আটকে আছে বহু ভারতীয় পড়ুয়া। তাঁদের কীভাবে নিরাপদে বের করে আনা যায় তা নিয়ে কথা হয়েছে। এরপরই খবর ছড়িয়ে পড়ে ইউক্রেন ছেড়ে আসা ভারতীয় ছাত্রদের সঙ্গে নাকি নিজে সাক্ষাৎ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট(Russian President Putin )। সত্যিই কি তাই?

গত ২৪ ঘণ্টায়, ভারতীয় বায়ু সেনার তিনটি সি-১৭ বিমানে পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়ার এয়ারবেসকে ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্র(Russia-Ukraine War)থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৬২৯ জন ভারতীয়কে। এরমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। ষেখানে দেখা যাচ্ছে প্লেনের ভিতর বসে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে এক ব্যক্তি ইন্টারকমের সাহায্যে কথা বলছেন। ভিডিওর শুরু হয়েছে, ওই ব্যক্তির বিমানে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে। তখন বিমানের আসনে বসে ভারতীয়(India) পড়ুয়ারা। তবে ওই ব্যক্তির মুখ গোটা ভিডিওয় কোথাও স্পষ্ট হয়নি। সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে শেয়ার করিয়ে দাবি করা হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ভিতর উঠে এসে, যে ব্যক্তিকে ভারতীয় পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে, তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন(Russian President Putin)।  

ফেসবুকে এই ভিডিও শেয়ার করে, একজন ইউজার লিখেছেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ভিতর সটান উঠে আসেন, শুধুমাত্র ভারতীয়ের বোঝাতেই। ভারতকে কতটা মর্যাদা দিলে এমন সৌজন্য সম্ভব। একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত। # পিএম মোদিজি গ্রেট জি।’   

প্রায় একই সময়ে একজন ট্যুইটার ইউজার লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন(Ukraine) ছেড়ে আসা ভারতীয়দের আশ্বস্ত করতে বিমানে চলে এসেছেন। ভারতের জন্য কতটা সম্মান থাকলে, তিনি এটা করতে পারেন। একজন ভারতীয় হিসেবে গর্বিত।’ এই ধরনের বার্তা, ট্যুইটার আর থেকে ফেসবুক থেকে ছড়িয়ে ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

 কিন্তু এরপরেও কোথাও একটা মিসিং লিঙ্ক রয়েই যায়। তাই এহেন দাবির সত্যাসত্য যাচাই করতে বসে একটি জাতীয়স্তরের ইংরাজি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম। খটকার কারণ কয়েকদিন আগেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেই(Russia-Ukraine War) ভীষণভাবে ভাইরাল হওয়া আরও একটি ছবি। গ্রাফিক্স ছবিতে দেখা যায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর মুখ। সেই ছবির নিচে আবার হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ইউক্রেনে(Ukraine) যে ভারতীয়রা বাড়ি এবং গাড়ির ওপর তিরঙ্গা পতাকা লাগিয়ে রাখবেন, রুশ সেনা তাদের কোনো রকম বাধা তো দেবেই না বরং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সার্চ স্কোয়াড নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে, সেই সকল ভারতীয়কে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেবে। এই ঘোষণার নিচে ইংরেজিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগুর নাম এবং তাঁর পদেরও উল্লেখ রয়েছে। এর ঠিক নিচেই আবার হিন্দিতে লেখা ‘কুছ তো দম হ্যায় হমারে চায় ওয়ালে মেঁ।’  

রুশ আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে (Russia-Ukraine War) সেই দাবিটিও যে পুরোপুরি অসত্য(fake news) তা নিজেদের তদন্তমূলক প্রতিবেদনে প্রমাণ করেন এই সাংবাদিকরাই। ফলে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার পরই যে পুতিন একেবারে উদ্ধারকারী বিমানে চলে আসবেন, তা সহজ বুদ্ধিতে বোধগম্য হয়না। আরও একটা খটকা, কোথায়? অর্থাৎ তখন কোন দেশে দাঁড়িয়েছিল এই ভারতীয় বিমান।  

প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট হয়, এ ধরনের যে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা সর্বৈব মিথ্যা(fake news)। ভিডিও অত্যন্ত গভীরভাবে দেখলে বোঝাই যায় যাঁকে ভ্লাদিমির পুতিন(Russian President Putin) বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে তিনি আসলে রোমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতের(India)রাষ্ট্রদূত রাহুল শ্রীবাস্তব।

জাতীয় পোর্টালটির তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ভাইরাল ভিডিওর ৩৩ সেকেন্ডের মাথায় ওই ব্যক্তিকে(রাষ্ট্রদূত রাহুল শ্রীবাস্তব) বলতে শোনা যায়, ‘সুপ্রভাত বন্ধুরা! আমি রাহুল শ্রীবাস্তব। রোমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত।’

এরপরই সম্পূর্ণ ভিডিওটি অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে দেখার সময় সাংবাদিকদের নজরে আসে লেখা ‘ইটি নাও’ লেখা একটি লোগো। এখান থেকেই মেলে দারুন সূত্র। তারপর ‘ইটি নাও’-এর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে, এই ভিডিওর খোঁজ শুরু হয়। সন্ধান মেলে ট্যুইটারে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ‘ইটি নাও’-এর ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে হুবুহু একইরকম একটি ভিডিও আপলোড হয়। যার ক্যাপশনে লেখা, ‘আপনারা যখন এই জীবনে কোনও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তখন এই দিনটার কথা মনে করবেন এবং দেখবেন সব বাধা নিমেষে কেটে গেছে।’ একই ভিডিও শেয়ার করেছে সংবাদ সংস্থা এএনআই, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনটি শেয়ারিং-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে, পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলছেন রোমানিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রাহুল শ্রীবাস্তব।

সুকৌশলে পর পর দু’টি মিথ্যে বার্তা ছড়ানোর অর্থ, অতি স্পর্শকাতর মুহুর্তে (Russia-Ukraine War) ও চলছে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গুণকীর্তন। মোদির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার এ হেন প্রয়াস চালানো হয়েছে, প্রথমে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পরে রুশ প্রেসিডেন্টের নাম নিয়ে। আর পরোক্ষে চেষ্টা চালানো হয়েছে, রাশিয়া(Russia) যুদ্ধক্ষেত্রেও বন্ধুরাষ্ট্র ভারতকে যে প্রাপ্য মর্যাদা দিচ্ছে তা সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে আজ নরেন্দ্র মোদি থাকার দরুনই।

এ হেন গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার একটাই অর্থ, নরেন্দ্র মোদির ৫৬ ইঞ্চির ছাতির বহর আরও একটু বাড়িয়ে দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.